কলমের খোঁচা
কলমের খোঁচায় সবাই সত্য লিখতে পারে না। কেউ সত্য জেনেও গিলে ফেলে, কেউ দেখেও চোখ ফিরিয়ে নেয়, আবার কেউ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে নিজের বিবেক, নীতি আর সত্তাকেই বিকিয়ে দেয়। তখন কলম আর সত্যের ভাষা থাকে না; ক্ষমতার দালালি আর সুবিধাবাদের মুখপাত্র হয়ে ওঠে।
তবে সব কলম বিক্রি হয় না। কিছু কলম এখনো মাথা নত করতে শেখেনি। কোনো পদ, পুরস্কার কিংবা প্রশংসার লোভে নয়— মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার আর মুক্তির পক্ষে তারা লিখে যায়। তারা জানে, সত্য লিখলে করতালির চেয়ে শত্রুর সংখ্যাই বেশি বাড়ে। তারপরও তারা থামে না। কারণ নীরবতা অনেক সময় অন্যায়ের সবচেয়ে বড় সহযোগী।
সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ সব সময় অস্ত্র দিয়ে হয় না; অনেক অপরাধ ঘটে নীরবতা দিয়ে। যখন অন্যায় দেখেও কেউ মুখ খোলে না, তখন অন্যায় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর যারা সত্যকে চাপা দেয়, তারা কেবল একটি ঘটনা লুকায় না— তারা ভবিষ্যতের আরও বহু অন্যায়ের পথ খুলে দেয়।
এই বাস্তবতাই আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকেও আঙুল তোলে। মানুষ শুধু রোগে মারা যায় না; মানুষ চিকিৎসার খরচের ভয়েও মারা যায়। অনেক পরিবার হাসপাতালের দরজায় দাঁড়িয়েই ভেঙে পড়ে, কারণ তাদের কাছে জীবন বাঁচানোর চেয়ে বিল মেটানো বড় হয়ে দাঁড়ায়। এ এক নির্মম সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
চিকিৎসা কোনো দয়া নয়, কোনো অনুগ্রহও নয়। আইসিইউর একটি বেড কোনো সুপারিশের পুরস্কার হতে পারে না। মানুষের জীবন কখনো অর্থ, পরিচয় কিংবা প্রভাবের কাছে জিম্মি হতে পারে না। বেঁচে থাকার অধিকার ধনী-গরিব সবার সমান। এই অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়নের সব গল্পই কেবল সাজানো মুখোশ।
মনে রাখবেন, সত্যকে হত্যা করা যায় না; সাময়িকভাবে কেবল চাপা দেওয়া যায়। আর যে কলম আপস করতে শেখে না, ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সেই কলমের কাছেই মাথা নত করে।