ফোন কল
আজকাল যখন ছোট মোবাইলটা হুটহাট বেজে ওঠে, তখন মাঝে মাঝেই বেশ চমকে উঠি। যদিও এটার পেছনে বেশ কারণ আছে। সত্য কথা বলতে গেলে কি, যখন আমি ডাক্তারি পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম তখন ঐ ছোট মোবাইলের নাম্বারটাই সেই ভিজিটিং কার্ড থেকে শুরু করে প্রেসক্রিপশনের পেপারে সর্বত্র দেওয়া ছিল ।
আর তাছাড়াও নাম্বারটা আমি বহু আগে থেকেই ব্যবহার করছি। তাই হয়তো চাইলেও সেটা পরিবর্তন করতে পারি না। ডাক্তারি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে প্রায়ই ছোট মোবাইলটা বেজে উঠত। ফোনগুলো যখনই ধরতাম, তখনই ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে কেউ না কেউ বলতো, কখন চেম্বারে বসবেন, আমার এই সমস্যা ঐ সমস্যা। আমি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই, এইসব আরকি কিন্তু পক্ষান্তরে যখন বলতাম, আমি তো ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছি, তখন ফোন করা মানুষগুলো যেন অনেকটাই নিশ্চুপ হয়ে যেত ।
একটা সময়ের পরে দেখা গেল ছোট ফোনটাতে আর খুব একটা কল আসছে না এবং মোটামুটি সেখানে কল আসা প্রায় বন্ধই হয়ে গেল। অবশ্য এটা হতে অনেকটা সময় লেগেছে হয়তো দু'বছর নতুবা তিন থেকে সাড়ে তিন বছর ।
এখন শুধুমাত্র ছোট মোবাইলটা ব্যবহার হয় কিছু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। যেমন পুরনো কিছু মানুষের নাম্বার সংরক্ষণ করা আছে তাতে, তাই হয়তো মাঝেমধ্যে সেখান থেকে কল দেওয়া হয় তাদেরকে । তাছাড়া সেই মোবাইলটার ব্যবহার আর নেই বললেই চলে ।
আজ দীর্ঘ অনেকটা সময় পর ছোট মোবাইলটা আবারও বেজে উঠেছে। কোন রকমে ঘুমের মধ্যেই সকাল বেলার দিকে ফোনটা রিসিভ করলাম। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে মামুন বারবার বলছে, শুভ তুই এখন কই বসিস। তোকে আমার ছোট ভাই খুঁজছে, ও তোর কাছেই ওর দাঁতের সমস্যা দেখাতে চায়।
ও তোর আগের শহরের চেম্বারের ওখানে কয়েকদিন গিয়েছিল তোকে পায়নি, তোর গ্রামের চেম্বারের ঠিকানাতেও গিয়েছিল ওখানেও তোকে পায়নি। তুই এখন কোথায় বসিস, তোর সঙ্গে আমার ছোট ভাই দেখা করার জন্য বেশ অস্থির হয়ে গিয়েছে।
মামুন হয়তো জানে না, আমি ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছি । এই সকালবেলা একটা মানুষকে কিভাবে মুখের উপরে না বলে দেই, সেটা ভাবতেই আমি বেশ সন্দিহান হয়ে গিয়েছি। আমার যতদূর মনে পড়ে, ওর ছোট ভাইকে যেবার আমি প্রথম দেখেছিলাম সেবার ওর ছোট ভাই বেশ ভালোই দাঁতের সমস্যায় ভুগছিল। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছিলাম, সেই যাত্রায় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। হয়তো ভালো হয়ে গিয়েছিল, তাই হয়তো দীর্ঘ সময় পরে আবারো আমার খোঁজ করছে।
ইতিমধ্যেই এই শহরের সে বেশ কয়েকটা ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছিল, তবে কারো কাছে থেকেই তেমন মন মত নাকি পরামর্শ নিতে পারেনি। আসলে রোগীরা ডাক্তারের কাছে আস্থাভাজন হয় হয়তো ডাক্তারের অনেকগুলো দিক কে কেন্দ্র করে।
