ব্যস্ততম বিকেল
এমনিতেই আজ শুক্রবার ছিল, তার ভিতরে সারাদিন আবহাওয়া যেহেতু অন্যান্য দিনের থেকে কিছুটা অনুকূলে ছিল, তাই বলা যায় সারাদিনের সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে। তবে বিকেলের পরে হঠাৎ করেই ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছিল।
যেহেতু এ শহরেই থাকি, তার মানে এ শহরের অনেক কিছু সম্পর্কেই আমার কম বেশি ধারণা আছে। বলা যায়, কোথায় গেলে কোন কাজ কত দ্রুত ও কিছুটা নিজের সুবিধা মতো করা যাবে, তা সম্পর্কে আমার কিছুটা হলেও অভিজ্ঞতা আছে। তাই কমবেশি নিজের গ্রামের বা এলাকার লোকজন এই শহরে আসলে প্রথমেই আমার কাছে পরামর্শের জন্য তারা শরণার্থী হয়।
এই সহজ-সরল মানুষগুলোর কাছাকাছি থাকতে পারাটা, আমার কাছে বিশেষ ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। বিকেলের দিকে বাসাতেই ছিলাম, হঠাৎ ছোট ফোনটা বেজে উঠতেই, তড়িঘড়ি করে ফোনটা রিসিভ করলাম। অপরপক্ষ থেকে ভীষণ মিনতি ও কান্নাকাটির আওয়াজ শুনতে পেলাম। বুঝতে পারলাম যে, ঘটনা কিছুটা গুরুতর। গ্রামের দুইজন পরিচিত লোক হঠাৎ করেই রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
যেহেতু পাকা রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই বোঝাই যাচ্ছে তাদের শরীরের অনেকটা অংশই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে হাতে আর পায়ে। তবে অল্পের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। মূলত ভ্যান গাড়ির সঙ্গে মিনি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়েছিল।
আমি বুঝতে পারছি, একটু উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা আমার শরণাপন্ন হয়েছে। এমন অবস্থায় আসলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া বা কারো পাশে না থাকা, মানবিক দিক থেকে মোটেও ঠিক না। দ্রুত বলে ফেললাম যে, আপনারা তাড়াতাড়ি শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন, বাকিটা যা করার আমি করছি।
প্রায় তিরিশ মিনিটের ভিতরেই তারা দ্রুত শহরে আসতে পেরেছে। তাদের নিয়ে সোজা আগে সরকারি হসপিটালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার চেষ্টা করলাম এবং সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করলাম। দুজনের ভিতরে একজনের অবস্থা মোটামুটি কিছুটা ভালো আছে। তবে আরেকজনের অবস্থা অনেকটাই করুন। তার হাতটা দু জায়গায় ভেঙে গিয়েছে।
যেহেতু মফস্বলের সরকারি হসপিটালে এই সময়ে অর্থোপেডিক্স এর ডাক্তার পাওয়া যাবে না, তাই বাধ্য হয়ে বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবারো যাওয়ার চেষ্টা করলাম। যাইহোক আজ যেহেতু শুক্রবার ছিল তাই বিভাগীয় শহর থেকে একজন বড় অর্থপেডিক্সের ডাক্তার এখানকার এক স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসেছিল।
আমি আমার নিজের পূর্বের পেশাগত পরিচয় দিতে খুব একটা এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। তবে আজকে বাধ্য হয়েই তা দিতে হয়েছিল, অনেকটা দ্রুত কাজ করে নেওয়ার জন্য এবং কিছু পয়সা যেন মানুষগুলোর বেঁচে যায়, সেই জন্য পরিচয়টা দেওয়া লেগেছিল।
অনেকটা আন্তরিকভাবেই স্থানীয় ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষ আমার ব্যাপারটি বোঝার চেষ্টা করেছে এবং কিছুটা পয়সা তারা কম রেখেছে। যদিও আজ অনেকটা সময় সেই গ্রামের লোকগুলোকে নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয়েছে, তবে তারপরেও দিনশেষে যখন তাদের এই বিপদে পাশে থাকতে পেরেছি, এটাই একজন মানুষ হিসেবে আমার কাছে অনেকটাই পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1667481641353375747?t=a0_9_z4SbINqtzBhF1l3CA&s=19
পাকা রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটেছে তাই আপনার গ্রামের ওই মানুষগুলোর শরীর খুবই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ভাইয়া আপনার এরকম সেবামূলক কাজগুলোর পোস্ট যখন আমি পড়ি তখন আমার খুবই ভালো লাগে। আসলে মানব সেবাই তো মানুষের প্রধান ধর্ম। সেটা হোক কাছের মানুষ কিংবা গ্রামের মানুষ কিংবা দূরের মানুষ। ভাইয়া আমি দোয়া করি, আপনার পরিচিত মানুষগুলো যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়।
আমার কাছে তেমনটাই মনে হয় ভাই, মানব সেবাই আমাদের প্রধান ধর্ম হওয়া উচিত।
যাক বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে লোক গুলো বেঁচে গিয়েছে। ভ্যানের সাথে মিনি ট্রাকের সংঘর্ষ আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। আর ঠিকই বলেছেন গ্রাম থেকে আসা মানুষদের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারলে নিজের কাছেই ভালো লাগে। যাক আপনার পরিচয় দেওয়াতে একটা সুবিধা হয়েছে তাদের কিছুটা হলেও টাকা তো বেঁচে গিয়েছে। আর যারা মানুষদের বিপদে সাহায্য করে কেউ বিপদে পড়লে আগে সেসব মানুষের কথাই মনে পড়ে তাই তারা আপনার কাছে ছুটে এসেছে।
এটা সত্য হয়তো তারা প্রাণে বেঁচে গিয়েছে, দুর্ঘটনাটা আরো বড় ঘটতে পারতো।
ভাইয়া বিপদে মানুষের পাশে থাকা একধরনের মহৎ লোকের কাজ। আমার তো মনে হয় এই মানুষ গুলোর ভরসার স্থল হলেন আপনি। তাই তো তারা বিপদে আপদে আপনাকে পাশে পেতে চায়। তবে যাই হোক নিজের অতীতের পরিচয় দিয়েই আজ আপনি তাদের কিছু অর্থ বাচিঁয়ে দিলেন।
আমি তেমন কিছুই করিনি, শুধুমাত্র চেষ্টা করেছি আপু।