গল্প রাইটিং- অন্ধকারের মেয়ে রুনি -৫ম পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন সৃষ্টিকর্তার রহমতে । আমিও আছি আপনাদের দোয়ার বরকতে জীবন নিয়ে ভালোই। তবে কেন জানি আজকাল ব্যস্ততাগুলো আমায় দারুন প্যারা দিচেছ। প্যারা দিচ্ছে জীবন আর সময় দুটোই। কিন্তু আমি তো ব্যস্ততা চাই না। চাই একটু শান্তি আর প্রশান্তি। চাই একটু স্বাধীনতা। যাই হোক এসব কথা বলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করে লাভ নেই। তাই চলে যাই আজ আপনাদের জন্য আমার লেখা সুন্দর গল্পে। যা কিনা বাস্তব জীবেন থেকে সংগ্রহ করা।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আমি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের বাস্তব কিছু ঘটনাকে গল্পে রূপ দিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে। যাতে করে আমার লেখার যাদুতে আপনারা মুগ্ধ হতে পারেন। যদিও সময় করে উঠতে পারি না। যদিও নিজের ক্রেয়েটিভিটি আপনাদের মাঝে তুলে ধরার সময় হয় না। তবুও চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল গল্পটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
যাই হেক রুনি গেল তার বন্ধুর সাথে তার গ্রামের বাড়িতে। বেশ ভালোই লাগলো তার কাছে। গ্রামের সবুজের মাঝে নিজেকে যেন নতুন করে খুঁজে পেল রুনি। গ্রাম প্রকৃতি আর সবুজের মাঝে রুনি হারিয়ে গেল কিছু দিনের জন্য। মনে মনে রুনি বেশ খুশি। রুনি ভাবলো যাই হোক যদিও তার এই বন্ধু জন্য তার জীবনে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, হয়তো এইচ এস সি তে আশা অনুরূপ ফলাফল আসেনি তাতে কি সামনের পরীক্ষাগুলোতে রুনি সেটা কভার করে নিবে। ভালো বন্ধু পাওয়াটাও এক প্রকার ভাগ্য। সেই ভাবনায় রুনি তার বান্ধবীর সাথে ও তার পরিবারে হাসি খুশিতে কাটাতে থাকে।
কিন্তু একদিন রুনির মন বেশ খারাপ হয়ে গেল। রুনি গ্রামের প্রকৃতিতে ঘুরে এসে যখন দেখলো যে তার বন্ধুর বাসায় তাদের সাথে স্কুলে পড়া একজন ছেলে বেড়াতে এসেছে। কারন রুনি মন থেকে কখনও কোন ছেলে বন্ধু পছন্দ করে না। কিন্তু যেহেতু স্কুলে বয়েজ এন্ড গালস স্কুলে পড়াশুনা করেছে তাই তাকে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছেলেদের সাথে পড়তে হয়েছে। তবে এই ছেলেটিকে নিয়ে রুনির জীবনে বেশ কিছু ঘটনাও আছে। স্কুলে পড়ার সময় ছেলেটির সাথে নোট দেওয়া নেওয়া হতো। ছেলেটি রুনির বাসায় যেত। প্রায় সময় রুনির পড়ার সময় রুনি কে বাসায় গিয়ে পড়াশনায় ডিস্টাব করতো। কিন্তু রুনি ব্যক্তিগত ভাবে এসব পছন্দ করতো না।
আর ছেলেটির বিভিন্ন ব্যবহারে রুনি বুঝতে পেরেছিল যে ছেলেটি হয়তো তাকে পছন্দ করে। কিন্তু রুনির ইচেছ ছিল সে জীবনে লেখাপড়া শেষ করে তারপর এসব নিয়ে চিন্তা করবে। আর আজ ছেলেটিকে রুনি তার বন্ধুর বাড়িতে দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল। রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাতে গেল রুনি। যেহেতু বেড়াতে এসেছে তাই রুনি ভাবলো এখানে কাউকে কিছু বুঝতে দিবে না। এমন করেই দিন কাটাতে থাকে। কিছুদিন পর রুনি বুঝতে পারে যে রুনি যে পরিবার আর সৃষ্টচারের মধ্যে বড় হয়েছে তার বন্ধুর পরিবার তেমন নয়। তাই রুনি সিদ্ধান্ত নেয় যে রুনি ঢাকায় চলে আসবে। এবং রুনি ঢাকায় চলে আসে।
রুনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। রুনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আর পিছপা হবে না। এখন থেকে সব বন্ধুদের জীবন থেকে মুছে দিবে। সামনের দিকে এগিয়ে যাবে রুনি। বাবা মাযের স্বপ্ন পূরন করবে। তাই ব্যস্ততার মাঝে রুনি নিজেকে ডুবিয়ে দেয়। পড়াশুনা আর প্রাইভেট টিউশন করে রুনির জীবন চলে যায়। বাহিরের জগৎ এখন রুনির কাছে অপরিচিত। রুনি ভাবে তাকে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। বাহিরের বন্ধুরা রুনির জীবনে হয়তো অভিশাপ। এই ভাবনাতেই রুনি এগিয়ে যায় আগামীর পথে।
কিন্তু রুনি চাইলেই তো আর হবে না। একদিন রুনি প্রাইভেট শেষ করে বাসায় ফিরে দেখে যে তার বাসায় তার সেই বান্ধবী আর সেই ছেলেটি তাদের বাসায়। রুনির কেন যেন মনে হয়েছে যে ছেলেটি তার বান্ধবীকে বিয়ে করেছে। যাই হোক রুনি তাদের কে আপ্যায়ন করে বিদায় দিযে দিলো। পরে আরও একদিন রুনির সেই বান্ধবী আর সেই ছেলেটি আবার এসেছে এবং রুনি কে এক প্রকার জোড় করে তাদের সাথে বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যায়। রুনি নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে সেদিন গিয়েছিল। সেদিনও রুনির কাছে একই রকম মনে হয়েছিল। রুনির কাছে মনে হয়েছিল যে রুনির বান্ধবী সেই ছেলেটিকে বিয়ে করেছে।
যাই হোক বেশ কিছুদিন পরে রুনির স্কুল জীবনের এক বন্ধুর সাথে রুনির দেখা হয়। তখন রুনি সেই বন্ধুর কাছেই জানতে পারে যে রুনির ধারনাই সঠিক। তার সেই বান্ধবী আর সেই ছেলেটি বিয়ে করেছে। রুনি একটু কষ্টই পায়। রুনি ভাবে বান্ধবীকে সে এতটা ভালোবাসলো কিন্তু বন্ধুটি একবারও রুনিকে সে কথা জানায়নি। তাহলে কি লাভ এমন বান্ধবীর। আর সেই কারনেই রুনি নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এক প্রকার নিজেকে শক্ত করে আগামীর জন্য তৈরি করে। রুনি মনে মনে ভাবে এমন বন্ধু রেখে কষ্ট পাওয়ার থেকে একা একা সুন্দর জীবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বেশ ভালো। অথচ কি করেনি রুনি এই বান্ধবীর জন্য। কতকিছু জীবনে ত্যগ করেছে। মানুষ কি করে পারে এমন ব্যবহার করতে। রুনি বন্ধুত্বের বন্ধন হতে সরে গেলেও বন্ধুর এমন ব্যবহারে বেশ কষ্ট পায়। প্রতি রাতে বন্ধুর এমন ব্যবহার মনে করে রুনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। রুনি ভেঙ্গে পড়ে জীবনের একজন প্রিয় ব্নধুকে হারানোর বেদনায়। রুনি ভেঙ্গে পড়ে একজন ভালোবাসার বন্ধুকে হারানোর বেদনায়। তাই রুনি সিদ্ধান্ত নেয় এমন বন্ধুত্ব থেকে বিদায় জানানোর।
জানিনা আপনাদের কাছে কেমন লাগলো আমার আজকের গল্পটির আজকের পর্ব ? আপনাদের মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy