গ্রীষ্মের দুপুরবেলায় গ্রামীণ প্রকৃতি।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago



হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।



আজ শনিবার। ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৩ ইং।


আসসালামু আলাইকুম।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজকে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের নিকট হাজির হয়েছে।

IMG_20230414_151230_803.jpg

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, ঋতুরাজ বসন্তের পরেই গ্রীষ্ম ঋতুর আগমন ঘটে। অবশ্য বসন্ত ঋতুর শেষের দিক থেকেই গ্রীষ্ম ঋতুর আগমনের বার্তা চলে আসে। যাহোক, গ্রীষ্ম ঋতু মানেই প্রচণ্ড গরম, তীব্র রোদে সৃষ্টি খাঁ খাঁ রোদ্দুর দুপুর বেলা। গ্রীষ্ম ঋতুর দুপুর বেলাটা পুরো দিনের তুলনায় ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। দুপুর বেলার সময়টা প্রচন্ড রোদের তীব্র তাপদহ অনুভূত হয়। গ্রীষ্মের দুপুরবেলায় চারিদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু ঝলমলে রোদের আলোয় উজ্জ্বল প্রকৃতি দেখা যায়। ঝলমলে উজ্জ্বল প্রকৃতি তীব্র রোদের তাপদহে শাসিত হয়। আর এটাই হলো গ্রীষ্মের দুপুরবেলা।



IMG_20230414_151251_364.jpg

গ্রীষ্মের দুপুর বেলায় প্রচন্ড রোদের কারণে সৃষ্টি হয় ভ্যাপসা গরম। গ্রামীণ প্রকৃতির সবুজ গাছগুলো নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কোন গাছের পাতা নড়ে না। মনে হয় গাছগুলো বাধ্য হয়ে তীব্র রোদের অসহনীয় তাপদহ নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে। গ্রীষ্মের দুপুরবেলাটা খুবই শান্ত এবং নীরব হয়ে থাকে। কোথাও কোনো পাখিকে উড়ে যেতে দেখা যায় না। তবে মাঝেমধ্যে গাছের ডালে পাতার ছায়ায় বসে থেকে ঘুঘু পাখি মধুর সুরে গান গায়। আবার মাঝেমধ্যে শালিক পাখির কিচিরমিচির ডাকে দুপুর বেলার নীরবতা কিছুটা হলেও দূর হয়। আবার দূর থেকে অচেনা পাখির অচেনা ডাক ভেসে আসে গ্রীষ্মের দুপুরবেলায়। মাঝেমধ্যে টুনটুনি পাখি একটু বিরক্ত কন্ঠেই ডেকে ওঠে। মনে হয় টুনটুনি পাখি গ্রীষ্মের দুপুরে তাপদহ আর সহ্য করতে পারছে না। কিন্তু খুব নীরবের সাথে পুইশাকের মাচায় কিংবা ঝিঙ্গে সবজির মাচায় বসে বসে দোয়েল পাখিকে পোকা শিকার করতে দেখা যায়। হয়তো অন্যান্য পাখির আনাগোনা না থাকায় দোয়েল পাখি এই সুযোগটা কাজে লাগায় খাদ্য সংগ্রহের জন্য।



IMG_20230415_142935_791.jpg

গ্রীষ্মের দুপুরেও আমাদের গ্রামীন পরিবেশের মানুষের মধ্যেও এক ধরনের নিরবতা দেখা যায়। গ্রামীন পরিবেশের পাড়াগায়ের মানুষেরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করে। গ্রামীণ রাস্তাগুলো অত্যন্ত ফাঁকা থাকে এবং গ্রাম অঞ্চলের দোকানের মাচায় কোন মানুষজন থাকে না। প্রচণ্ড গরম থেকে একটু স্বস্তি ও আরাম পাওয়ার জন্য গ্রামীণ মানুষেরা টিউবয়েলের ঠান্ডা পানিতে গোসল করার কাজে ব্যস্ত থাকে। আবার অনেকেই পুকুরে কিংবা অন্যান্য জলাশয়ে গোসল করার জন্য ব্যস্ত সময় পার করে। গ্রীষ্মের দুপুরবেলায় অনেকেই তাল গাছের পাতা দিয়ে পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকে। আবার অনেকেই গরমের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকে। গ্রীস্মের দুপুরবেলায় যদি কেউ কোন ধরনের কাজ করে তাহলে তার পুরো শরীর ঘেমে ঘামের স্রোত প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মের দুপুর বেলাটা শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু কিছুই করার নেই। কারণ প্রকৃতির নিয়ম আমাদেরকে সহ্য করতেই হবে।



