সেদিনের সেই সময়।
বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে বিয়ে করার জন্য মাত্র একজন বন্ধুই বাকি ছিল। অবশেষে ঈদের পর তার বিয়েটাও হয়ে গেল। জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে—কখন কার জীবনে এসে উপস্থিত হবে, তা আসলে আগে থেকে বলা মুশকিল।
ওর যখন বিয়ে হচ্ছে, তখন আমার বাবুর বয়স পাঁচ বছরে পড়েছে। থাক সেসব কথা। কে কোন ঝামেলার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তা বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না। তাছাড়া সবার চিন্তাভাবনা ও জীবনযাত্রাও আলাদা।
মোটামুটি বলতে গেলে, স্থানীয় এলাকায় এখন আর কোনো বন্ধুর বিয়ে বাকি নেই। দীর্ঘদিন পর বন্ধুর বিয়ে হওয়ায়, পুরো পরিবারকে নিয়ে দাওয়াতে গিয়েছিলাম এবং দারুণ সময় কাটিয়েছি। আয়োজন ছিল এক কথায় চোখধাঁধানো; কোনো কিছুরই কমতি ছিল না।
গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বউভাত পর্যন্ত টানা তিন দিনের আয়োজন ছিল। যদিও কর্মব্যস্ততার কারণে গায়ে হলুদ ও বিয়ের দিন উপস্থিত থাকতে পারিনি, তবে বউভাতের দিন উপস্থিত ছিলাম।
সেদিন শৈশবের অনেক পরিচিত মুখের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সময়টাও বেশ ভালো কেটেছে। আমার অন্যান্য বন্ধুরাও তাদের পরিবার নিয়ে এসেছিল। দীর্ঘদিন পর সবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় পুরো সময়টাই যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল।
এখন আর বিশেষ কোনো উপলক্ষ ছাড়া সত্যিই কারও সঙ্গে তেমন দেখা করার সুযোগ হয় না। দিন যত গড়িয়ে যাচ্ছে, সময় যেন ততই কঠিন হয়ে উঠছে। হয়তো এটাই জীবনের নিয়তি। তারপরও যখন এমন আনন্দঘন মুহূর্ত আসে, তখন তা উপভোগ করাই তো স্বাভাবিক।