আমি কেমন ডাক্তার ছিলাম তা আমি জানিনা। তবে আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে যদি বলি, আমার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে আমি একটা সময়ের পরে গিয়ে পেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। হয়তো উচ্চ ডিগ্রিধারী আর প্রফেসর লেভেলের ডাক্তারের ভিড়ে, আমি পেরে উঠতে পারিনি ।
বন্ধু মামুন, আমাকে খুঁজে আর লাভ নেই রে। তোর ভাইকে অন্যত্র কোন জায়গায় যেতে বল, আমি ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছি দীর্ঘ সময় হচ্ছে । কি বলিস এইসব তুই, যেটা নিয়ে পড়াশোনা করলি, এত পরিশ্রম করলি, সেটাও ছেড়ে দিলি । আর তাছাড়াও তোর প্র্যাকটিস হাত ভালো ছিল, তুই চালিয়ে গেলেও পারতি ।
আসলে কাউকে কিছু বলে বোঝানো যায় না। আর তাছাড়া বলেও কোন লাভ হয় না। তাই অহেতুক কথা বাড়ানোর কি দরকার। তবে মামুন সকালবেলা আমার কথা ভেবে, বেশ ভালোই হতাশাগ্রস্থ হয়ে গিয়েছি।
তবে এবার আমি মামুনকে বললাম, তোর ভাইয়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে আমাকে এতটা সময় পর্যন্ত মনে রেখেছে এই জন্য। আর এই মুহূর্তে যদি সে আমার কাছে পরামর্শ চায় তাহলে বলবো, যে কোন কারো কাছে গিয়ে দেখিয়ে নিক । কারণ সবাই ভালো।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলে ভাই একটা বিষয় কী ? যেকোনো বিষয় থেকে পার পেতে বেশ সময় লাগে ৷ সেটা যে রকম কাজই হোক না কেন ৷ আর এটা স্বাভাবিক যে রোগী যখন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ হোন ৷ কিন্তু দীর্ঘদিন পর যখন কোনো সমস্যা বা কারো সমস্যা হয় ৷ তখন অনেকে বলে আমি একজন ডাক্তারের পরামর্শে এখন ভালো ৷ চাইলে সেই ডাক্তার পরামর্শ নিতে পারেন ৷ আর যার কারনে দীর্ঘদিন পর হলেও সেই নাম্বারে ফোন আসে ৷ আর যেটা ঘটেছে মামুনের ক্ষেত্রে ৷
আসলে ভাইয়া কেউ যখন কোন ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো কোন ট্রিটমেন্ট পায় তখন তার অন্য কারো কাছে যেতে ভালো লাগে না। সে যত ভাল সার্ভিসই দিক না কেন ।মনে হয় যেন আগের জনের কাছে গেলেই বেশি ভালো সার্ভিস পাওয়া যাবে ।এ ধারণা থেকেই হয়তো উনি আপনাকেই খুঁজছিলেন। আপনার বন্ধুর মত আমারও বলতে ইচ্ছে করছে যে পেশা নিয়ে পড়াশোনা করলেন সে পেশা ছেড়ে না দিলেও পারতেন। যদিও এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।যাই হোক পোস্টটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো।
হয়তো উচ্চ ডিগ্রিধারী আর প্রফেসর লেভেলের ডাক্তারের ভিড়ে, আমি পেরে উঠতে পারিনি ।
🙏
ভাইয়া আপনি আপনার দক্ষতায় সবাইকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেই আজও সবাই আপনাকে মনে রেখেছে এবং নিজের প্রয়োজনে আপনাকে খুঁজছে। হয়তো আপনি ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততার কারণে আপনার প্রফেশন থেকে সরে এসেছেন। তবে সেই মানুষগুলো কিন্তু এখনো আপনাকে মনে রেখেছে।
আমিও মাঝে মাঝে চিন্তা করি আপনি কেন ডাক্তারি পেশার মত এত উচ্চ মানের সেবা মূলক পেশাটা কেন ছাড়লেন। তবে আপনাকে সেই প্রশ্ন করার সাহস আমার নেই। কারন আপনার অবস্থান সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানি না। কথা গুলো হৃদয়ে গেঁথে রইল। ধন্যবাদ ভাইয়া।