শিহরণ
দীর্ঘ দুমাস পরে গ্রামে এসেছি। মোটামুটি কয়েকদিন এখানে অবস্থান করবো। যদিও আমার আসার খুব একটা ইচ্ছে ছিল না, তবে আমার গিন্নির অনুরোধ কোনোভাবেই ফেলানো গেল না। যেহেতু ও শীতের সময়টাতে ওর বাবার বাড়িতে আসেনি, তাই মূলত এক প্রকার বাধ্য হয়েই আমাকে আসতে হয়েছে।
হ্যাঁ এটা সত্য, আমি চাইলেই হয়তো একাই বাসায় থাকতে পারতাম, তবে মূলত একা রান্না করে খাওয়া আমার জন্য খুব কষ্টকর হয়ে যায়, এজন্যই এবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি । তাছাড়াও বলা যায় মানসিকভাবে অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছি ঐ কংক্রিটের শহরে দীর্ঘদিন অবস্থান করে। তাই এই একঘেয়েমি দূর করার জন্য, কয়েকদিনের এই সফর আমাকে অনেকটাই মানসিকভাবে প্রাণবন্ত করবে,এমনটা বিশ্বাস আমি প্রথম থেকেই রেখেছিলাম।
হয়তো সেইদিক থেকে আমি একপ্রকার সৌভাগ্যবান। যেমনটা ভেবেছিলাম হয়তো তেমনটাই হচ্ছে আমার সঙ্গে। গ্রামে এসে মূলত বেশ ভালই ফুরফুরে মেজাজে আছি। শহরের সেই কোলাহল, চেঁচামেচি, যান্ত্রিক জীবন এখানে নেই বললেই চলে।
যেহেতু দীর্ঘদিন পরে এসেছি, তাই বেশ ভালোই আপ্যায়ন করা হচ্ছে আমাকে। তাদের আতিথেয়তায় আমি বরাবরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। খুব যে আহামরি করে তা বলবো না, তবে তাদের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু আছে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে আপ্যায়ন করার জন্য, এটাই তো অনেকটা বেশি।
আজ দুপুরের পরে বাবুকে নিয়ে বেরিয়েছিলাম গ্রামের রাস্তায় পায়চারি করার জন্য। ধুলোউড়া এই গ্রামীণ পথ ধরে অনেকটা পথ হেঁটেছিলাম। চতুর্দিকে শুধু সবুজের সমারোহ। নব্য জন্মানো ধানের চারাগুলো যেন অনেকটাই সবুজের ফুলকি ছড়াচ্ছে।
প্রকৃতির যে পরিবর্তন ও অপরূপ লীলাখেলা তা যেন গ্রামে আসলেই বেশ ভালোভাবে লক্ষ্য করা যায়। এমন সৌন্দর্যের যে আলাদা দুর্বলতা আছে, তা শুধুমাত্র কেবল প্রকৃতি প্রেমীরাই বুঝতে পারে।
এখানে শহুরে কোলাহল নেই, নেই কোন ব্যস্ততা, আছে শুধু নিবিড়ভাবে থাকার আহ্বান। যা আমার মত যান্ত্রিক মানুষকে মুহূর্তেই চঞ্চল করে ফেলে, বুক ভরে যেন নিঃশ্বাস নেওয়া যায়, বিশুদ্ধ অক্সিজেন যেন ক্রমাগত ফুসফুসে প্রবেশ করছে আর তাতেই যেন শরীর মন দুটোই চাঙ্গা হয়ে যাচ্ছে ।
বাবু তো এখানে আসার পর থেকে বেশ ভালোই খোলামেলা ভাবে সময় কাটাচ্ছে। তাকে আর ঘরে আটকানো কোনোভাবেই যাচ্ছে না। এদিক সেদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, ওর যা মনে হচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে।
আমি নিজেও যেমন বেশ প্রাণবন্ত হয়েছি, একদম প্রকৃতির কাছাকাছি এসে। ঠিক বাবুও মনেহয় অনেকটা মুক্ত বিহঙ্গের মতো স্বাধীনভাবে থাকতে পারছে এখানে এসে।
আমার পছন্দের তালিকায় সবথেকে শান্ত,প্রাণবন্ত ও নিরিবিলি জায়গা যদি থাকে, সেটা হচ্ছে গ্রাম। যেখানে এসে নিজের মত করে কিছুটা বিচরণ করা যায়, নিজের মতো করে থাকা যায় এবং নিজেকেও বেশ ভালোভাবে চেনা যায়।
