দুর্ধর্ষ গেরিলাদের দুঃসাহসিক অভিযান (পঞ্চম পর্ব)। ১০% সাইফক্স।
তারপর সেখান থেকে ছোটো দলে ভাগ হয়ে অস্ত্রাগারের পেছনে অবস্থান নিতে থাকলো। অস্ত্রাগারের পেছনে একটি দেয়াল আছে। সে দেয়ালের একটু পরে একটি রাস্তা। তারা রাস্তার অপর প্রান্তে এসে ঝোপঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে পড়লো। আক্রমণ করার আগে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে খেয়াল করে দেখে সেখানে ৬ জন পাক আর্মি আছে। সমস্যা হচ্ছে এই ছয় জনকে একসাথে শেষ করতে হবে। না হলে অস্ত্রাগারের অন্য পাশে থাকা আর্মিরা বুঝতে পারলে তাদের মিশন খুব কঠিন হয়ে যাবে।
যাদের কাছে এলএমজি ছিলো শমসের তাদেরকে পজিশনে যেতে বললো। চারটে এলএমজি নিয়ে চারজন পজিশন মতো দাড়িয়ে পরলো। তারপর তারা অপেক্ষা করতে লাগলো। এই মিশনের নেতৃত্বে যে গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন তার নাম শমসের। সে আগে থেকেই সবাইকে বলে দিয়েছে আমি নির্দেশ দেয়ার আগ পর্যন্ত কেউ একটি গুলিও করবে না।
অস্ত্রাগারের পেছনে যে ৬ জন পাহারায় ছিল। তারা দুজন করে তিনটি দলে ভাগ হয়েছিলো। গেরিলা যোদ্ধাদের কাছে সর্ব মোট চারটি স্নাইপার রাইফেল আছে। যেগুলোতে সাইলেন্সার লাগানো ছিলো। এই চারটি স্নাইপার রাইফেল দিয়ে একবারে চারজন কে ঘায়েল করা যাবে। বাকি দু'জনকে মারার জন্য কয়েকজন গেরিলা যোদ্ধা পাক সৈন্যদের কাছাকাছি গিয়ে অবস্থান নিয়েছিলো। তাদের কাছে অস্ত্র বলতে ছিলো সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল। স্নাইপার রাইফেল দিয়ে কোন চারজনকে ঘায়েল করা হবে সেটা তাদেরকে আগেই বলে দেয়া হয়েছে। আর তারা কোন দুজনকে পিস্তল দিয়ে ঘায়েল করবে সেটাও তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে।
সবাই এখন কমান্ডার শমসেরের নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। এদিকে দিনের আলো আস্তে আস্তে কমে আসছে। হঠাৎ করে কমান্ডার শমসের ইশারা করলো। ইশারা করার সাথেই স্নাইপার রাইফেল নিয়ে যে চারজন গেরিলাযোদ্ধা ছিল তারা ৪ জন পাক আর্মিকে প্রথম চোটেই গুলি করে ফেলে দিলো। এই চারজনের কে দেখে বাকি দুজন যখন তাদের অস্ত্র বের করতে যাচ্ছিল। তখন পিস্তলধারী গেরিলা যোদ্ধারা সেই দুজনকে গুলি করলো। মিশন মোটামুটি তাদের পরিকল্পনা মতই হোলো।
কিন্তু শেষ মুহুর্তে একজন সৈন্য মাটিতে পড়ে যাওয়ার সময় তার অস্ত্রের ট্রিগার চাপতে সমর্থ হয়েছিল। যার ফলে তার অটোমেটিক রাইফেল থেকে বেশকিছু গুলি বের হলো। যদিও এই গুলিতে কেউ আহত হয়নি। কিন্তু অস্ত্রাগারের অপর পাশে থাকা সৈন্যরা সেই গুলির আওয়াজ শুনতে পেলো। সাথে সাথে ওরা বুঝতে পারলো অনেক পাক আর্মি এদিকে চলে আসছে।
এর ভেতরে যাদের কাছে আরডিএক্স আছে তারা ইতিমধ্যে দেওয়াল টপকে অস্ত্রাগারের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। কমান্ডার শমসের বুঝতে পারল এখন সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। কারণ গুলির শব্দে ইতিমধ্যে পাকিস্তানি সেনাদের ভেতরে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যে চারজন গেরিলা যোদ্ধার কাছে এলএমজি ছিল তারা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে গেল তারপর এলএমজি নিয়ে পজিশনে শুয়ে পড়ল।
শমসের তাদেরকে প্রস্তুত থাকতে বলল। কিছুক্ষণের ভিতরেই দেখা গেল ১০/১৫ জনের পাকিস্তানি একটা সৈন্যদল অস্ত্রাগারের পেছনের দিকে আসছে। এর ভেতরে গেরিলা যোদ্ধারা অস্ত্রাগারের দেয়ালে আরডিএক্স লাগানো শুরু করেছে। কমান্ডার শমসের বুঝতে পারল তাদের হাতে এখন আর সময় বেশি নেই। পাকিস্তানী সৈন্য সেখানে এসে পৌঁছানোর সাথেই গেরিলা যোদ্ধাদের এলএমজি গুলো গর্জে উঠলো। মুহূর্তেই পাকিস্তানি সৈন্যদের দলটি ধরাশায়ী হলো।
