বাবার সাথে মামা বাড়ি যাওয়ার গল্প

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


lamp-2903830_1280.jpg

source

আজকে আমি আপনাদের মাঝে বাবার সাথে মামা বাড়ি যাওয়া ভয়ানক গল্প শেয়ার করতে আমলাম।রাত তখন প্রায় ১০টা। হঠাৎ বাবার ফোনে খবর এলো,মামা গুরুতর অসুস্থ। বাড়ি থেকে মামার বাড়ি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে, গ্রাম্য পথ, মাঝখানে গভীর বাঁশঝাড় আর একটা পুরোনো কবরস্থান পেরিয়ে যেতে হয়। মা অনেক অনুরোধ করেও থামাতে পারলেন না। বাবা বললেন,
তুই চল আমার সাথে, একা যেতে ভালো লাগছে না।

আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। ছোট হলেও বেশ সাহসী ভাবতাম নিজেকে। বাবার সাথে বেরিয়ে পড়লাম টর্চলাইট হাতে। বাতাসটা কেমন যেন ঠান্ডা আর ভারী লাগছিল। চাঁদ ছিল না, আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। চারদিকে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।বাঁশঝাড়ের কাছে পৌঁছেই প্রথম অস্বস্তিটা টের পেলাম। হঠাৎ করে বাতাস থেমে গেল। পাতা কাঁপছিল না, এমনকি ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকও বন্ধ। ঠিক তখনই টর্চটা নিভে গেল। কেমন যেন শিরশিরে ঠান্ডা একটা হাওয়া গায়ে লাগল। বাবার গলা শুনে চমকে উঠলাম,এই জায়গাটায় দাঁড়াস না, চল জলদি বেরিয়ে যাই।

আমরা পা চালাতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে বাবার মুখ থমথমে হয়ে গেল। সামনে কবরস্থান, অথচ গেটটা খোলা। সাধারণত এই গেট তালাবদ্ধ থাকে। ভেতরে তাকিয়ে দেখি, এক কোণে একটা সাদা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু ওটা এক জায়গায় অনড়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, যেন বাতাসেও নড়ছে না।

হঠাৎ ছায়াটা মৃদু আওয়াজে কাঁদতে লাগল। খুব ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকাল। তার চোখ ছিল না,দুইটা ফাঁকা কোটর, কালো গহ্বর! বাবার হাত শক্ত করে ধরে ফেললাম। বাবা টেনেহিঁচড়ে আমাকে নিয়ে দৌড় শুরু করলেন। পেছন থেকে মনে হলো সেই কান্নার আওয়াজটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে, যেন আমাদের সাথেই ছুটছে!

বাঁশঝাড়ের শেষে এসে হঠাৎ করে টর্চটা আবার জ্বলে উঠল। আমরা আর পেছন ফিরে না তাকিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে মামার বাড়িতে পৌঁছালাম। দরজা খোলার সাথে সাথেই হুশ করে একটা ঠান্ডা বাতাস ঢুকে গেল ঘরের ভেতর।মামা তখন একটু ভালো বোধ করছিলেন। চাচি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা এত দেরি করলে কেন?বাবা কিছু বললেন না, শুধু বললেন, ও পথে আর কখনো যাব না।


সেই রাতের পর থেকে বাবা আর কখনো আমাকে নিয়ে রাতে মামার বাড়ি যাননি। আমি এখনো মাঝেমাঝে ঘুমের মধ্যে শুনি সেই কান্নার আওয়াজ,একটা সাদা ছায়া, অন্ধ চোখ, আর সেই থমথমে কবরস্থান।সময়টা অনেক ভয়ানক ছিলো মনে হলে এখুন ভয় জেগে ওঠে আমার মনে।🙏🤲🙏

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Sort:  
 last year 

বাবার সাথে মামা বাড়ি যাওয়ার গল্প শেয়ার করেছেন।গল্পে ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করতে আপনি অন্ধকার, নিস্তব্ধতা, কবরস্থান এবং অদ্ভুত শব্দের ব্যবহার করেছেন, যা আমাদেরকে রোমাঞ্চিত করেছে।শেষে অসমাপ্ত রহস্য রেখে দেওয়া ভালো হয়েছে, যা আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে। তবে, ওই সাদা ছায়া কী ছিল বা কেন কবরস্থানের গেট খোলা ছিল—এসবের ইঙ্গিত থাকলে গল্পটি আরও রহস্যময় হতো।

🎉 Congratulations!

Your post has been manually upvoted by the SteemX Team! 🚀

SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem ecosystem.

🔗 Visit us: www.steemx.org

✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5

banner.jpg

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 58423.66
USDT 1.00
ETH 1523.07
SBD 0.42