হঠাৎ বিদায় (ছোট গল্প)। ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।
হাসিব বাসার দরজা দিয়ে যখন বের হচ্ছিল তখন ছেলে সাদমান পিছন থেকে ডাক দিল। বলল বাবা একটু দাঁড়াও। হাসিব ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখলো ছেলে তার দিকে এগিয়ে আসছে। হাসিব বলল কি হয়েছে বাবা? ছোট্ট সাদমান বলল বাবা আসার সময় আমার জন্য চকলেট আর চিপস নিয়ে আসবে। হাসিব হাসিমুখে ছেলের আবদার মেনে নিল। তারপর মুখ টিপে একটু আদর করে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।
ছবির সোর্স- লিংক
হাসিব সবসময় চেষ্টা করে সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে। দেরি করে গেলে বসের ঝাড়ি শুনতে হয়। এটা সে কখনোই চায় না। তাছাড়া সময়মতো অফিসে পৌঁছানোর জন্য হাসিবের অফিসে বেশ সুনাম। এজন্য তার বসরা ও তার প্রশংসা করে। আসিফ কাজে-কর্মে বেশ চৌকস। কখনো সে অফিসের কাজ পরেরদিনের জন্য ফেলে রাখে না। যত রাতই হোক সে কাজ করে তারপর অফিস থেকে বের হয়। অনেকদিন হয়ে গেল তার কোন প্রমোশন হয় না।
এবার অবশ্য কানাঘুষা চলছে যে তার প্রমোশন হবে। হাসিবের বস হাসিবকে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছে। আরো ভালোভাবে কাজ করতে বলেছে। হাসিব এই প্রমোশনের জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করে আছে। এজন্য গত কিছুদিন হাসিব জান প্রাণ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য বর্তমান ইনকামে তার পক্ষে সংসার চালানো খুবই মুশকিল হয়ে গিয়েছে। একটা প্রমোশন পেলে বেতন অনেকটা বাড়বে। তখন তারা একটু স্বাচ্ছন্দে চলতে পারবে।
দীর্ঘদিন হলো হাসিব তার পরিবারকে নিয়ে কোথাও তেমন ঘুরতে যায় না। কারণ যে টাকা বেতন পায় তা দিয়ে মাস চলার পর বাড়তি তেমন কোনো টাকা থাকে না। তারপর বেতন থেকে কিছু টাকা আবার তার বাড়ি পাঠাতে হয়। সামান্য কিছু সঞ্চয় ও আছে। যার ফলে সব খরচ মেটানোর পর বাড়তি আর কোন টাকা অবশিষ্ট থাকে না।
হাসিব ঘুরতে খুবই পছন্দ করে।ছাত্রজীবনে হাসিব দেশের অনেক জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছে। সেই গল্প সে তার স্ত্রীর কাছে করেছে। এই গল্প শুনে তার স্ত্রী তাকে উল্টো কথা শুনিয়ে দিয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে না পারার জন্য হাসিবকে স্ত্রীর কাছ থেকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। তাই হাসিব ঠিক করে রেখেছে এবার প্রমোশন হলে সে তার পরিবার নিয়ে ইন্ডিয়া থেকে ঘুরে আসবে। হাসিবের দার্জিলিং যাওয়ার অনেক শখ। প্রমোশনের কথাটা তার কানে আসার পর থেকেই সে দার্জিলিং ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছে। কিভাবে যাওয়া যায়, কত টাকা খরচ তার সবকিছু একটা প্ল্যান করে ফেলেছে। কিন্তু তার স্ত্রীকে সে কিছুই জানায়নি সারপ্রাইজ দেবে এই জন্য।
এসমস্ত কথা চিন্তা করতে করতে হাসিব অফিসে পৌঁছায়। অফিসে পৌঁছে দেখে তখনও অফিসে কেউ আসেনি একমাত্র পিয়ন ছাড়া। হাসিব নিজের টেবিলে বসে পিয়নকে এক কাপ চা দিতে বলে। কিছুক্ষণ পর পিয়ন চা নিয়ে এসে বলে স্যার আর কেউ তো আসে নাই। আপনি শুধু শুধু এত আগে আসেন কেন? হাসিব হেসে বলে আমি সময় অনুযায়ী চলতে পছন্দ করি। তারপর হাসিব পিয়নকে জিজ্ঞেস করে তোমার পরিবারের কি অবস্থা? পিয়ন বলে আল্লাহর রহমতে সবাই ভালই আছে।
তারপর হাসিব তার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সারাদিন কাজ করার পর সন্ধ্যার পর হাসির অফিস থেকে বের হয়। সন্ধ্যার এই সময়টাতে ঢাকা শহরে প্রচন্ড জ্যাম থাকে। অফিস থেকে বাসার দূরত্ব অনেক। তারপরেও হাসিব মাঝে মাঝেই অনেকটা পথ হেঁটে চলে যায়। কিন্তু আজ শরীর ক্লান্ত লাগছিল তাই সে একটা বাসে উঠে বসে। বাসে উঠে ক্লান্তিতে হাসিব ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ করে প্রচন্ড হৈচৈ শব্দে হাসিবের ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে দেখে বাসে আগুন লেগেছে। এর ভেতর অনেকে জানালা দিয়ে লাফিয়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। হাসিব ওযর ছিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছিল কোন জানলা দিয়ে বের হবে। এর ভেতর হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে বাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তেই পুরো বাসটা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে হাসিব শুধু একটা জিনিসই দেখেছে সেটা হচ্ছে আগুনের শিখা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরছে। এভাবেই একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে গেল। এভাবেই একটি পরিবারের স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। এভাবেই একটি সন্তান তার বাবাকে হারালো। এভাবে একজন মমতাময়ী স্ত্রী তার স্বামীকে হারালো। এভাবে আর কতো জীবন অকালে ঝরে যাবে?(সমাপ্ত)
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩
আমি রূপক। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাঙালি। আমি বাংলায় মনের ভাব প্রকাশ করতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকেও ভালোবাসি।
এই প্রশ্নের উত্তর কখনোই শেষ হবে না ভাইয়া! বাংলাদেশের অবস্থা বর্তমানে এমনই। সম্ভাবনাময় জীবন কখন যে নিভে যায় তা বলা মুশকিল।
আপনি যে গল্পটি লিখেছেন তা বর্তমানের সাথে মিলে গেছে। পুরো গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি, হাসিব সাহেবের স্ত্রী ও তার সন্তানের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। এভাবেই একটি পরিবার অকালে ঝরে গেল।
আপনার গল্প লেখার হাত অনেক ভাল ভাইয়া, এই গল্পটি হৃদয়বিদারক। ভালোবাসা রইলো আপনার জন্য।
ভাইয়া আপনার লিখাটি পড়ে অনেক কষ্ট পেলাম। সত্যি কথা বলতে গল্পটি খুবই বেদনাদায়ক। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত এসব ঘটনা ঘটে চলেছে। সুস্থ সবল মানুষ বাসা থেকে বের হচ্ছে কিন্তু ফিরছে লাশ হয়ে। তার প্রিয় সন্তান ও প্রিয়জনরা সেই মানুষটির মুখ দেখতে পাবে না আর এই কথাটি ভেবে খারাপ লাগছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই হতে পারে না। ছোট্ট সেই সাদমান তার বাবার জন্য অপেক্ষায় থাকবে কখন তার বাবা আসবে। তার অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হবে না আর। তার বাবা ফিরবে কিন্তু লাশ হয়ে। সে আর কখনোই তার বাবার কাছে যেতে পারবেনা। বাবার কাছে বায়না ধরতে পারবেনা। আপনার লেখাটা পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে।
রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। আর এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে কারো না কারো প্রিয়জন। কারো বাবা, কারো স্বামী বা কারো সন্তান। আপনি একদম বাস্তব দিকগুলো চিন্তা করে দারুন একটি পোস্ট লিখেছেন ভাইয়া। এভাবে হাজার হাজার পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক সময় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যদি এসব দুর্ঘটনার শিকার হয় তাহলে পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। এখন কে নিবে সেই সন্তানের দায়িত্ব। কে দেখাশোনা করবে তার পরিবারের। এসব বিষয়ে ভাবতে গেলে খুবই খারাপ লাগে। গল্পের মত আমাদের বাস্তব জীবনেও প্রতিনিয়ত এই ঘটনাগুলো ঘটছে। ধন্যবাদ ভাইয়া দারুন একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
ভাইয়া আপনার গল্প যখন পড়েছিলাম আমার মনে হচ্ছিল হাসিব তার প্রমোশন পেয়ে তার পরিবারকে নিয়ে সুন্দরভাবে দিন যাপন করতে পারবে আর এটাই হাসিবের ভাবনতেউ ছিল কিন্তু এর শেষ গল্পটা যে এরকম ভাবে বাক নিবে সেটা আমি কখনো আশা করিনি। খুব খারাপ লাগছে এরকম আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত হাজারো ঘটনা ঘটছে কত জীবন, কত সম্ভাবনা জীবন, কত বাবা-মা, কত ভাই অকালমৃত্যুতে একটি পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ।পরিবারের স্বপ্ন মলিন হয়ে যাচ্ছে। খুব খারাপ লাগছে গল্পটি শেষ পরিণতি দেখে। আপনি দারুণভাবে ইতি টেনেছেন এবং সমাজের বাস্তব কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যা আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘটে থাকে।
আপনি খুবই সময়োপযোগী একটি গল্প লিখেছেন ভাইয়া। আসলে এটা হয়তো গল্প নয় আমাদের চারপাশে এটাই হচ্ছে। আর বিশেষ করে ঢাকার ব্যাপারটি তো জানিই, খুব খারাপ অবস্থা। সত্যিই খুব খারাপ লাগে জিনিসগুলোর জন্য।
আপনার গল্পটি সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে শতভাগ বাস্তব। আসলে এমন অকাল মৃত্যু কারো কাম্য নয় তাই আমাদেরকে সতর্কতার সাথে চলতে হবে। ভাইয়া আপনি সময় উপযোগী একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। গল্পটি খুবই হৃদয়বিদারক। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সত্যিই খুব কষ্ট হয় আমাদের। এই পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। ভালো থাকবেন ভাই।
ভাই আপনার গল্পোটি প্রথম থেকে পরে ভালোই লাগছিলো ।পরে হাসিবের এই নির্মম পরিহাস দেখে চোখে পানি চলে আসলো😭।পৃথিবির সবাই কিছু কিছু আশায় থাকে জীবনে কিছু করবে কিন্তু সে জানেনা তার সামনের দিনে তার সাথে কি হতে চলেছে ।এটাই সত্য ।ধন্যবাদ ও শুভকামনা রইলো ভাই।
ভাইয়া আমি আপনার গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। আপনি আপনার গল্পে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এটা আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার সাথে সম্পূর্ণ মিলে গেছে বলে আমি মনে করি। আমাদের দেশে প্রতিদিনই এভাবেই অনেক সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে। ভাইয়া এ ধরনের গল্প আরো পড়তে চাই আগামী দিনে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো ভাইয়া।