ফাঙ্গাস
রাষ্ট্রে যখন ফাঙ্গাস ধরে, তখন হয়তো জুলাই আসে।
দেখতে দেখতে জুলাই মাস আবারও চলে এসেছে। চোখ বন্ধ করে এখন থেকে দু'বছর আগের কথা ভাবলে যে চিত্রগুলো দেখতে পান, সেই চিত্রগুলো সচেতন নাগরিক হিসেবে কমবেশি সবার চোখেই ভাসে।
জুলাইয়ের শুরুটা আসলে কী ছিল? কোটা আন্দোলন। হ্যাঁ, এটা সত্য—শুরুটা কোটা আন্দোলন দিয়েই হয়েছিল। তবে যদি একটু বাস্তবতার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে কি শুধু কোটাতেই সবকিছু সীমাবদ্ধ ছিল? এক কথায়, না।
কেননা দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রযন্ত্রে যে ফাঙ্গাস ধরেছিল, তাতে পুরো রাষ্ট্র একদম ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছিল। গণতন্ত্র শুধু নামেই ছিল, আর কার্যকারিতা ছিল স্বৈরাচারী।
আপামর মানুষ আসলে হাঁপিয়ে গিয়েছিল। বাক্স্বাধীনতার তো ছিটেফোঁটাও ছিল না। ফাঙ্গাস রাষ্ট্রকে এতটাই গভীরভাবে আক্রান্ত করেছিল যে আইন, প্রশাসন, আদালত, মিডিয়া কিংবা অন্য সবকিছুই চলত একক ইশারায়। সব মিলিয়ে একদম নাস্তানাবুদ অবস্থা।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, রাষ্ট্রের ফাঙ্গাস দূর করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছিল।
যেহেতু অভ্যুত্থানের শুরুটা ছাত্ররাই করেছিল। তবে সেই বারুদ ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো দেশে। সর্বস্তরের মানুষ ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি।
সবাই চাচ্ছিল একক ইশারার দাবানল থেকে মুক্তি, আর ফাঙ্গাসধরা রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিপূর্ণ সুস্থতা।
তাই হয়তো নবীন প্রাণগুলোর এত আত্মত্যাগ। কত যে মায়ের বুক খালি হয়েছে, কিংবা কত যে নিরীহ প্রাণ অল্পতেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, নতুবা অন্ধ হয়েছে—তার হয়তো সঠিক হিসাব রাষ্ট্রের কাছেই অজানা।
এটাও অপ্রিয় সত্য, জুলাই হয়তো সবাইকে সুখী করেনি। কেননা এখনো জুলাইয়ের নাম শুনলে অনেকের তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠার আচরণ বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্য করা যায়। তবে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠা মানুষগুলো ব্যতীত বাকি আপামর সাধারণ মানুষের কাছে জুলাইয়ের গুরুত্ব;
অনেকটা মুক্ত আকাশে স্বাধীনভাবে ডানা ঝাপটানো পাখির মতো।
সহজ কথায় আসি—জুলাইয়ের রক্তাক্ত যাত্রা থেকে কী শিখলেন, এটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়। যদি মনে করেন যে জুলাই হয়তো থেমে গেছে, তাহলে নিতান্তই ভুল ভাবছেন। যদি আপনার ভেতরে স্বৈরাচারী প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়, তাহলে হয়তো জুলাই বারবার ঘুরে ফিরে আসবে।
দয়া করে জুলাই থেকে শিক্ষা নিন। সময় থাকতে শুধরে যান।