সিলেট ভ্রমন চতুর্থ পর্ব- রাবার বাগান পরিদর্শন।।
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ
হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই, আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। কতটুকু ভালো আছেন সেটা তো নিজেই বুঝতেছি। কারণ বর্তমানে গরমের যা অবস্থা,সবার রাত দিন কেমন যাচ্ছে সেটা অনুমান করা যাচ্ছে। সকাল ছয়টার সময় রোদের দেখা মেলে আর মাগরিবের আজান পর্যন্ত থাকে। হঠাৎ করে সূর্য মামার এত উত্তেজিত হওয়ার কারনটা ঠিক বুঝলাম না। যায়হোক এই বিষয়টা নিয়ে সম্পূর্ণ একটি ব্লগ লিখবো। চলুন নিচে আজকের বিষয়টা আলোচনা করি।
বাংলাদেশে সরকারি রাবার বাগান রয়েছে ১৮টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জোনে নয়টি, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ জোনে পাঁচটি, সিলেট জোনে চারটি বাগান রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের ভাটেরা, সাতগাঁও, শাহজী বাজার ও রূপাইছড়া বাগানে মোট আট হাজার ৪৪২ একর জমিতে রাবার চাষ হয়। রাবার গাছের বাকল কেটে পাত্রে রবারের নির্যাস সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে এই নির্যাসকে পরিশোধিত করে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াকরণের জন্য রাবার প্রস্তুত করা হয়। রাবার অত্যন্ত প্রসারণক্ষম, স্থিতিস্থাপক ও জলনিরোধী বলে এটিকে বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
সারা বছর কমবেশি রাবার উৎপাদন হলেও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাস সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায় রাবার গাছ থেকে। আমরা যখন রাবার বাগানে গিয়েছিলাম তখন বছরের মাঝামাঝি সময় ছিল। অর্থাৎ এপ্রিল,মে,জুন এই মাস গুলোতে রাবার জমার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। যার জন্য আমরা কোন গাছেই রাবারের পাত্র দেখি নাই। শীতের সময় গেলে হয়তো রাবার দেখতে পেতাম। তাছাড়া গাছ গুলো ছিল একেবারে নতুন। হয়তো এক থেকে দুই বার গাছ গুলো থেকে বারার সংগ্রহ করা হয়েছে।
আমরা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হেটেই রওয়ানা দিলাম রাবার বাগান দেখতে। সকাল সকাল যাওয়ার কারন হলো রোদ। যে পরিমান রোদ উঠে সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার মত। সকালে যাওয়ার কারনে কিছুটা ভাল লেগেছে। বিশাল এলাকা জুড়ে রাবার বাগান রয়েছে। যে দিকে চোখ যায় বারার গাছ আর রাবার গাছ। বাগানের মাঝখানে আমাদেরকে কেউ মেরে ফেললেও কেউ দেখার মত নেই। বাগানটা বিশাল বড় ছিল।
আপনারা দেখতে পাচ্ছেন উচুঁ নিচু টিলা বা পাহাড়ের মধ্যেও রাবার গাছ রয়েছে। সারি সারি করে গাছ গুলো লাগানো হয়েছে। আমি শুনেছি প্রত্যেকটা গাছ হিসাব করে লাগানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন গাছে নাম্বার দেওয়া হয়নি। গাছের নিচে অনেক পাতা পড়ে আছে। পাতা নেওয়ার মত মানুষ নেই। শুনেছি এই পাতার মধ্যে না কি সাপও থাকে। তাই আমরা রাস্তা দিয়েই হেটেছি, অন্য কোন দিকে যায়নি।
অনেক পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে হঠাৎ করে একটি জলাশয় দেখতে পেলাম। সেই জলাশয়ে তেমন পানি ছিল না। বৃষ্টিপাত নেই তাই পানিও নেই। তারপরও জলাশয়টিতে কয়েকটি শাপলা ফুল দেখতে পেয়েছিলাম। বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টিপাত হলে জলাশয়টি পানিতে ভরে যাবে। তখন দেখতে হয়তো আরো সুন্দর লাগবে। তাছাড়া তখন কুমিরও থাকতে পারে। আমি জীবনে এখনও কোন পুকুরে কুমির দেখি নাই। এই জলাশয়ে কুমির না থাকলেও জোক রয়েছে। তাই জোকের ভয়ে আমরা সেই জলাশয়ে বেশিক্ষণ থাকি নাই।
অবশেষে অনেক পাহাড়,বন-জঙ্গল,রাবার বাগান পেরিয়ে কাংখিত গন্তব্যে পৌছলাম। পাহাড়ের উপরে যে বাড়িটি দেখতে পাচ্ছেন এই বাড়িতেই আমরা একটিদিন অবস্থান করেছিলাম। সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে ঘরটি তৈরী করা হয়েছে। রাস্তা থেকে বিশ থেকে পচিঁশ ফুট উচুতে পাহাড়ের উপরে বাড়িটি নির্মান করা হয়েছে। বাড়ির চার পাশে অনেক ফলের গাছ ছিল। তবে দুঃখের বিষয় হলো এত পরিমানে গরম ছিল যে ভাষায় বলে প্রকাশ করে যাবে না। এত সুন্দর একটি জায়গাতে ছিলাম কিন্তুু গরম সব কিছু নষ্ট করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ঐ এলাকাটা আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে। শীতের সময় গেলে বেশি মজা পাওয়া যাবে।
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই, আবার দেখা হবে নতুন কোন বিষয় নিয়ে। সিলেট ভ্রমনের আরো অনেক কিছু আছে। ধীরে ধীরে আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো। সবাই ভাল থাকবেন,সুস্থ থাকবেন।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | রেডমি নোট-৮ |
| বিষয় | সিলেট ভ্রমন চতুর্থ পর্ব- রাবার বাগান পরিদর্শন। |
| স্থান | কুলাউড়া, সিলেট |
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
| ফটোগ্রাফার | @joniprins |
| তারিখ | ০৮-০৫-২০২৩ |
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
বাহ দারুন তো আপনি সিলেট ভ্রমণের চতুর্থ পর্বে শেয়ার করলেন। আপনার সিলেট ভ্রমণের প্রতিটি পর্ব আমি পড়েছি পড়ে অনেক ভালো লেগেছিল। কারণ সিলেট কখনো যাওয়া হয় নাই কিন্তু আপনার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখার সুযোগ হয়ে গেল। রাবার বাগান খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। আমাদের কক্সবাজারে সুন্দর একটি রাবার বাগান আছে দেখতে অনেক ভালো লাগে। ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখার সুযোগ হলো অনেক ধন্যবাদ।
আপু আপনি আমার সিলেট ভ্রমণের প্রতিটি পর্ব পড়েছেন শুনে খুবই খুশি হয়েছি। ধন্যবাদ আপু।
বাহ্ বেশ সুন্দর পোস্ট করেছেন তো ভাইয়া। আমি আসলে সিলেটে কখনও যাইনি। আজ আপনার পোস্টের মাধ্যমে কিছুটা দেখা হয়ে গেল। আর রাবার বাগানের কথা অনেক শুনেছি । যা আজ আপনার পোস্টে দেখে নিলাম।
আপু একবার সুযোগ করে সিলেট থেকে ঘুরে আসবেন। অনেক সুন্দর জায়গা। ধন্যবাদ আপু।