দূরত্বের প্রশান্তি
যে মানুষটার সঙ্গে জীবনের দীর্ঘ সময় একত্রে কাটানোর স্বপ্নে বিভোর হয়েছিলেন, যাকে ছাড়া জীবনের অন্য সব হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণটাই অপূর্ণ থেকে যেত, যার অনুপস্থিতিতেও ক্রমাগত তার শরীরের তীব্র গন্ধ অনুভব করতেন, যার সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান না হলে মনে হতো এই বুঝি অক্সিজেনের শূন্যতায় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যাকে ছাড়া মনে হতো এ শহরটাই পুরোপুরি শূন্য—কত কথার জল্পনা-কল্পনা মিলিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন!
দেখুন তো, আজ সেই মানুষটা পাশে আছে কি না? যদি পাশে থাকে, তাহলে ভালো। আর না থাকলে আরও ভালো। দূরত্বই ভালোবাসার আসল সৌন্দর্য।
ভালোবাসলেই যে পাশাপাশি, কাছাকাছি কিংবা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকতে হবে, নতুবা ছানাপোনা ফোটাতে হবে—এমন তো কোনো কথা নেই।
সেই পুরোনো অনুভূতি, বুকের ভেতর ধাক্কা লাগা, অহেতুক অস্থিরতা, কিংবা হঠাৎ শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ চমকে ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া—এসব আসলে না চাইলেও হয়, বুঝছেন?
এই তো গত কয়েকদিন আগে, ঠিক পড়ন্ত বেলায় শরিফ ভাই এমন এক অবস্থার শিকার হয়েছিলেন। তিনি যখন ফিসফিস করে তার ভেতর বিদ্যুৎ চমকে যাওয়ার অনুভূতির কথা বলছিলেন, তখন তো ভাইকে বলেই দিলাম,
“শরিফ ভাই, আপনার বয়স হয়েছে, এটা ঠিক। তবে পুরোনো প্রেমের রেশ এখনো কাটেনি।”
তবে এসব নিয়ে আর খোঁচাখুঁচি করে লাভ নেই। দূরত্ব বেড়েছে, হাতবদল হয়েছে। আপনি মুক্তি পেয়েছেন—বরং এই সান্ত্বনাতেই প্রশান্তি খুঁজে নিন।