সাইকেল চালাতে গিয়ে পা ভাঙার স্মৃতিময় গল্প //পর্ব-২

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


ছোটবেলার স্মৃতি মনে হলেই যেন অনেক বেশি ভালো লাগে। মনে হয় যেন সেই পুরনো দিন যদি ফিরে পেতাম কতই না ভালো হতো। স্মৃতিময় কিছু মুহূর্ত আমাদের প্রত্যেকেরই জীবনে রয়েছে। আসলে আমরা সেই দিনগুলো কথা ভাবলেই যেন অনেক বেশি ভালো লাগে, কারণ সেই দিনগুলো কতই না আনন্দের সাথে আমরা পার করেছি। ছোটবেলা খেলাধুলার মুহূর্তগুলো অনেক বেশি আনন্দদায়ক ছিল। তেমনি একটি মুহূর্ত ছিল সাইকেল চালানো। আমাদের প্রত্যেকেরই জীবনের সাইকেল চালানোর মুহূর্তগুলো অনেক আনন্দের। প্রথম প্রথম আমরা যখন সাইকেল চালিয়েছি তখন কতই না ভালো লাগতো এখনকার আর ওইভাবে সাইকেল চালানো হয় না। এখন ছোট ছোট অনেক সাইকেল রয়েছে এবং দুটি ছোট চাকা রয়েছে, এই সাইকেল থেকে পড়ে যায় না। কিন্তু আমাদের সময় এরকম ব্যবস্থা ছিল না। তাই যেন সাইকেল চালানোর মুহূর্তগুলো আরো আনন্দ দাও এবং অনেক আবেগের ছিল। তো স্মৃতিময় সাইকেল চালানোর একটি গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করতেছিলাম, আজকে সেই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হলাম।


cycle-2145189_1280.png

source

তো আমি আমার মামার সাথে সাইকেল চালানো শিখতে ছিলাম, আর এই সাইকেল চালানোর মুহূর্ত গুলো অনেক বেশি ভালো লাগতেছিল। আমি তখন সাইকেলের রডের নিচ দিয়ে এক দু পা করে প্যাটেল করতেছিলাম। তখন আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগলো। আমি তো সাইকেল চালানো মোটামুটি শিখে গেছি, আসলে প্রথম প্রথম যখন একটু সাইকেল চালাতে পারতেছিলাম। তখন এত বেশি ভালো লাগতেছিল, মনের ভিতরে যেন অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করতে ছিল। তাই আমি এই সাইকেলটি নিয়ে আমাদের স্কুল মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তখন আমি এই সাইকেলটি হেঁটে হেঁটে নিয়ে যাচ্ছিলাম।


তো স্কুল মাঠে সাইকেল চালাতে চালাতে একটি গর্তের ভিতরে সাইকেলের চাকা গিয়ে আমি পড়ে গিয়েছিলাম। তখন বেশি ব্যথা পায়নি, মামা বলল যে সাইকেল প্রথম প্রথম চালাতে এরকম পড়ে যাবেই, কারণ আমরা যখন সাইকেল চালিয়েছি। তখন আরো অনেক ব্যথা পেয়েছিলাম, তখন ওই ব্যথাটি আমার কাছে কিছুই মনে হয়নি। তারপরে আমি আবারও সাইকেল চালানো শুরু করে দিলাম। তো একসময় আমার এক বন্ধু আসলো সে বলল আমাকে একটু দে আমি আগে থেকে সাইকেল চালানো পারি। আজকে একটু দেখি তোর মামার সাইকেল চালায়। ও আমার চাইতে অনেক বড় ছিল। তাই মামার সাইকেল চালাতে চায়লো। মামা বলল ঠিক আছে ওকে একটু দাও, ও চালিয়ে আসুক। তখন আমার ওই বন্ধু বলল যে তুইও সাইকেলের পেছনে চড়, তোকে নিয়েই আমি চালাতে পারবো।