এলএমজির গুলির শব্দে আর্মি ক্যাম্পের সাইরেন বেজে উঠল। তখন শমসের সমস্ত যোদ্ধাকে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকতে বলল। সবাই যার যার অস্ত্র নিয়ে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পরল। আর এদিকে যেই দল বিস্ফোরক লাগাচ্ছিল অস্ত্রাগারে তাদেরকে তাড়াতাড়ি করতে বলল। কিছুক্ষনের ভিতর তারা দেখতে পেলো পাকিস্তানি সৈন্যদের বড় একটি দল আসছে। যদিও তারা তাদের জন্য তৈরি হয়েছিলো।
কিন্তু হঠাৎ এমন একটি ঘটনা ঘটল যার জন্য তারা মোটেই প্রস্তুত ছিল না। পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের উপরে মর্টার হামলা করলো। একটি মর্টারের গোলা এসে পড়ল গেরিলা যোদ্ধাদের পিছনের দিকে। তাতে দুজন গেরিলাযোদ্ধা গুরুতর আহত হল। কিন্তু কেউ তার অবস্থান থেকে নড়ছিলো না। শমসের বুঝতে পারছিল তাড়াতাড়ি মিশন সফল করতে না পারলে কেউ বেঁচে ফিরতে পারবে না।
কারণ এই ক্যাম্পে কয়েক হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আছে। এর ভিতর একজন গেরিলা যোদ্ধা তাদেরকে খবর দিলো যে তারা পেছনের যে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছিল সেই রাস্তায় পাকিস্তানী সৈন্যরা চলে এসেছে। এখন শমসেরের দল বলতে গেলে চারদিক থেকে পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে রয়েছে। শমসেরের মাথায় তখন একটি চিন্তাই খেলা করছে। যেভাবেই হোক এই অস্ত্রাগার ধ্বংস করতে হবে। তাতে যদি পুরো টিমের সবাইকে শহীদ হতে হয় তাতেও তার আপত্তি নেই।
ইতিমধ্যে অস্ত্রাগারের দেয়ালে আরডিএক্স লাগানো শেষ হয়েছে। তখন শমসের নতুন একটি পরিকল্পনা করলো। পাকিস্তানী সৈন্যরা মনে করেছে শমশেররা যেদিক দিয়ে এসেছে সে দিক দিয়ে বের হয়ে যাবে। এজন্য তারা পিছনের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু সে ঠিক করলো তারা অন্য এক পাশ দিয়ে রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে বের হয়ে যাবে। শমসের তখন তার সাথের যোদ্ধাদের ইশারা করলো সেই দিকে অগ্রসর হতে।
সবাই ঝড়ের বেগে সে দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো। হঠাৎ করে সে দিক থেকে তাদের দিকে মেশিনগানের গুলি আসতে লাগলো। শমসের একজন রকেট লঞ্চার বহনকারীকে ইশারা করলো সেই মেশিনগানারকে নিশানা করতে। মুহুর্তেই সেই মেশিনগান পোস্টটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল। সেখানে আরও কয়েকজন সৈন্য ছিল যারা শমসেরদের দিকে গুলি করেছিলো। কিন্তু শমসেরের দলটি একযোগে সেদিকে আক্রমন করায় তারা সুবিধা করতে পারছিল না।
তারা অতি দ্রুত অন্যদিকের দেয়ালের কাছে পৌঁছে গেলো। তারপর তারা দেয়াল টপকে ক্যাম্পের বাইরে পাশের রাস্তায় চলে এলো। যখন গেরিলা যোদ্ধাদের দলটি মনে করছে এ যাত্রায় বেঁচে গিয়েছে। তখন দেখে রাস্তার দুদিক থেকে দুটি আর্মি বোঝায় ট্রাক আসছে। তারা দ্রুত রাস্তার পাশের ঝোপের ভিতর আশ্রয় নিলো। তারপর সেখান থেকে সবাই ট্রাক দুটিকে নিশানা করে গুলি করতে লাগলো।
ততক্ষনে পাক আর্মিরা ট্রাক থেকে নেমে পজিশন নিয়ে গেরিলা যোদ্ধাদের দিকে গুলি ছুঁড়তে শুরু করেছে। এর ভিতর রকেট লঞ্চার বাহি একজন গেরিলা যোদ্ধা রকেট ছুড়ে একটি ট্রাক ধ্বংস করে দিলো।শমসের বুঝতে পারলো অল্প সময়ে আরো অনেক পাকিস্তানি সৈন্য সেখানে উপস্থিত হবে।(চলবে)
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ভাইয়া আজ আমার সত্যি কিছু বলার নেই। কারন আমি এই যুদ্ধের কাহিনী আগে মনে হচ্ছে কখনোই পড়িনি। একটা যুদ্ধের আগে কতটা প্লান আর যুদ্ধের সময় কতটা রিস্ক দেশের প্রতি কতটা ভালবাসা থাকলে এভাবে মরনকে জয় করা সম্ভব।