দবির মিয়ার অন্তহীন সংগ্রাম (দ্বিতীয় পর্ব)

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


তখন দবির মিয়া তার ছেলেকে সাথে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। দবির মিয়া গ্রামের একজন দরিদ্র কৃষক। সারা বছর সে অন্যের খেতে কাজ করে তার সংসার চলে। খেতে কাজ করার পাশাপাশি সে তাদের এলাকার ভেতরে থাকা নদী নালা খাল বিল থেকে মাছ ধরার চেষ্টা করে। এই সমস্ত মাছ তার পরিবারের চাহিদা মেটায়। বাড়িতে ফিরে দেখে খাবার বলতে শুধু নদী থেকে ধরা কিছু ছোটো মাছ আর ভাত সাথে আর কিছুই নেই। দিন মজুরি করে তার যে টাকা আয় হয় সেই টাকা দিয়ে পাঁচ ছয়জনের সংসার চালালে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। মাঠে কাজ না থাকলে মাঝে মাঝে তাদেরকে উপোষ থাকতে হয়।

Black and Gold Fancy New Year Card_20240828_213002_0000.png

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে দবির মিয়া তার বাড়ির পাশের গাছের ছায়ায় বসে হুক্কায় টান দিতে থাকে। সেই সময় তার স্ত্রী এসে তার পাশে বসে। স্ত্রী এসে জানাই ঘরের বাজার শেষ হয়ে গিয়েছে। বাজার করে না আনলে রাতে তাদের খাওয়া হবে না। তখন দবির মিয়া তার স্ত্রীকে বলে হাতে তো একেবারে টাকাপয়সা নাই। দেখি কারো কাছ থেকে কিছু টাকা ধার পাই কিনা। এই কথা বলে তার স্ত্রীর হাতে হুক্কাটা দিয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের হয়ে তার পরিচিত কয়েকজনের কাছে যায় টাকা চাওয়ার জন্য।

কিন্তু কেউ তাকে টাকা ধার দেয় না। তখন দবির মিয়া তাদের এলাকার মুদির দোকানে গিয়ে বাকিতে কিছু বাজার করে। যদিও মুদি দোকানদার ও তাকে বাকি দিতে খুব একটা আগ্রহী থাকে না। তারপরেও দবিড় মিয়া খুব অনুরোধ করে তার কাছ থেকে বাকিতে বাজার করে আনে। বাজার নিয়ে বাড়িতে গিয়ে দবির মিয়া আবার বাড়ি থেকে যখন বের হতে যায়। তখন স্ত্রী বলে কেবল বাইরে থেকে আসলেন এখন আবার কই যান? (চলবে)

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।




ধন্যবাদ

Sort:  
 2 years ago 

মুদি দোকানদার বাকিতে বাজার সদাই দিয়েছে বলে,দবির মিয়া কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। কারণ পরিবারের লোকজন না খেয়ে থাকলে তো তার অনেক খারাপ লাগবে। দবির মিয়া প্রতিনিয়ত তার পরিবার নিয়ে সংগ্রাম করেই যাচ্ছে। যাইহোক পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 61300.19
ETH 1626.94
USDT 1.00
SBD 0.42