ভর দুপুর

in আমার বাংলা ব্লগ3 hours ago

30562.jpg
source

আজকাল নাসিবের কান যেন বড্ড খাড়া হয়ে গেছে। কে কোথায় তাকে নিয়ে সমালোচনা করছে, কিংবা তাকে জানার জন্য কে কোথায় আড়ি পাতছে—সবই সে খুব দ্রুত টের পেয়ে যায়।

চারপাশের অমায়িক মুখোশে ঢাকা মানুষগুলোর সূক্ষ্ম হিংসা, ক্রোধ আর জিঘাংসার লক্ষ্য সে যে নিজেই, সেটাও তার অজানা নয়। চুন থেকে সামান্য পান খসলেই তাকে যে শূলে চড়ানো হবে, সে বিষয়েও তার কোনো সংশয় নেই।

ভরদুপুরে ঘুম ভাঙতে না ভাঙতেই নাসিবের গিন্নি অস্থির হয়ে তার পাশে ঘুরপাক খেতে লাগল। হাই তুলে, চোখ ডলতে ডলতে নাসিব জিজ্ঞেস করল,
— কী খবর? এত অস্থির দেখাচ্ছে কেন?

প্রত্যুত্তরে গিন্নি প্রায় গজগজ করেই বলল,
— আচ্ছা, আমরা কি সবার সব দায়িত্ব নিয়ে বসে আছি? দেখো না, বলা নেই কওয়া নেই, অমুক বাড়ির চাচি পোলাওয়ের চাল বিক্রি করতে এসে হাজির। অনেক বুঝিয়েছি যে নিতে পারব না, তারপরও বারবার অনুরোধ করেই যাচ্ছে। অথচ এই চাচি-খালারাই তো তোমাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত কানাঘুষা করে।

গিন্নির কথাগুলো শুনে নাসিব আবার বিছানায় শরীর এলিয়ে দিল। শান্ত কণ্ঠে তাকে পাশে বসতে বলল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,

— এই যে সেদিন অমুক চাচা তার ছেলের বিয়ের জন্য সহযোগিতা চাইতে এসেছিলেন, তিনিও তো আমাদের নিয়ে তির্যক সমালোচনা করেন। তাই বলে কি আমি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি? তুমিই তো দেখেছ, সহযোগিতার কোনো কমতি রাখিনি।

যেহেতু শহুরে জীবন ছেড়ে গ্রামে থাকতে এসেছি, এসব একটু-আধটু হবেই। আর হাজার মানুষের উপকার করলেও আমি-তুমি কারও মন পুরোপুরি জয় করতে পারব না—এটাই স্বাভাবিক।

যাই হোক, ভরদুপুরে যেহেতু চাচি বাড়ি পর্যন্ত এসেই গেছেন, তাকে দয়া করে খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না। মানিব্যাগটা টেবিলের ড্রয়ারে রাখা আছে। দয়া করে তার প্রয়োজনটা মিটিয়ে দিও।

তবে গিন্নি, একটা কথা মনে রেখো—মানুষ বিপদে পড়লেই অন্য মানুষের দ্বারস্থ হয়; আবার বিপদ কেটে গেলেই অনেকেই তার চিরচেনা রূপে ফিরে আসে। এই সত্যটাও যেন কখনো ভুলে যেও না।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 59997.84
ETH 1576.24
USDT 1.00
SBD 0.42