জগন্নাথ মন্দির দর্শন।। মে -৩০/০৫/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
আচ্ছা এবার আজকের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ব্যারাকপুরে আমার খুব কাছের একজন বন্ধুর বাড়ি রয়েছে। তবে পড়াশুনোর খাতিরে তাকে ওয়েস্ট বেঙ্গলের বাইরে থাকতে হয়। তবে সে যখন বাড়িতে ঘুরতে আসে আমাকে নেমন্তন্ন করে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য। এজন্য যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন মোটামুটি একবার ঘুরে আসতে ভুল করি না। আসলে ওদের বাড়ির সামনে দিয়েই চলে গেছে হুগলি নদী আর সে হুগলি নদীর পাড়েই রয়েছে মা শীতলা মন্দির। যেটা দেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর লোকের সমাগম হয়। আমি যখন ওখানে ঘুরতে যাই তখন এই মন্দির দর্শন না করে বাড়ি ফিরিনা। যাইহোক সেদিন বিকেলে ওদের বাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে প্রথমে আমরা মা শীতলার মন্দিরটাকে ভালো করে ঘুরে দেখে নিলাম। জায়গাটা এত সুন্দর এবং মন্দিরটা অনেক বছরের পুরনো এজন্য এখানকার প্রত্যেকটা জিনিস বেশ ইউনিক এবং আকর্ষণীয় ছিল।
তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে আমাকে বন্ধুটা বলল যে একটু দূরেই রয়েছে জগন্নাথ মন্দির সেখানে গিয়েও আমি ঘুরে আসতে পারি। তবে সমস্যা হলো বেশিরভাগ সময় এই মন্দিরটা বন্ধ করে রাখা হয় এবং বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিনে এখানে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যদিওবা অন্যান্য মন্দিরগুলোতে নিয়মিত খাওয়ার ব্যবস্থা আছে এবং পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে এখানে সেরকম কোন ব্যাপার নেই। প্রতিদিন পুজো দেওয়া হয় ঠিকই তবে সেটা নামে মাত্র। মোটামুটি বন্ধুর বাড়ি থেকে দশ মিনিট হাঁটার পথ। আমরা মন্দিরে পৌঁছে বেশ অবাক হলাম। মন্দিরটা আসলে অনেক বেশি অবহেলায় এবং খোলামেলা অবস্থায় ছিল যেটা একেবারে ই থাকা উচিত নয়। তারপরে আবার একটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল আমাদের মন্দিরের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়া। আমরা যখন গেছিলাম তখন কি যেন একটা চলছিল মন্দিরের ভিতরে তাই ভিতরে ঢুকে ফটোগ্রাফি করতে পারিনি। আর আমাদেরও আসলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
যাইহোক কোন উপায় তো ছিল না তাই বাইরে থেকে কয়েকটা ফটোগ্রাফি তুলে নিয়ে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। আসলে সেই মন্দিরটা প্রতিষ্ঠা করেছিল রানী রাসমণি। তাছাড়া আগে যে মন্দিরটার কথা বললাম যে মা শীতলা মন্দির, ওটাও রাণী রাসমণি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তবে ওই মন্দিরটা এখনো সুরক্ষিত অবস্থায় থাকলেও এই মন্দিরটা অনেকটাই অবহেলায় রয়েছে। এরপর আমরা কিছুটা পাশে গিয়ে দেখলাম আরো ছোট একটা মন্দির রয়েছে তবে সেখানে এখন নাকি মন্দিরের ঠাকুরদের জন্য রান্না বান্না করা হয়। এরপর আসলে আমরা সেখানে আর তেমন বেশি সময় দাঁড়ায়নি। কারণ আমাদের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার কারণে বেশ একটু অপমান বোধ হচ্ছিল, তাই সেখান থেকে ঝটপট কিছু ফটো তুলে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। যদিও বা বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় এক সপ্তাহ ব্যাপী এখানে অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়, তবে সেটা দেখার সৌভাগ্য এখনো পর্যন্ত আমার হয়নি।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | ভ্রমণ বিষয়ক পোস্ট। |
