একদিন রাতে বিড়ালে রান্না মাছ খেয়ে যাওয়ার গল্প

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago
আসসালামু আলাইকুম

IMG_20231126_082520_903.jpg





হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি গল্প পোস্ট। যেখানে ছোটবেলার সুন্দর একটি স্মৃতি আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে চলেছি। আশা করি এই গল্পটা পড়ে আপনাদের ভাল লাগবে এবং কিছুটা সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি জাগ্রত হবে। তাই চলুন আর দেরি না করে গল্পটা সম্পূর্ণরূপে পড়ে ফেলি।


ফটোগ্রাফি সমূহ:


তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম। সবেমাত্র বড় ভাইয়ের পিছে পিছে অনেক জায়গায় যেতাম। সময়টা সম্ভবত ঠিক এখনকার মত শীতের আগ মুহূর্ত,যখন বিলে খালে পানি শুকিয়ে আসে। আমাদের পাড়ার অনেক মানুষ বিলে মাছ ধরতে যেত। শোনা যেত যারাই মাছ ধরতে যায় তারাই অনেক অনেক মাছ ধরে আনছে, এমন কি দেখতাম অনেকে দুপুর গড়িয়ে যেত বিকাল মুহূর্তে মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরছে। আমার খুব ইচ্ছে হতো কোথায় কেমন জায়গায় মানুষ মাছ ধরে সেটা দেখার জন্য। তখন আমাদের মাঠগুলো ধানের মাঠ আর পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জায়গা ছিল এখনকার মত কুকুরের পর পুকুর ছিল না। তাই গ্রাম থেকে মাঠপান তাকালে যখন ধান থাকতো না সম্পূর্ণ দেখা যেত। দেখা যত দূর-দূরান্তে মানুষ মাছ ধরতে চলে যাচ্ছে আবার দূর থেকে মানুষ চলে আসছে। আমি শুধু রাস্তা থেকে চেয়ে চেয়ে দেখতাম। একদিন আমার আব্বা সিদ্ধান্ত নিল মাছ ধরতে যাবে বিলে। ঠিক সেভাবে মাছ ধরতে গেল অনেক মাছ পেল ধানের জমি আর পরিত্যাক্ত জমির পাশাপাশি একটি জায়গা পানি ছেঁকে। সে মাছ দেখে আমি খুবই খুশি হলাম। মাছগুলো সম্পন্ন বাড়িতে আনা হলো। বাড়ি আসার সময় রাস্তায় অনেক মানুষ মাছ গুলো দেখছিল আর আফসোস করছিল, এত মাস পেয়েছে!

IMG_20231121_065005_6.jpg

IMG_20231121_073001_7.jpg

IMG_20231121_073128_0.jpg

আমার মা সন্ধ্যার সময় মাছগুলো কোটা শুরু করে দিল। আমি পাশে বসেই থাকলাম যেহেতু ছোট ছিলাম। মা মাছ করছিল আর আমাকে আদর স্নেহ দিয়ে বলছিল আমার আব্বা মাছের এইটা খাবে ওইটা খাবে। আমার ছোট্ট আব্বার জন্য মাছ ভেজে দেবো। থেকে এভাবে অনেক কিছু বলছিল আর মাছ কুটলো। সে দেখলাম আমাদের ধানের গোলার নিচে একটি বিড়াল দাঁড়িয়ে রয়েছে। অবশ্য আজ পর্যন্ত সে ধানের গলাটা সেভাবেই রয়েছে। এখনো তার নিচে বিড়াল বসে থাকে। দের দুই যুগ পার হয়ে গেছে তবুও ঠিক সেভাবেই গলার নিচে বিড়ালের দেখা পাই। যাই হোক, এভাবে একটি সময় মাছ কোটা হয়ে গেল। আমি মায়ের পাশে রান্নাঘরে বসে থেকে মায়ের মাছ রান্না করা দেখলাম। বিল ছেকলেই শুধু কাট জাতীয় মাছ যেমন টাকি মাছ শৈল মাছ,পাকাল, জিয়েল এ জাতীয় মাছ পাওয়া যায়। তবে বেশ কিছু মাছের পেটের মধ্যে ডিম ছিল। সেগুলো আলাদা করে ভাজি করলো। এরপর রাতে মাছ খাওয়ার সময় আমাদের সকলের খুব সুন্দর ভাবে খাওয়ানোর চেষ্টা করল আম্মা। আমরা খাওয়া-দাওয়া শেষ করলাম। বাকি মাছগুলো যেগুলো রান্না করেছিল আর আওজিয়ে রেখেছিল সেগুলো আম্মা খুব সুন্দর করে একটি শিকায় ঝুলিয়ে রাখল।

