তিক্ত অভিজ্ঞতা।
কেউ কারো কথা রাখে না—এটা যেমন সত্য, তার থেকেও অপ্রিয় সত্য হলো, নিজের পরিবারের মানুষও মাঝে মাঝে কথা রাখে না।
পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী শব্দগুলোর একটি হলো—"কথা দিচ্ছি।" আর সবচেয়ে নীরব ভাঙনগুলোর একটি ঘটে, যখন সেই কথাটাই আর রাখা হয় না।
আমরা ভাবি, বাইরের মানুষ বদলে যেতে পারে; কিন্তু নিজের মানুষগুলো অন্তত পাশে থাকবে। অথচ জীবনের নির্মম বাস্তবতা হলো, সবচেয়ে বেশি ভরসা যাদের ওপর করা হয়, অনেক সময় তারাই সেই ভরসার ভিতটাকে সবচেয়ে বেশি নড়বড়ে করে দেয়। শত্রুর আঘাত মানুষকে সতর্ক করে, কিন্তু আপনজনের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি মানুষকে নিঃশব্দে ভেঙে দেয়।
একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, অচেনা মানুষের কথা না রাখায় খুব বেশি কষ্ট হয় না। কারণ সেখানে বিশ্বাসের গভীরতা কম থাকে। কিন্তু পরিবারের একজন মানুষ যখন কথা দিয়ে কথা রাখে না, তখন ভাঙে শুধু একটি প্রতিশ্রুতি নয়; ভাঙে বিশ্বাস, নিরাপত্তাবোধ এবং সম্পর্কের প্রতি অন্ধ আস্থা।
জীবন আমাকে শিখিয়েছে, সম্পর্কের পরিচয় রক্তে নয়, দায়িত্বে। একই পরিবারের মানুষ হলেই যে সে আপনার অনুভূতির মূল্য বুঝবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় রক্তের সম্পর্কের চেয়ে বিবেকের সম্পর্ক অনেক বেশি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে।
তাই এখন আর মানুষের আশ্বাসে নয়, তাদের ধারাবাহিক আচরণে বিশ্বাস রাখি। কারণ মুখে দেওয়া প্রতিশ্রুতি উচ্চারণ করতে এক মুহূর্ত লাগে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে লাগে চরিত্র। আর চরিত্রের পরীক্ষা কথায় নয়, কাজে হয়।
সবশেষে একটি অপ্রিয় সত্য বলি—মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় একাকীত্ব তখনই আসে, যখন সে বুঝতে পারে, যে মানুষগুলোর কথায় ভর করে এতটা পথ এসেছে, তাদের কথাও সব সময় বিশ্বাস করার মতো নয়।