বোনাস
প্রতিনিয়ত পেপার পত্রিকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিউজফিডের দিকে তাকালেই, বিয়োগের খবরগুলো অনায়াসেই চোখে পড়ে।
প্রায় প্রতিটা বিয়োগের খবরের সঙ্গেই লেগে আছে কোন না কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সেই জায়গা থেকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে মনে হয়, মৃত্যুই চিরন্তন সত্য বরং বেঁচে থাকাটাই বোনাস।
গোঁজামিল দেওয়া লেখা লিখতে একদম ভালো লাগেনা,জীবনকে যেমন দেখি, তেমনই বলার চেষ্টা করি।
খুবই সম্প্রতি এক পুরোনো সহকর্মীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয়েছিল। কথার ফাঁকে ফাঁকে সে তার অর্থবিত্ত, প্রতিষ্ঠা আর সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছিল।
জ্বলছিল না বরং শুনতে ভালোই লাগছিল। সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে মানুষ যখন একটু স্বস্তির জায়গায় পৌঁছায়, তখন সেই আনন্দটুকু আপনজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়—এটাই তো স্বাভাবিক।
সে-ও হয়তো তাই করছিল। পুরোনো সহকর্মীদের খুঁজে খুঁজে ফোন করছিল আর নিজের সুখের খবর জানাচ্ছিল। আমাকে তো তার বাড়িতে যাওয়ার দাওয়াত পর্যন্ত দিয়েছিল। কথা দিয়েছিলাম, একদিন অবশ্যই যাব।
কিন্তু জীবন বোধহয় প্রতিশ্রুতির চেয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
আজ সকালে ট্রাকের সঙ্গে তার সদ্য কেনা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গতরাতেও যার কণ্ঠস্বর শুনেছি, আজ সে আর নেই। শুধু সে-ই নয় বরং তার সঙ্গে চলে গেছে তার স্ত্রী ও সন্তানের জীবনও। এক মুহূর্তে পরিবারের সব স্বপ্ন, সব পরিকল্পনা, সব অর্জন নিঃশব্দে থেমে গেল।
ভাবছিলাম, আজকের দিনটা অন্যভাবে শুরু করব। কিন্তু দিন শুরু হলো মৃত্যুসংবাদ দিয়ে। যে মানুষটির বাড়িতে একদিন দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা দিয়েছিলাম, সেখানে এখন হয়তো দাওয়াত খেতে নয়, শেষ বিদায় জানাতে যেতে হবে। হয়তো তার কবরে একমুঠো মাটি দেওয়াই হবে, সেই প্রতিশ্রুতি রাখার শেষ উপায়।
এ কারণেই বলি, আপনি এখনো বেঁচে আছেন—এটাই আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কেননা পরের মুহূর্তে কার নাম লেখা আছে বিয়োগের তালিকায়, তা হয়তো আমাদের কারও জানা নেই।
তাই জীবনটাকে অহংকারের নয়, কৃতজ্ঞতার চোখে দেখুন। অর্থ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা—সবকিছুই এক মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। কারণ মৃত্যু কখনো দরজায় কড়া নাড়ে না; সে সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করে।