IMG_20230414_151335_293.jpg

গ্রীষ্মের দুপুরবেলায় আমাদের গ্রামীন পরিবেশে শরবত তৈরি করার ধুম পড়ে যায়। বিশেষ করে পাকা বেল, লেবুর রস এবং সামান্য পরিমাণ আখের গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু শরবত। এ ধরনের শরবত গুলো আমাদের গ্রামীণ পরিবেশের মানুষের নিকট খুবই প্রিয়। গ্রীষ্মের দুপুর বেলাটা আমার কাছে তেমন ভালো লাগেনা। অসহ্যনীয় গরম এবং খাঁ খাঁ রোদের তাপে আমি খুবই বিরক্ত অনুভব করি। তাই গ্রামীণ পরিবেশে অন্যান্য মানুষের মতো এবং একজন পথিকের মতো আমি গাছের ছায়ায় বসে থেকে গ্রীষ্মের দুপুর বেলাটা অতিবাহিত করি। অতিরিক্ত তাপদহ এবং গরমের কারণে গ্রীষ্মের দুপুর বেলায় সকল মানুষের মতো আমিও খুবই ক্লান্ত অনুভব করি। বর্তমান রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় গ্রীষ্মের দুপুর বেলাটা অতিবাহিত করা সত্যিই অনেক অনেক কঠিন হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের দুপুরবেলায় এমনিতেই তীব্র আকারে পানি পিপাসা পায়। আর রোজা রাখা অবস্থায় এই সময়ে পানি তৃষ্ণার জ্বালাটা আরো অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি হয়ে যায়। তারপরও সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবং ফরজ এবাদত আদায়ের জন্য রোজা পালন করতে হয়।



IMG_20230415_143029_871.jpg

IMG_20230415_143028_816.jpg

IMG_20230415_143026_233.jpg

IMG_20230415_143024_762.jpg

IMG_20230415_143036_288.jpg

IMG_20230415_143033_938.jpg

গ্রীষ্মের দুপুর বেলায় আমাদের গ্রাম অঞ্চলের মাঠে কোন কৃষককে দেখা যায় না। অতিরিক্ত রোদের তাপের কারণে মাঠের মাটি গুলো শুকিয়ে একেবারেই ফেটে চৌচির হয়ে যায়। তাই মাঠের ফসল গুলো রক্ষা করার জন্য গ্রামের কৃষকেরা সকাল এবং বিকেল বেলায় গভীর এবং অগভীর নলকূপ থেকে পানি তোলার ব্যবস্থা করে।



সুপ্রিয় বন্ধুগণ, গ্রীষ্মের দুপুর বেলা সময়টাতে আমরা যতই ক্লান্তি অনুভব করি না কেন, আমাদের গ্রাম অঞ্চলের মেয়েরা কিন্তু গ্রীষ্মের দুপুর বেলাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে। রান্নাঘরের সকল কার্যক্রম থেকে শুরু করে আমাদের গ্রাম অঞ্চলের মেয়েরা গ্রীষ্মের দুপুর বেলাতেও পরিবারের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে। যাহোক, গ্রীস্মের দুপুর বেলা সম্পর্কে আমার লেখাগুলো যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে। অসংখ্য ধন্যবাদ সবাইকে





১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ ।



Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

 3 years ago 

যদিও গ্রীষ্মকাল চলে এসেছে তবে গ্রীষ্মকালটা আমার কাছে যেন কেমন মনে হচ্ছে এত প্রচন্ড গরমের মধ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। গ্রীষ্মের দুপুর বেলা প্রকৃতি যেন সেজে এক নতুন রূপে চারিদিকে সবুজের সমরহ দেখতে অনেক বেশি সুন্দর দেখায় আপনি আপনার পোস্টের মাধ্যমে সেটাই ফুটে তোলার চেষ্টা করেছেন। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

ভাইয়া আপনি গ্রীস্মের দুপুরবেলায় গ্রামীণ অনেকগুলো প্রকৃতির ফটোগ্রাফি করেছেন। নারিকেল গাছ, ধানক্ষেত,কাশঁফুল সহ আরো অনেক কিছু দেখলাম। সেই সাথে ধারুন বর্ণনা দিয়েছেন। ধন্যবাদ ভাইয়া।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 59780.31
ETH 1576.77
USDT 1.00
SBD 0.42