মতামতের ব্যাখ্যা।
গতদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে বাল পাকনা শিরোনামে একটা লেখা পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলাম। সেখানে একজন মন্তব্য করে বসেছে, এ আবার কেমন চিন্তাধারা? তখন বাধ্য হয়ে নিম্নোক্ত কথাগুলো তাকে বলতে হয়েছে।
ঠিক বলেছ, সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে দিয়ে লেখালেখির চর্চা করছি—এ তো বাল পাকামিরই বিষয়। ভাগ্যিস একসঙ্গে তিন-চারটি নৌকায় পা দিয়ে রাখিনি।
এই যুগে সবাই যখন নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার জন্য ব্যস্ত, তখন আমি বসে বসে শব্দ কুড়াই, বাক্য সাজাই, আর ভাবি দু-চার লাইন লিখে পৃথিবীটা একটু ভালোভাবে বোঝা যাবে কি না। হিসাবের খাতায় এর কোনো মূল্য নেই, বাজারদরেও এর খুব একটা চাহিদা নেই। তারপরও অদ্ভুত এক জেদের বশে লিখে যাই।
অনেকে বলে, লেখালেখি করে কী হবে? প্রশ্নটা অযৌক্তিকও নয়। সত্যিই তো, লেখালেখি পেশা হিসেবে অনিশ্চিত, নেশা হিসেবে সময়খেকো, আর স্বীকৃতির দিক থেকে প্রায়ই অকৃতজ্ঞ।
তবু মানুষ লেখে। কেউ খ্যাতির জন্য, কেউ প্রতিবাদের জন্য, কেউ স্মৃতিগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য। আর আমি লিখি নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করার জন্য।
জানি, এই পথে হাঁটলে খুব বেশি কিছু পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তবু অন্তত এটুকু সান্ত্বনা আছে যে, একসঙ্গে কয়েকটি নৌকায় পা রেখে মাঝনদীতে ডুবে যাওয়ার চেয়ে একটি নৌকায় দাঁড়িয়ে গন্তব্য হারানো অনেক বেশি সম্মানের।