পুরনো গল্প।

in আমার বাংলা ব্লগ3 hours ago

32388.jpg
source

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি।

যার কথা বলছি, তিনি আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত নন। তবে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তার লেখা যখন ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে, তখন সেখান থেকেই তার লেখার সঙ্গে পরিচয়। কৌতূহলবশত তার প্রকাশিত ছয় পর্বের লেখাগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। সম্ভবত একজন পাঠক হিসেবেই সেই অভিজ্ঞতা আজ আমাকে এই কথাগুলো লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বর্তমান সেনাবাহিনীকে ঘিরে আমার তেমন কোনো প্রশ্ন নেই। বরং প্রশ্নগুলো ফিরে যায় অতীতের সেই অন্ধকার সময়ের দিকে, যখন প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই কিছু অসাধু ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ব্যক্তি এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন, যার ফলে বহু মেধাবী, সম্ভাবনাময় ও সৎ কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেককেই অন্যায়ের বলি হতে হয়েছে, যা আজও বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।

যতদূর জানা যায়, সেই সময়ের দায়ী ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবু সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে—এই জবাবদিহির প্রক্রিয়া কি সত্যিই সমস্যার মূল পর্যন্ত পৌঁছেছে? কারণ ইতিহাস বলে, অন্যায়ের মূল যদি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হয়, তবে তার অবশিষ্ট প্রভাব ভবিষ্যতে আবারও নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।

পরবর্তীকালে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রাপ্য অধিকার ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণা, অপমান এবং পেশাগত ক্ষতির ক্ষত কি শুধুমাত্র আর্থিক সুবিধা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব—এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। আরও অনেক কর্মকর্তা আছেন, যাদের ভোগান্তি এতটাই গভীর যে তা ভাষায় সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করাও কঠিন।

সবশেষে বর্তমান সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি একটাই প্রত্যাশা—প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যেন আর কখনো অন্যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে কঠোর ও নিরপেক্ষ নজরদারি অব্যাহত থাকুক। কারণ একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শুধু তার সামরিক সক্ষমতায় নয়; বরং তার ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং পেশাগত মর্যাদায় নিহিত।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 62777.99
ETH 1796.46
USDT 1.00
SBD 0.38