কক্সবাজার ভ্রমনের প্রথম দিন । যাত্রাপথের গল্প ।
আজকের দিনটি কেটে গেছে জার্নি করেই। আমার কিছু বন্ধু আর ছোট ভাইদের নিয়ে কক্সবাজার এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছি সারাটি দিন। আগামি ৫ দিনের এই ট্যুরের সব মুহূর্তগুলো প্রতিদিন আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করবো। আজ হচ্ছে আমাদের যাত্রার প্রথমদিন। আমাদের প্রথম দিনে কোথায় কিভাবে কিভাবে গিয়েছি সবকিছু আপনার সাথে আলোচনা করবো । এক কথায় আমার ব্লগটি যারা পড়বে তারাও আমার সাথে জার্নি করবে। তাহলে চলুন শুরু করি।
সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ঘুম থেকে উঠেই আমার সবকিছু গুছিয়ে নিই।
এরপর গোসল করে খাওয়া দাওয়া করি। দ্রুত খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি বেরিয়ে পড়লাম আমার ফ্রেন্ড এর বাসার উদ্দেশ্যে। আমার ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়ে ওর জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করলাম। কারন ওর রেডি হতে একটু দেরি হচ্ছিল। ১৫/২০ মিনিট পর আমরা বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাজারে আমাদের বাকি সদস্যরা ছিল। বাজারে যাওয়ার পর দেখলাম সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। এরপর একটি ইজিবাইক ভাড়া করলাম। ইজি বাইকে চড়ে বাস স্ট্যান্ডে গেলাম সবাই একসাথে। বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখলাম আমাদের বাসটি দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত বাসে উঠে পড়লাম সবাই। এরপর আমরা চলতে শুরু করলাম। প্রায় দুই ঘণ্টা জার্নি করার পর আমরা পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌছালাম। বাস ফেরিতে উঠার কিছুক্ষণ পরেই ফেরি চলতে শুরু করলো। নদী পার হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে।
প্রায় 45 মিনিট পর আমরা নদীর অপর প্রান্তে পৌঁছে গেলাম। এরপর আমাদের গাড়ি ফেরি থেকে নামল, আর পুনরায় যাত্রা শুরু করলো আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। আবারো প্রায় তিন ঘন্টা যাত্রা করে আমরা গাবতলী বাস স্ট্যান্ডে এসে পৌছালাম। বাস থেকে নেমে প্রথমেই আমরা ফ্রেশ হলাম আর দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। খাবার খাওয়া শেষ করে আমরা আবার একটি বাসে উঠলাম। গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে পৌছালাম। রেলওয়ে স্টেশনের পাশেই ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি অবস্থিত ।
Device : Redmi Note 9 Pro Max
What's 3 Word Location :https://w3w.co/unit.pushy.radiating
Device : Redmi Note 9 Pro Max
What's 3 Word Location :https://w3w.co/unit.pushy.radiating
আমরা সবাই এদিক সেদিক একটু ঘোরাঘুরি করে চলে গেলাম একটি রেস্ট হাউসে । ৩ ঘন্টা রেস্ট নেওয়ার জন্য আমরা একটি রুম বুক করলাম । এবার আমরা সবাই ফ্রেস হয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম। কিছু সময় রেস্ট নেওয়ার পর আমি গোসল করে নিলাম। গোসল করার পর অনেক শান্তি লাগছিল।
তিন ঘন্টার মতো রেস্ট করার পর আমরা সবাই রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। এরপর একটি রেস্টুরেন্টে গেলাম রাতের খাবার খাওয়ার জন্য। রাতের খাবার খেয়েছিলাম সাদা ভাত আর সাথে রোস্ট আর একটি স্প্রাইট। রাতের খাবার শেষ করে আমরা স্টেশনের দিকে অগ্রসর হলাম। আমাদের ট্রেনের সময় ছিল রাত নয়টা বেজে 20 মিনিট। আমরা সবাই স্টেশনে এসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। অপেক্ষার মুহূর্ত টা বেশ ভালই ছিল। একটা অন্যরকম আনন্দ কাজ করছিল ভেতরে। কারণ ট্রেন জার্নি সবসময়ই অনেক আরামে আর ইনজয়েবল হয়ে থাকে।
৯:২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর দেখলাম ট্রেন আসলো না। আজ ট্রেন একটু লেটে আসতে পারে যেটি মনে হচ্ছিল। অবশেষে রাত ৯:৫০ এ সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমাদের সেই কাঙ্খিত ট্রেন স্টেশন এর এক নম্বর প্লাটফর্মে এসে পৌঁছাল। আমরাও দ্রুত আমাদের আসন খুঁজে সেখানে গিয়ে বসে পরলাম।
Device : Redmi Note 9 Pro Max
What's 3 Word Location :https://w3w.co/picnic.instincts.be
আমি জানালার পাশের সিট নিয়েছিলাম। জানালার বাইরের সৌন্দর্য আমাকে আরো বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। কিন্তু একটি অপূর্ণতা থেকেই গেছে। আমি ভেবেছিলাম জানালা দিয়ে চাঁদ দেখতে দেখতে আমি আমার জার্নি আরও বেশি আনন্দময় করে তুলবো । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আকাশে অনেক মেঘ থাকার কারণে চাঁদ দেখার মত সুভাগ্য আর হয়ে ওঠেনি।
কি আর করা, এভাবেই যেতে হবে । তবে বেশ আনন্দেই লাগছে আমার । আমরা সবাই একসাথে অনেক মজা করতে করতে আমাদের জার্নির সময়টা পার করতেছি। যাইহোক ,এখন আর বেশি কিছু লিখতে পারছি না। সবার সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বন্ধুদের সাথে গল্প গুজব করতে করতে বাকি সময়টা পার করতে হবে । এজন্য আর বেশি কিছু লিখতে পারছিনা । আমি আজকের দিনের গল্পটি এখানেই শেষ করছি । আগামী দিনগুলো ও ইনশাআল্লাহ্ আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ।শুভ রজনী।
Support @amarbanglablog by delegating STEEM POWER.