পড়ন্ত বেলায় সূর্যাস্ত যখন দেখছিলাম, তখনও নগ্ন পায়ে হাঁটছিলাম ধুলোউড়া রাস্তায়, সদ্য জন্মানো ধান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে চলার সময় নরম কাদামাটির স্পর্শ শরীরে যে শিহরণ এনে দিয়ে ছিল, তা অনেকটা দিন মনে থাকবে। এটা সত্যিই দরকার ছিল কারণ এসব বড্ড বেমানান ঐ শহুরে জীবনে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলে গ্রামের বাড়িতে অনেক দিন পর গেলে বেশ ভালোই লাগে। খোলামেলা পরিবেশ চারদিকে অন্যরকম ভালো লাগে।আসলে গ্রামের মানুষ সহজ সরল তাদের আপ্যায়নে অন্যরকম ভালোবাসা কাজ করে,আর যদি শশুর বাড়ি হয় তাহলে তো কথাই নেই। ছবিগুলো বেশ সুন্দর ছিলো।ধন্যবাদ
ভাইয়া, আপনার কথার সাথে সহমত পোষণ করছি। আমার কাছেও গ্রামের দৃশ্যপট খুবই ভালো লাগে। গ্রামে গেলে অবারিত সবুজের ধান ক্ষেত, সেই সাথে ফুরফুরে হাওয়া গায়ে লাগা। গ্রামের মেঠো পথ যেখানে খালি পায়ে হেটে চলা। বাড়ির পুকুরে হেসে খেলে বেড়ানো হাঁস, সেই সাথে বরশি দিয়ে পুকুরে মাছ ধরা। সবকিছু মিলিয়ে সত্যিই যেন মনকে প্রশান্তির ছোঁয়া এনে দেয়। যার কারণে শরীর ও মন দুটোই চাঙ্গা হয়ে যায়। আর তাইতো আমার কাছে গ্রাম ভীষণ রকম ভালো লাগে। ভাইয়া, যেহেতু আপনি গ্রামে গিয়ে মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছেন, সেহেতু আপনি খুব ভালোভাবে দিনগুলো কাটাচ্ছেন, এটা জেনে খুবই ভালো লাগলো। সেই সাথে আমাদের শায়ান বাবু খোলামেলা আবহাওয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। ভাইয়া,আপনাদের গ্রামে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে কাটানো সময়টুকু খুব সুন্দর কাটুক এই কামনা করছি। সেই সাথে আপনার পুরো পরিবারের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো। ❤️❤️
গ্রামাঞ্চল অফুরন্ত সৌন্দর্যে ভরপুর এক অপরূপ লীলাভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সবুজ শ্যামলীমায় শোভিত আমাদের গ্রামাঞ্চলগুলো,তাই এই পরিবেশে গেলে শরীর ও মন দুটোই ভালো হয়ে যায়।দুমাস পরে গিয়ে বেশ ভালোই আপ্যায়ন পাচ্ছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো,যদি ভাবির সাথে না গিয়ে বাসায় থাকতেন তাহলে হয়তো এগুলো থেকে বঞ্চিত হতেন।সবমিলিয়ে অনেক ভালো সময় উপভোগ করছেন। সুন্দর অনুভুতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
গ্রাম মানেই তো নিরিবিলি আর শান্ত তবে পাখিদের কিচিরমিচির ডাক মনে এক অন্য রকম অনুভুতি এনে দেয় ৷ তবে ভাই অনেক ভাল করছেন গ্রামে এসে ৷ কারন আপনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ৷ গ্রামে এসে অনেক ফুরফুরে লাগবে ৷ বাবুকে নিয়ে বিকেল বেলা মূহুর্ত টা বেশ ভালোই ছিল ৷
গ্রাম হচ্ছে দেশের শিকড় ভাই। সেজন্যই মানুষ বার বার নাড়ীর টানে গ্রামে ফিরে যায়। একেবারে বুকভরা শ্বাস নেওয়ার জন্য গ্রামের কোনো বিকল্প নেই। আর বাচ্চারা গ্রামে গেলেই কিন্তু তাদের মধ্যে এই স্বভাবটা দেখা যায়। তারা নিজেরাই দৌড়াদৌড়ি খেলাধুলা করে বেড়াই।