অবিরাম বৃষ্টির অস্বস্তি
গতকাল রাতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস জানতে পারলাম। খবরটা খুব একটা সুখকর নয়—ঝড়-বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে, তাও আবার টানা কয়েকদিন ধরে।
ভোররাতে ফুটবল খেলা দেখে ঘুমিয়েছিলাম। এখন ঘুম থেকে উঠে দেখি পুরো আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে। চারদিকে প্রচণ্ড দমকা বাতাস, সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। লক্ষণগুলো যে খুব একটা ভালো নয়, তা মোটামুটি আন্দাজ করাই যায়। তার ওপর গতরাতের আবহাওয়ার খবরটাও বারবার মনে পড়ছিল।
বৃষ্টি উপভোগ করি, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ভীষণ বিরক্তি কাজ করে। যেখানটায় থাকি, সেখানে কাঁচা রাস্তা বেশি বৃষ্টিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দিনমজুর মানুষদের জীবিকাতেও ভাটা পড়ে। টানা বৃষ্টি এই প্রান্তিক অঞ্চলের জন্য খুব একটা সুখকর কিছু বয়ে আনে না।
তবে শুকিয়ে যাওয়া খালগুলো আবার পানিতে ভরে ওঠে। তখন এলাকার মানুষদের খানিকটা বিচরণ দেখা যায়; কেউ মাছের সন্ধানে ছুটে যায়, কেউবা শুধু জলভরা খালের দিকে তাকিয়ে সময় কাটায়। গ্রামের হাটটাও তখন কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। বৃষ্টির কারণে মানুষ বেরোতেই পারে না, তার ওপর রাস্তার নাজুক অবস্থা—হাটে আসবে কীভাবে?
দিন কাটে বই পড়ে কিংবা গিন্নির হাতে বানানো নানা পদের খাবার খেয়ে। কিন্তু যখন প্রতিবেশী কিংবা আশপাশের মানুষের অবস্থার কথা ভাবি, তখন নিজের এই ছোটখাটো বিলাসিতাও কেমন পানসে হয়ে যায়। কতটুকুই বা মানুষের জন্য করতে পারি! বড়জোর এক-দু'জন প্রতিবেশীকে নিয়ে কিছুটা সময় কাটানো, কিংবা একসঙ্গে এক-দু'বেলা খাওয়া-দাওয়া—সামর্থ্য তো এর বেশি কুলিয়ে ওঠে না।
তাই অবিরাম বৃষ্টি মোটেও সুখকর নয়, অন্তত এই প্রান্তিক জনপদে। বাধ্য হয়েই এখানেই ফুলস্টপ টানতে হচ্ছে।