গল্প রাইটিং- ভুল সিদ্ধান্ত
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন সৃষ্টিকর্তার রহমতে । আমিও আছি আপনাদের দোয়ার বরকতে জীবন নিয়ে ভালোই। তবে কেন জানি আজকাল ব্যস্ততাগুলো আমায় দারুন প্যারা দিচেছ। প্যারা দিচ্ছে জীবন আর সময় দুটোই। কিন্তু আমি তো ব্যস্ততা চাই না। চাই একটু শান্তি আর প্রশান্তি। চাই একটু স্বাধীনতা। যাই হোক এসব কথা বলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করে লাভ নেই। তাই চলে যাই আজ আপনাদের জন্য আমার লেখা সুন্দর গল্পে। যা কিনা বাস্তব জীবেন থেকে সংগ্রহ করা।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আমি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের বাস্তব কিছু ঘটনাকে গল্পে রূপ দিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে। যাতে করে আমার লেখার যাদুতে আপনারা মুগ্ধ হতে পারেন। যদিও সময় করে উঠতে পারি না। যদিও নিজের ক্রেয়েটিভিটি আপনাদের মাঝে তুলে ধরার সময় হয় না। তবুও চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল গল্পটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
রুহী ছিল একজন মেধাবী, স্বাধীনচেতা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান মেয়ে। সে জীবনে যা চেয়েছিল, তা সব সময় নিজেই অর্জন করতো। তার বাবা-মা তার জীবনে সবসময় তাকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, তবে একটাই জিনিস ছিল, যেটি রুহী সব সময় এড়িয়ে চলতো—ভালোবাসা। রুহী বিশ্বাস করতো, ভালোবাসা কেবল সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
একদিন, তার জীবনে এল অর্ক। অর্ক ছিল তার সহকর্মী, একজন খুবই পরিশ্রমী এবং মেধাবী ছেলে। প্রথম দেখাতেই রুহীর মনে কিছু একটা হয়েছিল। অর্কের হাসিমুখ, তার আত্মবিশ্বাস, এবং বুদ্ধিমত্তা সবই রুহীকে আকর্ষণ করেছিল। কিছুদিন পর, তারা একে অপরকে বেশি সময় কাটাতে শুরু করলো। রুহী প্রথমে তার অনুভূতিগুলো বুঝতে পারেনি, কিন্তু তার মনে একটা অজানা টান ছিল।
তবে রুহী জানতো, ভালোবাসা মানে দায়িত্ব, প্রতিশ্রুতি, আর সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ। সে কখনোই এই ধরনের জটিলতা নিতে চায়নি। তার কাছে, জীবনের লক্ষ্য ছিল পেশাগত সাফল্য, এবং সে মনে করতো যে ভালোবাসা তার পথের বড় বাধা হতে পারে।
একদিন, অর্ক রুহীকে একান্তভাবে বলেছিল, “রুহী, আমি জানি, আমাদের সম্পর্কটা অনেকটা নতুন, কিন্তু আমি তোমার কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই—তুমি কি কখনো আমাকে তোমার জীবনে জায়গা দিতে পারবে?”রুহী কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। তার মনে হয়েছিল, ভালোবাসা মানে অনেক কিছু—এটা একটি বড় সিদ্ধান্ত, এবং সে মনে করতো, সে প্রস্তুত ছিল না।
অর্কের অনুরোধে, রুহী বলেছিল, “আমার জন্য একটু সময় চাও, অর্ক। আমি মনে করি, আমি এই সম্পর্কটা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত নই। আমার পেশাগত লক্ষ্যগুলো আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”অর্ক কিছুটা অবাক হয়েছিল, তবে তার মুখে কোনো রাগ বা ক্ষোভ ছিল না। “আমি বুঝি, রুহী। আমি তোমার সিদ্ধান্ত সম্মান করি। তবে তুমি জানো, আমি তোমাকে হারাতে চাই না।”
রুহী জানতো, তার সিদ্ধান্তটি অর্ককে আঘাত করবে। তবে সে নিজের পথটি বেছে নিল। সে পেশাগত জীবনের প্রতি আরো মনোযোগী হতে শুরু করলো। তার কাজ, তার অর্জন, তার স্বপ্ন—সব কিছুই সে একে একে পূর্ণ করছিল।
কিছুদিন পর, রুহী অনুভব করলো যে, তার জীবনে কিছু একটা নেই। যদিও তার ক্যারিয়ার উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছিল, কিন্তু তার হৃদয়ে এক অদৃশ্য শূন্যতা ছিল। সে সবসময়ই সফল, কিন্তু অনুভব করছিল যে, সাফল্যের মাঝে কোনো সুখ নেই।একদিন, অফিসে বসে রুহী অর্কের ফেসবুক প্রোফাইল খুলে দেখেছিল। অর্ক এখন একজন সফল উদ্যোক্তা, এবং তার জীবনে এক নতুন মেয়েও এসেছে। রুহী একটু হতাশ হয়ে দেখছিল, “আমি যদি অর্ককে আমার জীবনে জায়গা দিতাম, তবে হয়তো তার সাথে আমার জীবন অন্যরকম হতে পারতো।”
সে উপলব্ধি করলো, জীবনে সাফল্য এবং ভালোবাসার মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত। ভালোবাসা শুধুমাত্র সুখের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে না, তা জীবনকে পরিপূর্ণ করে। রুহী জানতো, তার ভুল সিদ্ধান্তে সে নিজের কিছু ভালোবাসার মুহূর্ত হারিয়ে ফেলে ।
একদিন, রুহী আবার অর্ককে ফোন করলো। অর্ক যখন ফোন রিসিভ করলো, তার কণ্ঠে একটা অদ্ভুত শান্তি ছিল। “রুহী, তোমার ফোন পেয়ে আমি অবাক হয়ে গেলাম।”“অর্ক, আমি জানি যে আমি ভুল করেছি। আমি জানি, আমি তোমাকে সুযোগ দিতে পারতাম। কিন্তু আমি এখন বুঝতে পারি, ভালোবাসা সত্যিই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার।”অর্ক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেছিল, “আমি জানি, রুহী। আমাদের সম্পর্কের কোনো গ্যারান্টি ছিল না, কিন্তু আমি জানি, তুমি যে অনুভূতিটা শেয়ার করছো, সেটি আসল। আমরা সবসময় একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিন্তু জীবন কখনোই শেষ নয়।”
তারপর থেকে, রুহী আর অর্ক একে অপরকে নতুনভাবে বুঝতে শুরু করলো। তারা জানতো, সম্পর্কের মধ্যে অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত আসবে, কিন্তু সেই ভুল থেকেই শিখে জীবনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
জানিনা আপনাদের কাছে কেমন লাগলো আমার আজকের গল্পটি। জানার অপেক্ষায় রইলাম।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy