বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার অনুভূতি।
শুভ সকাল 🌅
আজ ৩ ই ফেব্রুয়ার,
রোজ সোমবার ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ।
আসসালামু আলাইকুম,
আমি @nazmul01 ময়মনসিংহ , বাংলাদেশ থেকে।
হ্যালো "আমার বাংলা ব্লগ" পরিবার। কেমন আছেন সবাই? আশাকরি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে হাজির হলাম বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার অনুভূতি মূলক পোস্ট নিয়ে। আশাকরি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করি।
কিছু দিন আমি পোস্ট করতে পারিনি। সেজন্য নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে। আমি চার দিনের ছুটিতে গিয়েছলাম বিশ্ব ইজতেমায়। সেখানে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ। দুঃখের বিষয় আমার ফোনে অল্প চার্জ ছিল, সেটাও শেষ হয়ে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমি অফিস থেকে ছুটি চেয়েছিলাম বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার জন্য। স্যার আমাকে কোনো ডিসিশন দেয়নি। স্যারের কাছ থেকে ছুটি চাইলে সহজে ছুটি পাওয়া যায় না। আমি নিয়ত করেছিলাম এ বছর ইজতেমায় যাব। তাই আমি শারীরিক এবং মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম। শুধু ছুটির অপেক্ষায় দিন গুনতে হয়।
বিগত ২৯ তারিখে আমাদের অফিসে অডিট ভালো ভাবেই সম্পন্ন হয়। স্যার মন অনেক খুশি ছিল, সেই সুযোগ চার দিন ছুটির আবদার করেছিলাম। অবশেষে ছুটি পেয়ে গেলাম, যাইহোক সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমাদের এলাকার মসজিত থেকে ২৫ জন সাথী ভাইদেরকে নিয়ে ইজতেমার উদ্দেশ্যে রওনা করি। বুধবার রাত দশটায় বাস ছেড়ে দেয়। মনে থেকে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। আমি ইজতেমায় যাব তাও আবার তিন দিনের জন্য, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। ইজতেমায় গিয়ে খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছি, লক্ষ মানুষ সে বিশ্ব ইজতেমায় উপস্থিত হয়েছিল। এতো মানুষের সঙ্গে আমি আগে কখনো এতো দিন থাকিনি। আমরা সবাই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং ঈমান আমল বৃদ্ধি করার জন্য উপস্থিত হয়েছিলাম। অনেকই আবার ইজতেমা থেকে ১ চিল্লা, ৩ চিল্লা এবং বিদেশে সফরের জন্য বের হয়ে যাবেন।
ছবির অবস্থান :- বিশ্ব ইজতেমা ময়দান মসজিদ, বাংলাদেশ।
ঢাকা টঙ্গী তুরাগ নদীর পাশে বিশাল বড় মাঠে সবাই একত্রিত হয়েছিলাম। বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ বিশ্ব ইজতেমায় উপস্থিত হয় জামাত হয়ে। বেশিরভাগ মানুষ তিন দিন থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামনা পত্র নিয়ে আসেন। আমরাও নিয়ে গিয়েছিলাম সেখানে খাওয়া দাওয়া ও থাকার জন্য বেশ কিছু সামানা পত্র। যুবক মানুষের চাইতে বয়স্ক পুরুষের সংখ্যা আমি বেশি দেখতে পেয়েছিলাম। সবাই দলে দলে একত্রিত হয়ে নামাজের পর বয়ান শুনেছিলাম। দ্বীনে লাইনে ভালোভাবে চলা, এবং সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্টি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মেহমান কথা বলেছিল। আমি সকলের সঙ্গে একসাথে খাওয়া দাওয়া এবং রান্না করা এবং ঘুমানোর খুব সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছি। অজানা অনেক কিছু জানতে পেরেছি। বাহিরে দোকান থেকে ৩০ টাকা দিয়ে ফোন চার্জ করে মাঝেমধ্যে অল্প বিরতি পেয়ে কিছু ছবি তুলেছি।
ছবির অবস্থান :- বিশ্ব ইজতেমা ময়দান মসজিদ, বাংলাদেশ।
ইজতেমায় ময়দানে মানুষের ভিড়ে শীত অনুভব হয়নি। সবাই পাতলা কাপড় পড়ে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করেছিল। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট বসে ছিল। সেখানে দোকান গুলোতে অনেক ডিসকাউন্ড ছিল। কিন্তু দোকানগুলো ছিল ময়দান থেকে অনেক দূরে। তাই আমি বাজার করতে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করি বাসার জন্য। সেখানেও অনেক মানুষের ভিড়ে ছিল। সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমার জন্য সবাই উপস্থিত হয়েছিল। অনেকেই দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে ইজতেমার ময়দানে উপস্থিত হয়। আবার কেই বড় জামাতের সঙ্গে জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য।
ছবির অবস্থান :- বিশ্ব ইজতেমা ময়দান মসজিদ, বাংলাদেশ।
গতকাল রবিবার সকালে আখেরি মোনাজাতে মধ্যে দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়ে যায়। সবাই দলে দলে আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করার জন্য উপস্থিত হয়েছিল। জায়গা না পেয়ে যানবাহন চলাচলের রাস্তায় বসে পড়ে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সকল রাস্তায় বন্ধ করে দেয় মানুষের নিরাপদের জন্য। আমার সঙ্গে আমার বন্ধু বিপ্লব এসেছিল। আমি সময় সুযোগে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছি আমার বন্ধুর সঙ্গে। এবং চেষ্টা করেছি কিছু সেলফি নেওয়ার জন্য। বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়া সত্যিই বড় ভাগ্যের ব্যাপার। আমার চেষ্টা ও নিয়তের উপর ভিত্তি করে আমি উপস্থিত হয়েছিলাম। এবং সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম সকলের সঙ্গে। আখেরি মোনাজাতের পর আমরা সবাই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করি। লক্ষ মানুষের ভিড় এবং রাস্তায় জ্যামের কারণে তিন ঘন্টার রাস্তা আমি ছয় ঘন্টায় বাড়িতে আসতে পারি। আজ রবিবার থেকে দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাইহোক এই ছিল আমার আজকের আয়োজন। আশাকরি আমার পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। কেমন লেগেছে তা অবশ্যই জানাবেন? আপনাদের সবার মতামত আশা করছি। আজকের মত এখানেই বিদায় নিলাম। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।💞
| বিভাগ | ভ্রমণ পোস্ট। |
|---|---|
| ডিভাইস | শাওমি রেডমি ৯। |
| বিষয় | বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার অনুভূতি। |
| লোকেশন | বিশ্ব ইজতেমা ময়দান মসজিদ, বাংলাদেশ। |
| রাইটার | @nazmul01। |
আমি মোঃ নাজমুল হাসান, আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় থাকি। আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি বাঙালি। বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে আমি গর্ব বোধ করি। আমি একজন শিক্ষার্থী এবং ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত। আমি বর্তমানে বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছি। ফটোগ্রাফি করতে আমার অনেক ভালো লাগে। তাছাড়া কবিতা,আর্ট করা,ঘুরতে যাওয়া এবং রান্না করা আমার খুবই প্রিয়। প্রিয়জনদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এবং বাহিরে খাবার খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। নতুন রেসিপি শেখার আমার খুব আগ্রহ রয়েছে। আমি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্টিমিটে জয়েন হয়েছি। "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটি একটি পরিবারের মতো। আর এই পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি অনেক খুশি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
| ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য | এখানে ক্লিক করেন |
|---|
X-Promotion