| 100 SP | 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP |
ইশ আপনাদের কি মজা বন্ধুরা মিলে কত মজা করে কক্সবাজার যেতে পারছেন তাও আবার এই কোভিড সময়ে। আমি কোনদিন ট্রেনে জার্নি করি নাই ট্রেনে জার্নি মনে হয় অনেক মজা। একবার আমরাও ট্রেনে করে কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম কিন্ত পরে ট্রেন নস্ট হয়ে যাওয়ায় বাস এ করে যেতে হয়েছিল।ট্রেনে আর যাওয়া হয় নি। উপভোগ করুন আপনার সুন্দর সময়।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে এত সুন্দর একটা উইশ করার জন্য । তবে শুনে দুঃখ লাগলো যে আপনার যাত্রা পথে ট্রেনে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে আপনি আর ট্রেন জার্নি করতে পারেননি । হ্যাঁ ট্রেন জার্নি আসলেই অনেক মজার' । আজকে আমরা বন্ধুরা অনেক ইনজয় করতেছি।
আপনার পোস্ট পড়ে আমি দুইটা জায়গা নিয়ে কথা বলতে চাই আজকে ।প্রথম কথা হলো যখন আমি পড়তে ছিলাম শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তখন ভাবলাম হয়তোবা আপনারা বিমানে চড়ে কক্সবাজার পাবেন কিন্তু সেটা আর হলো না। এর পরের টা হল 9 টা 20 মিনিটে ট্রেন আসার কথা ছিল কিন্তু সেটা 9:50 এ এসেছে হয়তোবা আমি ঐখানে থাকলে ভাবতাম হায় হায় ট্রেন মিস করে ফেললাম নাকি। সবশেষে এটাই বলতে চাই আমার নিজেরই এখন কক্সবাজার যেতে ইচ্ছা করছে ভাইয়া
আপনিও একদিন সময় করে কক্সবাজার ঘুরে আসুন ।ভালো লাগবে।
আসলেই ভাই, মনে হচ্ছিলো আমি আপনার সাথে জার্নি করছি, কিন্তু সেটা কল্পনায়। আপনার আগামীর জার্নির ব্লগ গুলোর অপেক্ষায় থাকলাম, সুন্দর সুন্দর মুহুর্তগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করবেন নিশ্চয়ই। শুভকামনা আপনার জন্য,
দোয়া করবেন যেন সুস্থতার সাথে কক্সবাজার ভ্রমণ টা শেষ করতে পারি । আর অবশ্যই আপনাদের সাথে ভ্রমনের সবকিছু শেয়ার করার চেষ্টা করব।
এটা ছুটির জন্য একটি ট্রিপ মনে হয়, এটা চমৎকার আপনার শহরে একটি ট্রেন আছে, যা ট্রাফিক জ্যামের সাথে সময় দেরি করে না
সঠিক বলেছেন । ট্রেন জার্নি ট্রাফিক জাম মুক্ত।
নিরাপদে গন্তব্যে,
মনে হচ্ছিল আমিও সেই ভোর থেকে রাত মানে বাস টু ট্রেন এক সঙ্গেই জার্নি করলাম। অপেক্ষায় থাকলাম পরের পর্বের জন্য। আপনার ভ্রমন শুভ হোক। শুভেচ্ছা রইল।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
খুব ভালোভাবে কক্স বাজারে সময় গুলো উপভোগ করুন।আপনার ভ্রমণ শুভ হোক।স্মরনীয় হয়ে থাকুক আপনার ভ্রমণের দিন গুলো।
শুভ কামনা রইলো ভাই।
ধন্যবাদ তোমাকে।
আসলেই কোনো লম্বা ভ্রমন যদি একা একা করা যায় তখন খুবই বোরিং মনে হয় কিন্তু সাথে যদি কোন আপন জন বা কোন বন্ধু-বান্ধব থাকে তখন সেটি হয়ে ওঠে অনেক আনন্দময়। আশা করি আপনার ভ্রমণটিও অনেক আনন্দময় হয়ে উঠবে আর এই আনন্দময় সময়ে আমাদেরকে আবার ভুলে যাবেন না, শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা,তবে আবার কক্সবাজার কিযে আনন্দ।
মনে হচ্ছিল আমিও সেই ভোর থেকে রাত মানে বাস টু ট্রেন এক সঙ্গেই জার্নি করলাম। অপেক্ষায় থাকলাম আপনার পরের পর্বের জন্য। আপনার ভ্রমন শুভ হোক। আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
@rex-sumon💖 ভাইয়া
ট্রেন জার্নি করে কোথাও যাওয়ার মজাটাই আলাদা। আর সেখানে জায়গাটা যদি হয় কক্সবাজার তাহলে তো কথাই নেই। কক্সবাজার দুইবার গিয়ে সাগরের নীল ছুয়ে এসেছি। এই ভালোলাগার অনুভূতি গুলো ভয়ঙ্কর সুন্দর। এগুলো কখনো প্রকাশ করা যায় না ভাষাতে। আনন্দ-উৎসবে কাটুক আপনার যাত্রার প্রতিটি দিন। শুভকামনা রইল।
আপনার ট্যুরটা খুবই সুন্দর হবে কারণ বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মজাই অন্যরকম ।আপনার গল্প পড়তে পড়তে আমারও মনে হচ্ছিল আমিও আপনার সঙ্গে যাচ্ছি।এখন তো আমার ও যেতে মন চাইছে ভাইয়া।