বেঁচে আছি
বেঁচে আছি—
বেঁচে আছি— কারও গল্পে, কারও আঘাতে, কারও সমালোচনায়, কারও ঈর্ষায়, কারও শূন্যতায়, কিংবা কারও আগলে রাখা ভালোবাসায়। শেষ পর্যন্ত মানুষ বেঁচেই থাকে শুধু নিজের শ্বাসে নয়, বরং অন্যের অনুভূতিতেও।
একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, এই পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যার অস্তিত্ব কেবল তার নিজের মাঝেই সীমাবদ্ধ। আমরা প্রত্যেকেই অজান্তেই কারও না কারও গল্পের চরিত্র হয়ে যাই। কেউ আমাদের নিয়ে গর্ব করে, কেউ আড়ালে সমালোচনা করে, কেউ ঈর্ষায় জ্বলে, কেউ আবার আমাদের অনুপস্থিতিতে নিঃশব্দে শূন্যতা অনুভব করে। এটাই মানুষের জীবন, এটাই সম্পর্কের অদৃশ্য জাল।
মজার বিষয় হলো, যারা আমাদের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করে, তারাও কোনো না কোনোভাবে আমাদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর যারা সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, তারা কখনো বড় বড় দাবি করে না; নিঃশব্দে আগলে রাখে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ায়। মানুষের অনুভূতির ভাষা সব সময় মুখে প্রকাশ পায় না, অনেক অনুভূতি নীরবতার আড়ালেই বেঁচে থাকে।
তাই সবাইকে খুশি রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না। কারণ আপনি যতই ভালো হোন না কেন, কারও চোখে আপনি প্রিয় হবেন, আবার কারও চোখে অপ্রিয়। কেউ আপনার সাফল্যে হাততালি দেবে, কেউ সেই সাফল্যেই নিজের ব্যর্থতার হিসাব খুঁজবে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো যায় না; বদলানো যায় শুধু নিজের পথচলা।
শেষ পর্যন্ত মানুষ শুধু শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণেই বেঁচে থাকে না। মানুষ বেঁচে থাকে অন্যের স্মৃতিতে, অন্যের আলোচনায়, অন্যের অভিমানে, অন্যের দোয়ায়, অন্যের ভালোবাসায়। এমনকি কারও ঈর্ষা কিংবা সমালোচনাতেও একজন মানুষের অস্তিত্বের প্রমাণ লুকিয়ে থাকে। তাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি দীর্ঘায়ু নয়; বরং এমন একটি জীবন, যার অনুপস্থিতিও কোনো একদিন কারও হৃদয়ে নীরব শূন্যতার জন্ম দেয়।