ভাইয়া আপনি এবার বিশ্ব ইজতেমা এসেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো। আসলে এমন ভালো একটি কাজে আসার সবার সৌভাগ্য সবার হয় না। আল্লাহ আপনাকে কবুল করে নিয়েছে। অফিসে অডিট ভালো হওয়ার স্যারের মন খুশি থাকাতে তিন দিনের ছুটি পেয়ে ইজতেমায় চলে এলেন। আর আল্লাহর রহমত ছিল বলে মসজিদে ২৫ জনের মধ্যে আপনারও আসার ভাগ্য হয়ে গেল।
জি আপু অনেক দিনের আশা পূর্ণ হয়েছে আমার।ধন্যবাদ আপু আপনাকে ভালো থাকবেন।
আসলে বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার আমার ও ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কোন এক কারনে যাওয়া হয়নি। আপনি দেখছি বিশ্ব ইজতেমায় গিয়েছিলেন, দেখে বেশ ভালো লাগলো আমার কাছে। সামনের দিকে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। আসলে এই সব জায়গায় গেলে মন একদম ফ্রেশ হয়ে যায়।
চেষ্টা করবেন ভাই আগামী পর্বে যাওয়ার জন্য। বিশ্ব ইজতেমায় গেলে মন মানসিকতা ফ্রেশ হয়ে যায়।
আজকে আপনি বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার অনুভূতি শেয়ার করেছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো। আমার ও যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু দূর্ভাগ্য বসত কারণে যাওয়া হয় নি।পরের বছর মিস করবো না ইনশাআল্লাহ্ । সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্রিত হয়েছিল দেখতে অনেক বেশি ভালো লাগছে।
অবশ্যই আগামী বছর যাওয়ার চেষ্টা করবেন। ধন্যবাদ আপনাকে উৎসাহ মূলক মন্তব্য করার জন্য।
বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করা নিঃসন্দেহে একটি সৌভাগ্যের কাজ। আজকে আপনার পোস্টটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার অনেক সুন্দর অনুভূতি আমাদের মাঝে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। আমারও ইচ্ছে আছে, আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার। যাহোক খুবই ভালো লাগলো আপনার লেখাগুলো পড়ে।
ধন্যবাদ ভাই আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত শেয়ার করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
আপনি বিশ্ব ইজতেমায় উপস্থিত হয়েছেন এটা দেখে আমি অনেক খুশি হয়েছি ভাইয়া।আমারও অনেক আশা ছিল বিশ্ব ইজতেমা পরিদর্শন করার।তবে কাজের চাপের জন্য যাওয়া হয়নি।ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে নিজের অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
সময় পেলে আগামী বছর যাওয়ার চেষ্টা করবেন ভাই। আশা করি ভীষণ ভালো লাগবে আপনার। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
ঢাকার টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে বিশ্ব ইজতেমা হয়ে থাকে প্রত্যেক বছরে। আমাদের এদিক থেকে অনেক মানুষ যাওয়া আসা করে থাকে এই ইজতেমা উপলক্ষে। তবে আমার কোনদিন যাওয়া হয়নি। আপনার এমন ইসতেমাতে অংশগ্রহণ দেখে ভালো লাগলো। খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছেন আশা করি।
জি ভাই সকলের সঙ্গে খুব সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছি। সময় সুযোগ করে একদিন যাওয়ার চেষ্টা করবেন,আশাকরি ভীষণ ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
বিশ্ব ইজতেমায় গেলে সত্যিই অনেক ভালো লাগে। কারণ দূর দূরান্ত থেকে আসা অনেক মানুষের সাথে দেখা হয় সেখানে। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বিশ্ব ইজতেমায় গিয়ে খুব ভালো করেছেন ভাই। আমি বিশ্ব ইজতেমায় ২০১৪ সালে একবার গিয়েছিলাম। এরপর আর কখনো যাওয়া হয়নি আমার। যাইহোক এতো সুন্দর অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জি ভাই অনেক কষ্টে ছুটি পেয়েছিলাম। সে সুযোগে মূল্যবান সময়কে কাজে লাগিয়েছি। চেষ্টা করবেন আগামীতে আপনিও যাওয়ার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাই।