সাইকেল চালাতে গিয়ে পা ভাঙার স্মৃতিময় গল্প //পর্ব-৩

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


আমাদের জীবনে অনেক স্মৃতিময় মুহূর্ত রয়েছে। এই দিনগুলোর কথা মনে হলে অনেক বেশি ভালো লাগে। আসলে পুরনো দিন আমরা আর কখনোই ফিরে পাবো না। তবে পুরনো দিনের স্মৃতি নিয়ে যেন আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। আর এই স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা ভাবলেই সেই দিনগুলো ফিরে পেতে খুবই ইচ্ছা করে। আমি জীবনে প্রথম সাইকেল চালানোর মুহূর্ত অনেক আনন্দের সাথে উপভোগ করেছি। তেমনি একটি দুর্ঘটনাও ঘটেছিল, যার কারণে এই মুহূর্তটা আমি আর কখনো ভুলতে পারিনি। আজও যেন মনে পড়ে সেই দিনের কথা। তাই সাইকেল চালানোর স্মৃতিময় এই গল্পটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতেছিলাম। আজকে সেই গল্পের শেষ পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি আজকের শেষ পর্বের গল্প পড়ে আপনাদের পড়ে ভালো লাগবে।


cycle-2145189_1280.png

source

তো মামার সাইকেল আমি যখন রাস্তা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন আমার বন্ধু বলল ও নিজে চালাবে, তখন বন্ধু চালাচ্ছিল এবং চালাতে গিয়ে সাইকেলটি রাস্তার নিচে ফেলে দেয় এবং আমি গাছের সাথে বারি খেয়ে আমার পা কেটে যায়। আর বন্ধু নিচে পড়ে যায় তখন আস্তে আস্তে উঠল এবং বন্ধু গিয়ে মামাকে ডাকল। মামাকে আমার কথা বলে ওর বাড়ি চলে গেছে। আসলে মামাকে বলেছিল যে আমি নিজেই সাইকেল চালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পা কেটে ফেলেছি। কিন্তু আমার বন্ধু তখন চালাচ্ছিল, মামা এসে তখন আমাকে উপরে উঠালো এবং দেখল পা অনেকে কেটে গেছে।তখন মামা তার পকেট থেকে রুমাল বের করে আমার পা ভালো করে বেঁধে দিল। যাতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।


তারপরে মামা আমাকে সাইকেলে করে বাড়িয়ে নিয়ে আসলো। আসলে পা অল্প কেটে গিয়েছিল, যার কারণে বাড়িতে কিছুক্ষণ আমি শুয়ে থাকলাম শুয়ে থাকার পরে আবারো সাইকেল চালাতে খুবই ইচ্ছা হলো। আসলে প্রথম প্রথম যখন সাইকেল চালানো শেখা হয়, তখন সাইকেল চালানোর প্রতি অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে এবং এই সাইকেল যখন এক দুই প্যাটেল করে চালানো শেখা যায়, তখন যেন আরও বেশি এই সাইকেল চালাতে ইচ্ছা করে। যানো পূর্ণাঙ্গভাবে সাইকেল চালাতে পারি।


আমার পা কেটে গিয়েছিল এই পায়ে ভালো করে ব্যান্ডেজ করে আবারও সাইকেল চালানো শুরু করে দিলাম। মা এবং মামা অনেক বকাবকি করেছিল তখন, যে কাঁটা পা নিয়ে কেন সাইকেল চালাতে হবে। আসলে তখন আমার সাইকেল চালাতে খুবই ইচ্ছা করতেছিল। আর প্রথম প্রথম সাইকেল চালানোর মজাটাই দারুন ছিল। যার কারণে আমি কারো কথা না শুনে ওমনি কষ্ট করে সাইকেল চালিয়েছিলাম এবং আমি তখন ভালই সাইকেল চালাতে পারতেছিলাম, যার কারণে আরো যেন বেশি ভালো লাগতেছিল।


এভাবে আস্তে আস্তে আমি সাইকেল চালিয়ে, সাইকেল চালানো শিখেছিলাম। আর মামার সাইকেল দিয়ে আমি প্রথম সাইকেল চালানো শিখেছিলাম, যার কারণে আমার নানা এই সাইকেল চালানো জানতে পেরে আমাকে কিছুদিন পরে একটি সাইকেল কিনে দিয়েছিল। আর সেটি ছিল আমার জীবনের প্রথম সাইকেল। আর এই সাইকেল চালিয়ে আমি স্কুলে যেতাম। আমার অনেক বেশি ভালো লাগতো, কারণ আমাদের গ্রামে, আমার সাথে যারা বন্ধু ছিল তাদের মধ্যে মাত্র দুই তিন জনের সাইকেল ছিল। একসাথে সাইকেল চালিয়ে আমরা স্কুলে যেতাম, অনেক আনন্দের সাথে সেই দিনগুলো পার করতাম। আর এই সাইকেলটি আমার কাছে যেন এখনও রয়েছে। তো বন্ধুরা আশা করছি আমার সাইকেল চালানোর এই স্মৃতিময় গল্পটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে। 🙏🤲🙏

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Sort:  
 last year 

GridArt_20250216_010755324.jpg

 last year 

আপনার আগের পর্বের পোস্ট পড়েছিলাম যেটা আপনার বন্ধু আপনার নিজের দোষ দিয়ে চলে যায়।যাই হোক আসলে নতুন নতুন সাইকেল চালানো শিখলে তখন আরো বেশি করে সাইকেল চালাতে মন চায়।পা ভাঙ্গা না মন ভাঙ্গা সেসব দেখি না।যাই হোক এটা অনেক আনন্দময় যকন সব বন্ধু মিলে সাইকেল চালিয়ে স্কুল যাই।ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.33
JST 0.080
BTC 63435.26
ETH 1684.80
USDT 1.00
SBD 0.41