মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে ঝরে গেল একটি প্রাণ, স্মৃতির পাতা থেকে গল্প//পর্ব-১
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
আমরা প্রত্যেকেই মোটরসাইকেল ভ্রমণ করতে খুবই ভালোবাসি। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে মোটরসাইকেলের প্রতি যেন অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে এবং স্বপ্ন থাকে মোটরসাইকেল কিনবে। আর এই মোটরসাইকেল করে সে ভ্রমণ করবে। আসলে প্রত্যেকেরই মনের ভিতরে সুন্দর একটা বাইকের আশা থাকে। আর এই স্বপ্নের বাইক নিয়ে ভ্রমণ করার ইচ্ছা যেন আমাদের প্রত্যেকেরই মনে রয়েছে। সেই স্বপ্নের বাইক নিয়ে যখন এক্সিডেন্ট করা হয় তখন যেন অনেক খারাপ লাগে এবং অনেক বেশি কষ্ট দেয়। নিজের কাছেও, আসলে এক্সিডেন্ট কখনোই ইচ্ছা করে হয় না। হঠাৎ করেই যেন জীবনের এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই স্মৃতির পাতা থেকে একটি দুর্ঘটনার গল্প আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে আসলাম। আশা করছি গল্পটি পড়ে ভালো লাগবে।
আমার বন্ধু সাজু ও হাই স্কুল জীবনের প্রথম থেকেই একটা বাইক কিনবে এটাই যেন ওর মনের আশা ছিলো। স্কুলে কোন স্যারদের বা বড় ভাইদের ভালো মানের কোন বাইক দেখলেই ও যেন সেই বাইকের দিকে চেয়ে থাকে এবং কল্পনা করতো আমারও একদিন অনেক বড় একটা বাইক হবে। আমিও সেদিন অনেক ঘোরাঘুরি করব, আসলে ওর স্বপ্নটা খুব একটা বড় ছিলো না, তবে ওর স্বপ্ন ছিল সুন্দর একটা বাইক হবে। ঘুরে বেড়াবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। যার কারণে ও যেন প্রত্যেকটা মানুষের বাইকে দেখলেই যেন কিনতে চায়তো।ভমণ করতে সাজু খুবই ভালোবাসতো। যার কারণে ও বাইক কেনার প্রতি খুবই সিরিয়াস ছিল, ও যখন ক্লাস নাইনে ওঠে তখন ওর বাবাকে বলে একটা বাইক কেনার ব্যবস্থা করে দেয়। ওর বাবা কিনে দিতে চায় না কিন্তু ও অনেক জোরাজুরি করে। যার কারণে ক্লাস টেনে গিয়ে ওর বাবা ওকে একটা বাইক কিনে দেয়।
সাজু সেই বাইক পেয়ে অনেক আনন্দিত হয়। যার কারণে ও সাত দিন স্কুলে আসেনি। সেই বাইক নিয়েও ঘুরে বেড়িয়েছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। আসলে এই বাইক দেওয়ার পরে ওর পড়াশোনা করার কথা আরো ভালো ছিল, বলেছিলো ভালো করে পড়াশোনা করবে। কথা দিয়েছিল কিন্তু ও বাইক কেনার পরে যেন পড়াশোনার দিকে আর মনে দিতে পারল না। একটানা শুধু ঘুরে বেড়াতে বেড়াচ্ছিলো এবং অনেক জায়গায় ঘুরাঘুরি করলো, শেষমেষ দেখা গেল ও পড়াশোনা করছে না। তখন ওর বাবা ওর বাইকের চাবিটা নিয়ে নেয়, বলে পড়াশোনা না করলে বাইক আর দেবো না, আসলে অনেক দিন বাইক আর দেয়নি তারপরে বলল ঠিক আছে আমি এখন থেকে পড়াশোনা করব, যার কারণে ওর বাবার স্বার্থ দিলো, ও তারপরে থেকে বাইক চালাতে লাগলো।
তারপরে থেকে সাজু ঠিকঠাক পড়াশোনা করতে লাগলো এবং সাজু ভালোভাবে পড়াশোনা করার কারণে ওর বাবা ওকে বাইকের চাবিটা দিয়ে দিল। তারপরে প্রতিদিন আমরা বিকেল বেলা বাইকে করে যমুনা নদীর পাড়ে আসতাম এবং পাড়ে সৌন্দর্যময় মুহূর্তগুলো উপভোগ করতাম। একদিন আমরা ঠিক করলাম যে আমরা যমুনার ব্রিজ দেখতে যাব। যার কারণে আমি হাসানের বাইকে আর সাজুর বাইকে উঠেছিল রফিক। এই চারজন মিলে যাচ্ছিলাম, তো হাসান অনেক সুন্দর ভাবে বাইক চালায় আস্তে আস্তে। কিন্তু সাজুর মাঝে মধ্যে বলে যে চল আমরা পাল্লা দেয়।কে আগে যেতে পারে। আমি বারবার না করতেছিলাম যে দরকার নাই দুর্ঘটনা ঘটে গেলে ফিরে আসবে না।
আসলে ছোটবেলা থেকে আমি গাড়িতে চললে ভয় পেতাম। যে দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। যার কারণে সাবধানে সাথে যাচ্ছিলাম। আর আমি হাসানকে বলতেছিলাম আস্তে আস্তে যায় এবং সাজুকে বলতেছিলাম পাল্লা দেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু সাজুর পেছনে যে রফিক ছিল রফিক শুধু বলে যে আরো জোরে চালা। এইভাবে জোরে চালানোর কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে ওদেরকে বলেও যেন বোঝানো যাচ্ছিল না। শেষমেশ আমরা যমুনা নদীর পাড়ের দিকে রওনা দিলাম এবং যমুনা নদীর পাড়েও আসলাম। পাড়ে এসে অনেক বেশি ভালো লাগলো, আমরা চার বন্ধু মিলে প্রকৃতির দৃশ্যগুলো দেখতে ছিলাম।
https://x.com/rayhan111s/status/1846862896564961284?t=RBiMfsfWoX7-9-kwDdodJA&s=19
বাইক দুর্ঘটনা এখন একটি অহরহ ঘটনা। আমাদের অসাবধানতা এবং কখনো কখনো ট্রাক ড্রাইভারদের মদ্য পান করে ট্রাক চালানো এসব দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিজেদেরই খানিকটা সাবধানতা অবলম্বন করে বাইক চালানো উচিত।