IMG_20231126_082526_523.jpg

IMG_20231027_154845_218.jpg

মাছগুলো যখন ছিকায় ঝুলিয়ে রাখছিল, আব্বা বারবার মাকে বলছিল সাবধানে রাখো আর কিছু দিয়ে চাপা দিয়ে রাখো নাই বিড়ালে বাসনা পেয়ে খেয়ে যেতে পারে। আম্মা বলল অনেকবার তো এখানে মাছ রেখেছি কোনদিন তো বিড়ালে খেতে পারেনি। কিছু মাছ শিকায় ঝুলিয়ে রাখল আর কিছুটা পাশের রুমে রেখে দিল। আমি ছোট ছিলাম খাওয়া দাওয়া শেষ ঘুমিয়ে পড়েছি কখন তার নেয় ঠিক। সকালে ঘুম ভেঙ্গে হঠাৎ দেখি মা আব্বার হায় হুতাশ করার কথাবাত্রা। বিছানা থেকে উঠে বাইরে গেলাম। যে দেখলাম যত মাছ রান্না করে রেখে দিয়েছিল বিড়ালের তার অর্ধেকের বেশি খেয়ে গেছে ছিকা কেটে। কখন কিভাবে খেলো কেউ টের পেল না। রাতে আব্বা গরুর খাবার দিতে উঠেছিল কিন্তু তখনও ঠিক ছিল। হয়তো শেষ রাতে এমন কাজটা হয়েছে। বাকি মাছগুলো আর খাওয়া সম্ভব নয় কারণ অর্ধেক যখন বিড়ালে রেখেগেছে। রুমের মধ্যে যে মাছগুলো রেখেছিল সেখানে যেয়ে দেখে একি অবস্থা। অর্থাৎ রাত্রে বিড়াল মনে হয় যুক্তি করে এসেছিল। তবে আব্বা বলে বসলো আফসোসের কিছুই নেই কপালে যেটা ছিল সেটাই হবে। আমরা তো কিছু মাছ খেতে পেরেছি এখনও কিছু রেখে দেয়া ছিল নান্দার মধ্যে তাজা তা। এবার নষ্ট মাছ গুলো কি করা হবে এই চিন্তা হল। অপচয় করাও যায় না, তাই আব্বা মাকে একটি বুদ্ধি দিল একটা থালের মধ্যে রেখে গুলার নিচে রেখে দিলেই ভালো হয়। যে কোন মুহূর্তে বিড়াল এসে খেয়ে যাবে। মাছগুলো ঠিক সেভাবে রেখে দেওয়া হল গোলার নিচে। কিন্তু সে পরিচিত বিড়ালটা আর আসলো না। পরবর্তীতে কি আর করার মাছগুলো ফেলে দেওয়া হল। কিছুদিন পর লক্ষ্য করা গেল বিড়ালটা মরে রয়েছে বাড়ির পাশে একটি জায়গায়। হয়তো এটাই ছিল বিড়ালের শেষ খাওয়া। এখন সে মাছগুলো খেয়েছিল কিনা সেটাও কারও জানা নেই। তবে আশা করা যাচ্ছিল হয়তো মাছগুলো খেয়ে বেড়ালটা মারা গেছে। অথবা আগে ইঁদুর মারার জন্য অনেকে বিষ ব্যবহার করত সে বিষ খাওয়া কোন ইঁদুর খেয়ে মারা গেছে। যাইহোক এরপরে বাড়িতে আব্বা আম্মা খুবই সাবধান হল, যেন বিড়ালের মাছ খেয়ে না যায়। পরবর্তীতে বাকি মাছগুলো কোটা ধোয়া হলো এবং রান্না করে খাওয়া হলো, এমন ঘটনা আর তখন ঘটেনি।

IMG_20231126_082518_15.jpg

IMG_20231126_082739_750.jpg


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

received_434859771523295.gif


পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ।

TZjG7hXReeVoAvXt2X6pMxYAb3q65xMju8wryWxKrsghkLbdtHEKTgRBCYd7pi9pJd6nDf4ZPaJpEx3WAqvFVny2ozAtrhFXaDMnAMUAqtLhNESRQveVFZ7XHcED6WEQD48QkCkVTAvNg6.png

Sort:  
 3 years ago 

ছোটবেলার এসব ঘটনা গুলো পড়লে ভালোই লাগে । আগেকার দিনে দেখতাম আমরা যখন গ্রামে যেতাম তখন বিল থেকে অনেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরতো । এই মাছগুলো খেতে অন্যরকম টেস্ট থাকে । ভাগ্যিস আপনারা কিছু মাছ খেয়েছিলেন এবং কিছু মাছ পানিতে দিয়ে জিইয়ে রেখেছিলেন । অল্প কিছু খেয়ে গেছে ।আমি ভাবছি অত উপর থেকে খেলো কেমনে ।আপনারা একাই খাবেন তাই বিড়াল ভাবলো যে আমি একটু টেস্ট করে আসি মজার মাছ । ইস বিড়ালটাকে কারা যেন মনে হয় মেরে ফেলেছে ।মাছ খেয়ে খেয়ে তো আর মরেনি । মনে হয় কেউ মারার পরিকল্পনা করেই মেরেছে ।

