বৃষ্টি ভেজা মাঠে স্কুল জীবনের ফুটবল খেলার আনন্দ
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
স্কুল জীবন মানেই বই,খাতা, পরীক্ষা আর শিক্ষকের শাসনের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো অমূল্য কিছু মুহূর্ত। আর সেই মুহূর্তগুলোর মধ্যে ফুটবল খেলার আনন্দ ছিল একেবারেই আলাদা। বিশেষ করে যে দিনটা ছিল বৃষ্টির দিন,সেই দিনটার কথা মনে পড়লেই এখনো মনে ভরে যায় একরাশ আনন্দ আর হাসি।সেদিন সকাল থেকেই আকাশটা ছিল মেঘলা। ক্লাসে বসে আমরা জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখছিলাম টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। শিক্ষক পড়াচ্ছিলেন, কিন্তু আমাদের মন পড়ে ছিল মাঠের দিকে। টিফিনের সময়ে বৃষ্টি একটু কমতেই সবাই একসাথে সিদ্ধান্ত নিলাম,আজ ফুটবল খেলতেই হবে। ভেজা মাঠ, কাদামাটি আর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যেন আমাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিল।
স্কুলের মাঠে পা রাখতেই জুতা কাদায় ডুবে গেল। কেউ কেউ জুতা খুলেই খেলতে নেমে পড়ল। বলটা ছিল পুরোনো, কিন্তু আমাদের উচ্ছ্বাস ছিল নতুনের মতো ঝকঝকে। বৃষ্টি ভেজা বাতাসে দৌড়ানোর অনুভূতি ছিল অসাধারণ। কেউ পড়ে যাচ্ছে, কেউ আবার কাদায় পিছলে গিয়ে হাসিতে ফেটে পড়ছে। গোল হলে যেমন আনন্দ হচ্ছিল, তেমনি গোল মিস করলেও কেউ রাগ করছিল না। কারণ সেদিনের খেলাটা ছিল জয়ের জন্য নয়, ছিল খাঁটি আনন্দের জন্য।
বন্ধুদের সঙ্গে সেই মুহূর্তগুলোতে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। ধনী,গরিব, ভালো খেলোয়াড় খারাপ খেলোয়াড়,সব পার্থক্য মিলিয়ে গিয়েছিল। সবাই ছিল শুধু বন্ধু। মাঠে একে অপরকে ডাকাডাকি, হাসি, ঠাট্টা আর উৎসাহ দেওয়ার শব্দে পুরো পরিবেশটা হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত।খেলা শেষে আমরা সবাই ছিলাম কাদায় মাখামাখি। ইউনিফর্ম ভিজে গেছে, চুল থেকে বৃষ্টির পানি ঝরছে, তবু কারো মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল না। বরং ছিল এক ধরনের তৃপ্তি। ক্লাসে ফিরে শিক্ষক একটু বকাঝকা করলেও আমাদের মুখের হাসি লুকানো যায়নি। কারণ আমরা জানতাম,এই স্মৃতিগুলোই একদিন আমাদের সবচেয়ে প্রিয় হয়ে থাকবে।
আজ স্কুল জীবন শেষ হয়ে গেছে। মাঠে আর সেইভাবে বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ফুটবল খেলা হয় না। তবুও যখনই বৃষ্টি নামে, মনটা যেন ফিরে যায় সেই ভেজা মাঠে, সেই বন্ধুত্বের কাছে। স্কুল জীবনের সেই বৃষ্টি ভেজা ফুটবল খেলার দিনটা শুধু একটি দিন নয়,এটা আমাদের শৈশবের সবচেয়ে আনন্দময়, নির্ভেজাল স্মৃতিগুলোর একটি।