বড্ড জরুরি
তখনো চোখগুলো আমার বেশ ভালোই লাল হয়ে আছে। আমি কোন রকমে ঝাঁপ দিয়ে বিছানায় উঠে বসে পড়েছি এবং আমার গিন্নির চেঁচামেচি আমাকে শুনতে হচ্ছে। তবে আজকের ব্যাপারটা সম্পূর্ণই আলাদা। কারণ ও অনেকটা রাগ করেই এমন আচরণ করছে।
ব্যাপারটাকে আমি ভীষণ ঠান্ডা ভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করলাম। এমনিতেই ভোর রাতের দিকে ঘুমিয়ে গিয়েছি, তারপরে হঠাৎ করেই এত সকালবেলা উঠে যখন এমন আচরণ দেখা লাগছিল, তখন সেটা একটু স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে প্রথমে কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে পরে যখন ব্যাপারটা জানার চেষ্টা করলাম, তখন আসলে নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগছিল।
আমি যে দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ, এটার প্রমাণ আমি যেন প্রতিনিয়তই পাই। এই যে যেমন পরিবারের লোক অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে এবং যাকে ছাড়া আমি মোটামুটি অচল, সেই মানুষটাই যখন জ্বরে কাতরাচ্ছে আর তাকে রেখে আমি দিব্যি ঘুম পাড়ছি, এটা কি কোন ভাবে সাজে।
আসলে তাৎক্ষণিকভাবে ওর গায়ে হাত দিয়ে দেখলাম যে, আসলেই ওর শরীরটা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এমন অবস্থায় আমি কি করবো, সেটা ভাবতেই যেন আমি কিছুটা গুলিয়ে গিয়েছিলাম।
যেহেতু হঠাৎ করেই ঘুম থেকে উঠেছি আর উঠেই এই অবস্থা। তাই প্রথমত নিজেকে একটু স্থির করার চেষ্টা করলাম এবং ওর সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলার চেষ্টা করলাম। বোঝার চেষ্টা করলাম ঘটনার সূত্রপাত কিভাবে। ও আসলে কথা বলার মত অবস্থায় নেই। তারপরেও আমি শুধু শোনার চেষ্টা করলাম যে, কি কি সমস্যা হচ্ছে। ও বলল, গলা ব্যথা করছে, সঙ্গে হালকা কাশি, মাথা ব্যাথা আর প্রচুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
এই সকাল বেলা খাবার রান্না করাও নেই। যাইহোক অবশেষে বাসার নিচে নিরাপত্তার দায়িত্বে যে ভদ্রলোক আছে, তার মাধ্যমেই হোটেল থেকে পরোটা আর ডিম ভাজি কিনে নিয়ে আনার ব্যবস্থা করলাম। যেহেতু প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধগুলো বাসাতেই আছে, তাই মূলত আগে ওকে খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে তারপর ভরা পেটে ওষুধগুলো খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
ওকে বললাম যে খানিকটা সময় একটু বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করো এবং তারপরে আমি দেখছি কি করা যায়। কারণ এখন এত অস্থির হলে কোনভাবেই এর সমাধান করা যাবে না। আর শরীরের তাপমাত্রা কমতে একটু সময় লাগবে। যেহেতু ওষুধ খেয়েছো, তাই এখন চেষ্টা করো বিশ্রাম নেওয়ার জন্য । ওদিকে বাবু মূলত বেশ ভালোই বিরক্ত করছিল। তবে সবকিছু গুছিয়ে নিতে, আমার বেশ ভালোই বেগ পেতে হয়েছিল।
ঘন্টাখানেক নিজেই ওকে ফলোআপে রাখার চেষ্টা করলাম। তবে তেমন কোন পরিবর্তন দেখতে পেলাম না। আমি বুঝতে পারছি যে, সমস্যা হয়তো অন্য কোন যেটা আমি বুঝতে পারছি না। অবশেষে আমার পরিচিত কলিগের সঙ্গে মুঠোফোনে শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা করলাম এবং তার সঙ্গে যখন কথা বলে, ওর সমস্যার কথাগুলো জানালাম, সে বলল যে চিন্তা করার কোন দরকার নেই। আপাতত যে ওষুধ দিয়েছো এভাবেই দুদিন দেখো। তারপরে যদি উন্নতি না হচ্ছে তাহলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তবে এমন সমস্যা কিন্তু এখন সবারই হচ্ছে। এটা মূলত ভাইরাল ফিভার।