তো আমার সেই বন্ধু অনেকদিন আগে সাইকেল চালানো শিখিয়েছিল। ও খুব একটা ভালো পারে না, তবে আমরা যখন সাইকেল চালাচ্ছিলাম ও মোটামুটি ভালই চালিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সামনে একটি মোটরসাইকেল আসে আর এই মোটরসাইকেল দেখে উভয় পেয়ে যায়। যার কারণে রাস্তা দিয়ে চালানোর সময় ও রাস্তার নিচের দিকে সাইকেলটি গড়িয়ে দিয়ে লাফ দিয়ে ও রাস্তার উপরে পড়ে যায়। আর আমি তো সাইকেলের পেছনে ছিলাম আমি সহ সাইকেল একদম রাস্তা থেকে ফসলের জমির মধ্যে চলে যায়।তাই পরে গিয়ে আমার পা অনেক কেটে যায়। সাইকেলটি গাছের সাথে লেগে যায় আর আমি নিচে পড়ে থাকি, আমার পায়ে দিয়ে তখন রক্ত বের হচ্ছিলো।


তখন আমার বন্ধু আমাকে একটু উঠিয়ে দিল এবং রাস্তার উপরে আমি বসে থাকলাম। সাইকেলটি নিচে পড়ে থাকলো। তখন বলল যে তোর মামাকে আমি ডাক দিয়ে নিয়ে আসি, তখন বললাম তাড়াতাড়ি যাহ,তখন আমি আমার পা চেপে ধরে রয়েছি। রক্ত তাও অল্প অল্প বের হচ্ছিল। আর আমার বন্ধু মামাকে এসে ডাকলো, মামা তখন আসলো আর আমার সেই বন্ধু আসেনি, ও ভয়ে বাড়ি চলে গিয়েছে। তো মামা আমাকে বলল যে তুমি কিসের জন্য সাইকেল চালিয়ে, এই রাস্তা দিয়ে। আমি মামাকে বললাম, আমি তো মামা চালাইনি, আমার বন্ধু চালিয়েছে। আমি তো পেছনে বসে ছিলাম। তখন বলল যে তোমার বন্ধুই তো বলল যে তুমি নাকি রাস্তার উপরে সাইকেল চালিয়েছো। আর পড়ে গিয়ে পা কেঁটে গেছে। তখন আমি মামাকে বললাম মামা আমি নিজে চালায়নি আমার বন্ধু মিথ্যা কথা বলেছে। মামা যখন বলল আচ্ছা ঠিক আছে, আগে তোমাকে বাড়ি নিয়ে যাই। তারপরে সকল ব্যবস্থা করবো, তো বন্ধুরা আজকের পর্বে এখানে শেষ করছি। আগামী পর্ব বাকি অংশটুকু শেয়ার করবো। 🙏🤲🙏

গল্পটি চলমান,,,,,,।

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Sort:  
 last year 

গল্পটা পড়ে খুব খারাপ লাগলো। কারণ আপনার বন্ধু আপনার মামার সাইকেল চালিয়ে নিয়ে গিয়ে আপনাকে এক্সিডেন্ট করিয়ে দিল। তাও আবার দোষটা আপনার উপরে চাপিয়ে দিল। আসলে এমন বন্ধু গুলো থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। যেখানে আপনাকে বিপদে ফেলে আবার দোষটা আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দিল। যাই হোক স্মৃতিচারণ গল্পটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 last year 

GridArt_20250209_015935463.jpg

 last year 

আপনার সাইকেল চালানোর স্মৃতি টি ভালো লাগলো। তবে আপনার বন্ধু দোষ করে পরে আপনার গায়ে চেপে দিলো।আসলে এটা আমার কাছে একদম ঠিক মনে হয়নি।এমনিতেই তো আপনি নতুন সাইকেল চালাচ্ছেন,তার উপর আপনার বন্ধু দোষ করে আপনার গায়ে চেপে দিলো। যাইহোক এইরকম বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্ট টি শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 63940.60
ETH 1804.05
USDT 1.00
SBD 0.38