নদীর ধারে মাছ ধরার স্মৃতিময় গল্প//পর্ব-১
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
গ্রীষ্মের ছুটির দিন। দুপুরের রোদটা যেন আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছিল চারপাশে। রোদের তাপে পাকা আমগুলো গাছ থেকে পটাপট ঝরছে। গ্রামের মানুষজন যে যার কাজে ব্যস্ত, কেউ ধান শুকাচ্ছে, কেউ ছাল-বিছানো উঠোনে বসে কাঁথা সেলাই করছে।আমার সকালটা শুরু হয়েছিল অলসতায় গড়াগড়ি দিয়ে। তখন ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় হঠাৎ জানালার পাশ দিয়ে এক পরিচিত কণ্ঠস্বর কানে এলো। ঐ রায়হান! শুয়ে থাকিস নাকি এখনো? চল, মাছ ধরতে যাই।
চোখ খুলে দেখি শামীম। গলায় গামছা, হাতে বাঁশের কঞ্চি আর একটা ময়লা পলিথিন ব্যাগ,যেটার ভেতর থেকে কেঁচোর গন্ধ প্রায় জানালায় ঢুকে পড়ছে।আমি হাই তুলে বললাম,এখন মাছ ধরতে যাবো? মাথা ঠিক আছে তোর?শামীম গম্ভীরভাবে বলল,নদীতে জল কমেছে, এমন সময় মাছ পাড়ে আসে খাবার খুঁজতে। আজ গেলে এক ঝাঁপি মাছ ধরব।তার যুক্তির সাথে লড়াই করার শক্তি আমার ছিল না। ১৫ মিনিটের মধ্যে কাঁধে বাঁশের বড়শি, পকেটে গুড়মাখা মুড়ি আর একটা কলার খোসায় কেঁচো ভরে আমরা রওনা দিলাম নদীর দিকে।
রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখা হয়ে গেল আমাদের গ্রামের সবচেয়ে কৌতূহলী মানুষ, সুফিয়া খালা। তিনি সবকিছুতে নাক গলাতে ভালোবাসেন।এই শামীম, রায়হান, কোথায় যাও গরমে মধ্যে ?মাছ ধরতে যাচ্ছি খালা, আমি উত্তর দিলাম।ওহ্! আবার নদীতে গিয়ে না ঘোল করে আসিস! গতবার তো তোরা গিয়ে হাসেম ভাইয়ের জাল ছিঁড়ে দিয়েছিলি।
শামীম হাসতে হাসতে বলল,আরে খালা, ওটা দুর্ঘটনা ছিল! আজ আমরাই হাসেম কাকার থেকে বড় মাছ ধরব, দেখেন,
খালা মাথা নাড়লেন, মুখে কৌতূহলের ছায়া।রাস্তা পেরিয়ে খেতের ধার ধরে হাঁটতে হাঁটতে আমরা পৌঁছালাম নদীর ধারে, যে জায়গাটায় একটা বটগাছ, পাশে ঝোপঝাড়, আর সামান্য একটা বাঁধানো ঘাট আছে।
নদীটা বেশ শান্ত, কিন্তু জলে মাঝে মাঝে ছিপছিপে ঢেউ উঠছে। পাড়ে দাঁড়ানো একটা বক হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে একটা ছোট মাছ খেয়ে ফেলল।শামীম বলল,ওই! আমাদের মাছ আগে খেয়ে ফেলছে,আমি হেসে বললাম,তোকে বলছিলাম না, বকদের আগে মাছ ধরতে পারলে তবে আসল কামাল,বাঁশ পুঁতে বড়শি গেঁথে ফেললাম আমরা। শামীম তার সেই সিক্রেট টোপ বের করল,গুড়, মুড়ি, সরিষার তেল আর লাল মরিচ দিয়ে বানানো এক বিচিত্র মিশ্রণ। আমি বললাম,তুই এটা মাছ ধরতে এনেছিস, না মাছ তাড়াতে?
কিন্তু শামীম তার গবেষণার ব্যাপারে দৃঢ়। বড়শি ছুঁড়ে দিয়ে বলল,দেখিস, আমার টোপে রুই উঠবে, তুই তাকিয়ে থাকবি!প্রথম ১০ মিনিট নীরবতা। হঠাৎ দেখি আমার বাঁশটা একটু দুলছে।ওই দেখ, টান পড়ছে,টান দিতেই বের হলো একটা মাঝারি পুঁটি মাছ। শামীম বলল,তুই ভাগ্যবান, আমি তো বিজ্ঞানী,এরপর হঠাৎ ঘটল বিপত্তি। শামীম টান দিতে গিয়ে ব্যালান্স হারিয়ে পানিতে পড়ে গেল!
https://x.com/rayhan111s/status/1922254527220142135?t=33yJ9zIwHC9xHsszOd19EQ&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1922355827534360793?t=tWySNLT7Y9PwouSaAefW6g&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1922356424983629840?t=PbHCZt76t6b862aItSB5ZA&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1922356802265452580?t=mvfLoZ5rJr_ubuuSuSmSPw&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1922357145758007496?t=O9xC2E2x3XLlg8eW5V4Alw&s=19