 3 years ago 

সে তার কৌশলে খেয়েছে

 3 years ago 

ভাইয়া আপনার পোস্ট পড়ে খুবই ভালো লাগলো। আগের দিনে সবাই কিছু রান্না করলে শিকার মধ্যে রেখে দিতো।আর আপনারা যেটুকু খেয়েছেন এটায় আপনাদের রিজিকে ছিলো।আর বাকি মাছ গুলো বিড়ালের জন্য ছিল। যাইহোক আপনাদেরো খাওয়া হলো বিড়ালের ও খাওয়া হলো হাহা।আপনি দারুণ ভাবে পোস্ট টি শেয়ার করেছেন। আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।

 3 years ago 

হ্যাঁ একদম ঠিক বলেছেন

 3 years ago 

আপনার বাবার মাছ ধরতে যাওয়া মাছ আনার পর আপনার মায়ের মাছ কাটাও মাছ কাটার সময় আপনাকে আদর করে বলা আমার আব্বা এটা খাবে ওটা খাবে এই শব্দ গুলো খুব সুন্দর হয়েছে ভাইয়া।মা,ছেলের ভালোবাসার প্রকাশ হয়েছে। আপসোস হচ্ছে শখের মাছ গুলো বিড়াল খেয়ে নিয়েছে।কতো যত্ন করে রাখার পরেও বিড়াল খেয়েছে। তবে সব থেকে ভালো লাগলো বিড়াল খাওয়া বাকি মাছ গুলো থালায় করে বিড়ালের খাওয়ার জন্য রাখা।বিড়ালটি মারা গেছে জেনে খারাপ লাগলো।ধন্যবাদ সুন্দর মন ছুয়ে যাওয়া পোস্ট টি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

হ্যাঁ বিড়ালটা কিভাবে মারা গেছিল

 3 years ago 

একদিন রাতে বিড়ালের রান্না করা মাছ খেয়ে যাওয়ার দারুন একটি গল্প আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। গল্পটি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। গল্পটি পড়ে বেশি মজা পেলাম কেন না আপনি তখন ছোট ছিলেন। ধরতে গেলে এটা আপনার শৈশবের কাহিনী। যাই হোক আপনার আব্বু বারবার মানা করার সত্ত্বেও আপনার মা ছিকাই রান্না করা মাছগুলো রেখেছিল। আর সেটা কেটে বিড়ালে খেয়ে গেছে। এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

বিড়ালের সুযোগ পেলে এভাবেই খেয়ে যাবে

 3 years ago 

এই সময়ে মাঠে প্রান্তে পানি একদম শুকিয়ে যায় গ্রামের মানুষেরা সেই সকল জায়গা থেকে মাছ সংগ্রহ করে। যেটা ছোটবেলা আমিও করেছি আর বিড়াল মাছ খেয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অনেক হয়েছে আমাদের বাড়িতেও । যাই হোক খুবই ভালো লাগলো অনেকদিন আগের ঘটনা আপনার ছোট্ট বয়সের। বিড়াল সবসময় সুযোগ নিয়ে থাকে আর বিড়ালের প্রিয় খাবার মাছ আর দুধ অবশেষে বিড়াল সফল হয়েছিল।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

হ্যাঁ এমন ঘটনা প্রায় ঘটে থাকে

 3 years ago 

রান্না করা মাছ বিড়ালে খেয়ে নিয়েছে , এই ঘটনা সব বাড়িতেই ঘটে ভাই। দুই মাস আগে একবার আমাদের বাড়িতেও এরকম ঘটনা ঘটেছে, বিড়ালে মাছ চুরি করে নিয়ে গেছে। ছিকা কেটে রান্না করা মাছ বিড়ালে খেয়ে নিয়েছে! তাহলে তো খুব চালাক বিড়াল দেখছি। বিড়ালের হাত থেকে মাছ, মাংস, তরকারি রক্ষার জন্য গ্রামের দিকে ছিকায় রাখা হয় সব কিছু। আগে তো জানতাম ছিকায় রাখা নিরাপদ তবে এখন দেখছি কোন জায়গায়ই নিরাপদ না।

 3 years ago 

হ্যাঁ ভাই প্রায় এমন ঘটনা শোনা যায়

 3 years ago 

আগেকার দিনে খাবার মানুষ এভাবে শিকায় খাবার রাখতো।আর বিড়ালের কাজই তো এটা।চুরি করে খাওয়া যাইহোক বিড়ালের রিজিকে ছিল যেটুকু সেটুকু খেয়েছিল।আর আপনাদের রিজিকে যেটুকু বরাদ্দ ছিল সেটুকু আপনারা খেয়েছিলেন।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

হ্যাঁ একদম ঠিক কথা বলেছেন আপু

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.102
BTC 62554.16
ETH 1783.65
USDT 1.00
SBD 0.38