একটানা অনেকটা দিন ভীষণ গরম ছিল এবং তারপরে হঠাৎ করেই আবার বৃষ্টি হয়েছে এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্যই, সবার এ ধরনের অসুখ প্রতিনিয়ত হচ্ছে। তবে ওকে তরল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করো এবং ফলোআপে রাখিও। আশা করা যায় যে, ও দ্রুত সেরে উঠবে এবং তুমিও এতো চিন্তা করো না।
অবশেষে কলিগের সঙ্গে কথা বলার পরে আমি যেন, কিছুটা হলেও মানসিক প্রশান্তি পেলাম এবং সকাল বেলা থেকে বেশ ভালোই চাপের ভিতরে ছিলাম, সেটা আসলে আর নতুন করে বলার কিছুই নেই এবং আমি যখন আমার কলিগের সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন সেই কথাগুলো হীরাকেও শোনানোর চেষ্টা করিয়েছিলাম, যেন ও কিছুটা হলেও মানসিক প্রশান্তি পায়।
সত্যি বলতে গেলে কি, ওকে ছাড়া আসলে আমি অচল। বলা যায়, অনেকটাই পঙ্গু। তাই ওর সুস্থ থাকাটা, আমার কাছে বড্ড জরুরি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1653695320512163847?t=3aRCE6kFB2H1ZOaAb2djHg&s=19
ঠিক তাই, গৃহিনী অসুস্থ হলে সবটাই অচল।আর তখন বাচ্চার বিরক্ত করাও বৃদ্ধি পায়।যাই হোক আপুর সুস্থতা কামনা করছি।আর দোয়া করছি শায়ান যেন একটু মাকে দেখে বিরক্ত কম করে।টেনশন করবেন না ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ,ধন্যবাদ।
বেশ মানসিক চাপের ভিতরে আছি আপু, সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।
শুনে খারাপ লাগলো ভাইয়া। আমাদের আপু বেশ অসুস্থ। দোয়া কর আপু যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়। আমার মনে হয় এই সময়টাতে বাচ্চাদের বিরক্তি আরো বেশি বাড়ি। যাইহোক আপুর জন্য বেশ কষ্টই করছেন। আশা করব খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে।
ওর দ্রুত সুস্থতা আমি নিজেও কামনা করছি, অনেকটাই এলোমেলোর ভিতরে পড়ে গিয়েছি আপু।
আর যাই হোক এই কথাটা আমি একদমই মানতে রাজি নই ভাই। ভাবি যে অসুস্থ গতকাল আমিও পোস্ট দেখে জেনেছি। শরীর খারাপ হবে এবং তারপর ভালোও হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই এতটা মন খারাপ করে ভেঙ্গে পড়বেন না এবং নিজেকে দোষ দেবেন না ভাই। আমার মনে হয় হঠাৎ ঠান্ডা গরম থেকেই এমনটা হয়েছে। এটা আমিও বিশ্বাস করি যে ভাবি আপনাদের পরিবারের প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে ছোট বাবুটার জন্য হলেও ভাবীর সুস্থতা খুব বেশি প্রয়োজন। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি এটাই যেন খুব তাড়াতাড়ি আবার আগের মত সবকিছু সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে যায়।
হঠাৎ করে সকলে অসুস্থ হয়ে গিয়েছে তো, তাই মনটা একটু ভারাকান্ত রে।
ভাইয়া, আমি ভাবির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আসলে ভাইয়া বাড়ির গৃহিণী অসুস্থ থাকলে, তখন বাড়িতে আর সুখ থাকে না। আর পুরো পরিস্থিতি খুবই শান্তভাবে সামাল দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।