ভাগিনার অভিমান।
আমেরিকা প্রবাসী ভাগিনা, অভিমানে ছিন্ন করছে আপন মামার সঙ্গে সম্পর্ক।
প্রতারণা যে শুধু বাইরের মানুষ করে, এটা আসলে ভুল কথা। অনেক সময় নিজের আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমেও প্রতারণার শিকার হতে হয়। আজ যে কথাগুলো লিখছি, তা অনেকটা অভিমানের জায়গা থেকে, কেননা মনটা ভীষণ তিক্ততায় ভরে গিয়েছে। তবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা ভীষণ ভেবেচিন্তে, ঠান্ডা মাথায় নেওয়া।
আমি, মোঃ জিল্লুর রহমান । যারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তারা হয়তো এটাও জানেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে সুদূর আমেরিকায় প্রবাসী জীবনযাপন করছি।
যাই হোক, একটু পিছনে ফিরে তাকানোর চেষ্টা করি। ২০০৭ সালে যখন প্রথম আমেরিকায় আসি, তখন জীবনটা হয়তো এতটা গোছানো ছিল না। বহু চড়াই-উতরাই পার করে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। ধীরে ধীরে যখন নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, সেই সময় থেকেই মূলত আমার সঙ্গে ঘটতে থাকে কিছু অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা।
আমার নিজের মামা, মোঃ ওসমান রহমান। সে অতি সূক্ষ্ম চালাকি করে আমার বিশ্বাস ও আবেগের জায়গায় আঘাত করে।
২০১০ সালের দিকে সে তার নিজস্ব বাড়ি তৈরি করার সময় অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে আমার কাছে আকুতি-মিনতি জানায়। বলে, "ভাগিনা, পিরোজপুর মৌজার বউবাজার পাথারে আমার যে ৩৫ শতাংশ জমি আছে, তা যদি তুমি ক্রয় করে নিতে, তাহলে আমার জন্য এ অবস্থায় খুবই উপকার হতো।"
যেহেতু নিজের মামা আমাকে বারবার অনুরোধ করছিল, তাই অবশেষে বাধ্য হয়েই সেই সময়ে আমি তাকে জমি বাবদে সাড়ে তিন লাখ টাকা পাঠিয়ে দিই। এটা সত্য, সে সময় আমি বাজারদরের থেকে কিছুটা বেশি দাম দিয়েই জমিটা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করি। তাও মনে-প্রাণে চাচ্ছিলাম, মামা বিপদ থেকে উদ্ধার হোক।
আমার যখন মামাকে টাকা দেওয়া পরিশোধ হয়, তখন থেকেই মামা নিজ দায়িত্বেই জমিটা রেখেছিলেন এবং বলেছিলেন, "যখন তুমি দেশে আসবে, তখন তুমি জমি দলিল করে নিও।"
যেহেতু আমি সে সময় দেশে ফিরতে পারছিলাম না, তাই সেই জমি সে নিজেই চাষ করত এবং পত্তনের টাকা বাবাকে দুই বছর ঠিকঠাক দিয়েছিল। তবে দুই বছরের পর থেকে সে কোনোভাবেই আর জমির পত্তনের টাকা বাবাকে দেয়নি। আমি ফোনে যোগাযোগ করলেও সে নানারকম টালবাহানার কথা বলত।
অবশেষে আমি যখন করোনাকালীন সময়ের কিছু আগে দেশে ফিরেছিলাম, তখন তার সঙ্গে সশরীরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি এবং বলি, "মামা, আমাকে জমি দলিল করে দেন।" তবে তখন তিনি সেই কথা রাখেননি; বরং আমাকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
অতঃপর আমি তাকে বলি, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী আমাকে আমার জায়গার দাম দিতে হবে। সেই অনুযায়ী সাত লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার চুক্তি হয় এবং সে তাতে রাজি হয়। সে সময় আমাকে পাঁচ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং বলা হয়, বাকি টাকা শীঘ্রই ফেরত দেবে।
যেহেতু মামা আমাকে আশাহত করল, তারপরও আমি তেমন কোনো অভিমান রাখিনি। অতঃপর আমি আবারও আমেরিকায় ফিরে আসি এবং নিজের কর্মে মনোনিবেশ করি।
এর মাঝে তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আমিও তাকে মুঠোফোনে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। কিন্তু একটা সময় পরে গিয়ে তার সঙ্গে যখন একটু দৃঢ়ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি, তখন সে আমাকে মুঠোফোনে আশ্বস্ত করে। বলে, "তুমি এবার দেশে ফিরলেই বাকি টাকা দিয়ে দেব।"
এই কথা অনুযায়ী, ২০২২ সালের দিকে দেশে ফিরলে বাকি টাকা চাওয়ার চেষ্টা করি। সে সময় তিনি আমাকে টাকা ফেরত না দিয়ে বরং পূর্বের মতোই আচরণ করেন।
তার এমন আচরণ দেখে আমি আবারও ভীষণ ব্যথিত হই এবং রাগ করে তার পূর্বের দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা তাকে ফেরত দিই। দুঃখের বিষয়, আমার দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা সে ফেরত পেয়েও আমার প্রতি কোনো বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি; বরং সেই টাকাগুলো সে তার ব্যবসায়িক কাজে লাগায়।
পরবর্তীতে আমি আবারও আমেরিকায় ফিরে আসি এবং বছরখানেক পরেই জানতে পারি, আমার মামা, বলা নেই কওয়া নেই, আমার রাগ করে ফেরত দেওয়া টাকাগুলোর সঙ্গে আরও এক লাখ টাকা যোগ করে মোট ছয় লাখ টাকা হঠাৎ করে আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীর কাছে দিয়ে আসে।
এই হচ্ছে আমার মামার আসল চরিত্র, যে কিনা জমি দেওয়ার কথা বলে তার আপন ভাগিনাকে নাকে দড়ি দিয়ে দীর্ঘ সময় ঘুরিয়েছে এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। বাইরের লোক কষ্ট দিলে হয়তো এতটা কষ্ট পেতাম না, তবে মামার পক্ষ থেকে দেওয়া দীর্ঘ সময়ের কষ্টগুলোতে একটু বেশিই যন্ত্রণা পেয়েছি।
বিঃদ্রঃ আমার স্বনামধন্য মামা নিজেকে অতিরিক্ত জাননেওয়ালা লোক হিসেবে সর্বদা পরিচয় দিয়ে থাকেন। জ্বীনের সঙ্গে তার নাকি ব্যক্তিগত সখ্য আছে। এ যুগেও সে ফকিরালি ও কবিরাজি করে থাকে, যার কারণে অনেক সাধারণ মানুষ অনেক সময় তার ধোঁকাবাজির ফাঁদে পড়ে যায়।
আমার এই লেখার মাধ্যমে আমি সজ্ঞানে পরিষ্কারভাবে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলে দিতে চাই, আমি কোনো অবস্থাতেই আর আমার মামার সঙ্গে কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখতে রাজি নই। এমনকি সে যদি আমার পরিচয় দিয়ে কারও কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিতে চায়, তা অবশ্যই আপনারা প্রত্যাখ্যান করবেন।
মোটকথা, মোঃ ওসমান রহমান একজন ভণ্ড ও প্রতারক।