উত্তরের অপেক্ষায়।
যেহেতু গণঅভ্যুত্থানের অল্প কিছুদিন আগে গ্রামে এসেছি এবং সাময়িক থাকার জন্য অবস্থান করেছি, তাই শুরু থেকেই পারিপার্শ্বিক অবস্থার আসল চেহারা খুব ভালোভাবে নখদর্পণে ছিল।
উঠতি বয়সী তরুণদের প্রতিনিয়ত হাতে-পায়ে ধরে বোঝাতাম, আর যাই হোক মাদকের পথে হেঁটো না। চেষ্টা করেছিলাম সামাজিকভাবে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
যখন দেখলাম আর কোনোভাবেই কাজ হচ্ছিল না, তখন বাধ্য হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকার সময়ে যৌথ বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে একাধিক মাদক বিক্রেতাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছিলাম।
তবে বাস্তবতা বড্ড নিষ্ঠুর। সময় গড়ায়, পারিপার্শ্বিক অবস্থার যে চেহারা, সেটা আগের মতোই থেকে যায়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গিয়ে উঠতি বয়সী তরুণ থেকে শুরু করে এলাকার প্রবীণ লোকদের রক্তচক্ষুর শিকার হয়েছিলাম।
কত হুমকি-ধমকি কিংবা ভয়-ভীতি, কত কিছুই সহ্য করতে হয়েছিল, যদিও সে সময় কোনো কিছুকেই পাত্তা দিইনি। তবে যখন দেখলাম পুরো এলাকাটাই রসাতলে গিয়েছে, তখন আস্তে করে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছিলাম।
কার কাছে বলব এসব কথা, কারণ যার কাছে বলব, সেই কোনো না কোনোভাবে এগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এই যে,
আজ তরুণ প্রাণ নিভে গেল, এটা কিন্তু সবাইকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আপনি কিন্তু কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।
আর পুলিশ প্রশাসন, এসব নিয়ে আর নতুন করে মন্তব্য করতে চাই না। কেননা, এসব আপনারা আমার থেকে ভালো বোঝেন।
আচ্ছা, কবে এই মাদকের মরণব্যাধি দূর হবে সমাজ থেকে, বলতে পারেন কি কিছু?
আপনার উত্তরের অপেক্ষায়....!!