গ্রাম বাংলার ভূত||সত্য গল্প
ভূত, প্রেত,পেত্নী যাই বলুন বিষয়টা একটু বিতর্কিত।এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে শ্রোতারা মোটামুটি ২ভাগে ভাগ হয়ে যাবে।একভাগ বিশ্বাস করে,আরেকভাগ বিশ্বাস করে না। যারা বিশ্বাস করেনা তারা একটা কথাই বলে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করব না।সব শোনা কথা।কেউ নিজের চোখে কিছু দেখে নি,সবাই শুনে শুনে বিশ্বাস করে।এই একটি জায়গাতেই বিশ্বাসীরা ধরা খেয়ে যায়।
এখন ভূত প্রেত তো তাজমহল নয় যে গেলাম, দেখলাম, চলে আসলাম।ভূতেরা ক্ষেত্রবিশেষে বেশ লাজুক,তারা শুধু তাদের সামনেই আসে যারা ভীতু।সাহসীদের সামনে খুব একটা পড়ে না। ফলাফল বিশ্বাসিরা চুপ থাকে। যাই হোক আমি কোনদলের পক্ষপাতিত্ব করছি না। তবে এটা মানি পৃথিবী এমন অনেক কিছুই আছে যা আমাদের যুক্তিতর্কের বাইরে।
যাই হোক আজ যে গল্পটি শেয়ার করব সেটি আমার দাদুর থেকে শোনা। দাদু অর্থাৎ আমার মায়ের মামা। দাদুর নাম ঝন্টু৷ ছোট বেলা থেকেই দাদু বেশ ডানপিটে ছিলেন। পড়াশোনার দিকে তার বেশি মনযোগ ছিল না।বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, ঘুরে বেড়ানো এগুলোই তার প্রধান কাজ ছিল৷ আর একটি কাজ দাদুর নেশার মত ছিল, সেটা হল মাছ ধরা। তার এই নেশার কারনেই তার নাম হয়ে গিয়েছিল ঝন্টু জেলে।
যাই হোক কালক্রমে দাদুর সেটাই পেশা হয়ে দাঁড়ায়।যেহেতু পড়াশুনা করেন নি বেশি তাই কোন চাকুরি হল না,আবার ব্যবসাতেও তার মন বসে না। তাই দাদুর ভাগের তিনবিঘা জমির উপর দাদুকে একটি পুকুর খনন করে দেওয়া হল।সেখানেই তিনি মাছ চাষ করতেন। দীঘীর পাড়েই একটি ছোট ঘর তুলে সেখানে তিনি থাকতেন।
ওখানে থাকার উদ্দেশ্য হল রাতের বেলা যেন কেউ মাছ চুরি না করে। খাওয়াদাওয়া অবশ্য তিনি বাসা তেই করতেন। রাতে বাড়িতে খেয়ে ১০টা বা ১১টায় সেই ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়তেন৷ এরপর মাঝে মাঝে রাতে উঠে দীঘীর চারপাশে একবার টহল দিয়ে আবার শুয়ে পড়তেন।
যাই হোক একদিন তিনি খাওয়াদাওয়া করে তিনি বিছানায় এসে শুয়েছেন। সামনে মেলা তাই, মাছ চুরি এই সময়ে বেশি হয়।এই মেলার জন্যই পুকুরে কিছু বড় বড় মাছ রাখা সেগুলো যাতে চুরি না যায় তাই তিনি সজাগ ছিলেন। কিন্তু খাওয়দাওয়ার পর কত সময়ই আর সজাগ থাকা যায়৷ ফলাফল হিসেবে একটু পরেই তার চোখে ঘুম চলে আসল।
তারপর হঠাৎ একসময় তিনি শুনলেন কেউ যেন পুকুরে জাল ফেলছে। এই শব্দ শোনার সাথে সাথেই দাদুর ঘুম পালায় চোখ থেকে। ধরমর করে উঠে তিনি বের হলেন হয়ে দীঘীর চারপাশে টহল দিলেন। কিন্তু কোথায় কেউ নেই। দীঘীটা এমন জায়গায় যেখানে থেকে তিনদিক খুব ভালভাবে দেখে যায়। আর একদিকে একটি বাশ ঝাড় যেখানে মানুষ দিনের বেলাতেও ঢুকতে ভয় পায়। ফলে কেউ মাছ চুরি করতে আসলেও ঐ জঙ্গলে কেউ ঢুকবে না।
তাহলে গেল কই যে জাল ফেলছিল? তারপর দাদু ভাবলেন হয়ত তিনি ভুল শুনেছেন।এই ভেবে তিনি আবার ঘরে ফিরে গিয়ে কান সজাগ করে বসে রইলেন। এর কিছুক্ষণ পর আবার হঠাৎ......
OR
আমি বৃত্ত মোহন্ত (শ্যামসুন্দর)। বর্তমানে ছাত্র। নতুন কিছু শিখতে, নতুন মানুষের সাথে মিশতে আমার খুব ভাল লাগে। তেমনি বই পড়া আর ঘুরে বেড়ানো আমার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুক্তমনে সব কিছু গ্রহণ করার চেষ্টা করি আর মনে প্রাণে বিশ্বাস করি,"বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র"।