|---|---|
| ডিভাইস | Samsung Galaxy M31s |
| ফটোগ্রাফার | @rupaie22 |
| লোকেশন | ব্যারাকপুর, কলকাতা। |
ছোটবেলায় মন্দিরে যাওয়ার প্রতি আকর্ষণ না থাকলেও এখন দেখছি মন্দিরে যাওয়ার প্রতি ভালোই আকর্ষণ তৈরি হয়েছে দাদা তোমার। আসলে আমি ছোটবেলা থেকেই পছন্দ করি এটা। দক্ষিণেশ্বরের মায়ের মন্দির যেতে সত্যিই অনেক ভালো লাগে। তবে সকাল টাইমটা যেহেতু প্রচুর রোদ্দুর থাকে বিকেলের দিকেই বেশি ভালো লাগে। মায়াপুরের ইসকন মন্দির আমি ২-৩ বার গিয়েছি, খুব সুন্দর। তুমিও তাহলে একদিন ছুটির দিনে ঘুরে এসো দাদা। বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মা শীতলা মায়ের মন্দিরটি ঘুরে দেখে, তারপর জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে খুব সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফিও করেছো দেখছি।
আমার এখনো মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে যাওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে আশা করি খুব দ্রুত সেই ইচ্ছা পূরণ হয়ে যাবে। আসলে দিন দিন মন্দিরে যাওয়ার প্রতি আমার আকর্ষণ কেন জানি না বেড়েই চলেছে। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
মন্দির শান্তির জায়গা দাদা। ছোট তে মন খেলাধুলায় ব্যস্ত মনে কোন কষ্ট থাকে না তাই মন্দিরের প্রতি আকর্ষণ থাকে না,কিন্তু বড় হলে মানসিক শান্তির দরকার পরে তাই মনে হয় মন্দিরের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।ইউটিউবে দেখে দেখে মায়াপুর যাওয়ার ইচ্ছা আমারো জেগেছে।যাই হোক মন্দিরে যদি ভক্ত ঢুকতেই না পারল তাইলে সেটা কেমন মন্দির। খুব খারাপ লাগল,এমন ঐতিহ্যবাহী মন্দির এভাবে মাঝে মাঝে খোলা হয় শুনে।সুন্দর লিখেছেন দাদা।
আমার দিনদিন কেন জানিনা মন্দিরে যাওয়ার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমার কাছে মনে হচ্ছে পৃথিবীতে এর থেকে শান্তির জায়গা আর কোথাও নেই। তবে ভারতবর্ষে যদি কখনো আসেন তাহলে মায়াপুরের ইসকনের মন্দির অবশ্যই দর্শন করে যাবেন।
আপনার বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে মা শীতলা মন্দিরে গিয়েছেন। মন্দিরটি সত্যিই অনেক সুন্দর। বেশ পরিপাটি এবং গোছালো। ফটোগ্রাফি গুলো দেখে খুব ভালো লাগলো। তবে জগন্নাথ মন্দিরে আপনাদেরকে ঢুকতে দিল না এবং এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা অপমানবোধ হবার ই কথা। মন্দিরটি দেখেই বুঝা যাচ্ছে কতটা অবহেলিত। যাইহোক পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে মন্দিরে তখন কি একটা ব্যাপার চলছিল, এজন্য ঢুকতে দেয়নি। তবে অন্যান্য সময় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
মন্দির দর্শনের সুযোগ পেলে আমি কখনো মিস করি না। অদ্ভূত একটা শান্তি পাই এই একটা জায়গায় গিয়ে। মায়াপুরে দুই বার গিয়েছি। সন্ধ্যা আরতিও দেখেছি। বিশ্বাস করুন ভাই, ঐ মুহূর্ত টা নিজে সামনে থেকে না দেখলে শুধু মুখে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আপনাদের ইন্ডিয়ার প্রতিটি মন্দিরের নির্মাণ শিল্পই অসাধারণ। বাইরে থেকে হলেও এত চমৎকার লাগছিল সবটা 👌🙏। ঈশ্বর আমাদের সকলের মঙ্গল করুক এটাই প্রার্থনা করি সব সময়।
অন্যান্য জায়গার তুলনায় মন্দির আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে ভাই। এজন্য তো সময় সুযোগ পেলে মন্দির দর্শন করতে ভুল করি না। আমার কাছে অন্য সব জায়গার থেকে শান্তির জায়গা, এই মন্দিরই মনে হয়।