গল্প :- একজন দুঃখিনী মায়ের গল্প। শেষ পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগlast year

IMG-20250420-WA0001(1).jpg

ক্যানভা দিয়ে তৈরি,

হ্যালো বন্ধুরা,

সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে খুবই ভাল আছি।আজকে আমি আপনাদের মাঝে একটি বাস্তব গল্প শেয়ার করব। আশা করবো গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে। আমাদের চারপাশে প্রায় বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যেগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার অনেক বিষয় রয়েছে। এজন্য এই সকল বিষয়গুলো আপনাদের শেয়ার করলে আপনারাও অনেক কিছু শিখতে পারবেন। এমনকি অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে অবগত হবেন। এইজন্য আমি চেষ্টা করি বিভিন্ন বিষয়গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য। এখন মানুষের আসলে ভরসা নেই। একেকজন একেক ধরনের, এবং একেক জন একেক ধরনের মানসিকতার।

এবং আফ্রিকা যাওয়ার পর প্রায় দুই বছর পর রাবেয়া ছেলে চিন্তা করলো দোকান দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। যদিও আফ্রিকাতে তার খালাতো ভাই থাকে। তারাও বলেছে তাকে দোকান দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে তারা টাকা পয়সা দেবে। এভাবে রাবেয়া সংসার দিন দিন ভালো দিকে যাচ্ছে এবং টাকা পয়সাও মোটামুটি হচ্ছে। একদিন রাত্রেবেলা খবর আসলো পলাশকে আফ্রিকাতে দোকানে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলেছে। এই কথা শোনার পর সাথে সাথে পলাশের মা স্টোক করেছেন। কারণ একমাত্র ছেলে বিদেশ গেল মায়ের কষ্ট দূর করার জন্য। আর দুই বছর থাকা অবস্থায় ছেলেটি ভালোই টাকা পয়সা দিয়েছে মায়ের জন্য।

হঠাৎ করে ছেলেটির মৃত্যুর খবর শুনে তার মা স্টোক করে অসুস্থ হয়ে গেল। কারণ ছোটকালে রাবেয়া তার মাকে হারিয়েছে। অনেক কষ্ট করে সে বড় হয়েছে সৎ মায়ের সংসারে। বিয়ের পর স্বামী গরিব সেইখানও সেই সুখ পাই নাই কষ্ট করেছে। এখন বিদেশ যাওয়ার পর ছেলেটি তার পরিবার দেখবে এবং মা-বাবার সংসার উন্নতি করবে। আর বিদেশ থাকা অবস্থায় আফ্রিকান সন্ত্রাসীর হাতে পলাশ মারা গেল এতে শুনে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসলো। আর আমাদের এলাকা যত লোক শুনেছে সবাই ছেলেটির জন্য আফসোস করেছে। একদিকে তার ঘরে দুটি বড় বোন আছে এখন। তারপর আফ্রিকা থেকে ছেলেটির লাশ নিয়ে দেশে নিয়ে আসলেন এবং দাফন করেছেন। এদিকে পলাশের কারণে তার মা অসুস্থ হয়ে অনেকদিন পর্যন্ত কথা বলতে পারে নাই।

আস্তে আস্তে চিকিৎসা করার পর পলাশ এর মা একটু সুস্থ হয়েছেন। ওই সময় পলাশের বাবা আবার মানুষের কাজ করতেন মেয়ে দুটোকে খাওয়ানোর জন্য। তারপর থেকে পলাশের মায়ের সংসারে আবার অভাব নেবে আসলো। কারণ পলাশের বাবার জায়গা সম্পত্তি নেই শুধু ঘরের জায়গাটি আছে। পলাশ মারা যাওয়ার পর বিদেশ থেকে কিছু টাকা পেলেন। ওই টাকা গুলো দিয়ে তার দুটো বোনকে মোটামুটি দেখে শুনে বিয়ে দিয়েছেন। পলাশের মা রাবেয়া মনে করলো মেয়েরা সুখী হলে তার জন্য ভালো হবে। তবে পলাশের বড় বোনের হাসব্যান্ড নেশাগ্রস্ত একজন মানুষ।

সেই সারাক্ষণ নেশা নিয়ে পড়ে থাকে। আর পলাশের বোনকে মারধর করে। এতে করে পলাশের মা রাবেয়া মেয়ের কষ্ট দেখে একদম ভেঙে পড়েছে। কারণ দুটো মেয়েরা ছাড়া পলাশের মা আর কেউ নেই। পলাশ তো আগেই মরে গেল। পলাশের মা ভাই বোনদের থেকে টাকা নিয়ে পলাশের বোনের হাজব্যান্ডকে দিতেন। যাতে করে মেয়েটির সুখী হয়। আর পলাশের ছোট বোনের হাসবেন্ড মোটামুটি ভালো সেই স্বামী সংসার নিয়ে সুখে আছে। বিগত কয়েক মাস আগে পলাশের বড় বোনকে তার হাসবেন্ড তালাক দিয়েছেন। এবং পলাশের বড় বোন নিজের ছেলেকে নিয়ে তার মায়ের কাছে চলে গেলেন। কারণ পলাশের বোনের ছেলেটি এখনো ছোট। এরপর পলাশের মা-বাবা আরো ভেঙে পড়েছেন মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার কারণে।

অনেকে বলে কপালে সুখ না থাকলে কোন ভাবেই কপালে সুখ আসে না। যেমনটি পলাশের মায়ের কপালে সুখ নেই বললেই চলে। যদি পলাশ বেঁচে থাকতো তাহলে তার মায়ের জন্য ভালো হতো। আর কিছুদিন আগে পলাশের বাবা মারা গেলেন। বর্তমানে পলাশের মা রাবেয়ার বড় মেয়ে এবং তার ছেলেটি নিয়ে স্বামীর ঘরে বসবাস করেন। আর রাবেয়া যদি কোন মতে খাওয়া দাওয়া জোগাট করতে পারে মেয়ে এবং মেয়ের ছেলেকে নিয়ে খেয়ে থাকেন। এভাবে রাবেয়ার দিন যাচ্ছে। যদিও বর্তমানে রাবেয়া একদম অসুস্থ। কারণ স্বামীর সন্তান হারিয়ে সে কোনমতে বেঁচে আছে। এই হচ্ছে একজন দুঃখিনী মায়ের বাস্তব গল্প। আশা করি আমার গল্পটির পরে আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।

আমার পরিচয়

IMG_20221006_094439.jpg

আমার নাম মোঃ জামাল উদ্দিন। আর আমার ইউজার নাম @jamal7। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। প্রথমত বাঙালি হিসেবে আমি নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করি। কারণ বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। তার সাথে ফটোগ্রাফি করা আমার অনেক শখ। আমি যে কোন কিছুর সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফি করার চেষ্টা করি। তার সাথে ভ্রমণ করতেও ভীষণ ভালো লাগে। বিশেষ করে নতুন নতুন জায়গা ভ্রমণ করতে ভীষণ ভালো লাগে। তার সাথে লেখালেখি করতে ও ভীষণ ভালো লাগে। যে কোন বিষয় নিয়ে কিংবা যে কোন গল্প লিখতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আর সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা। নতুন ধরনের কিছু দেখলে করার চেষ্টা করি।
35FHZ8gBpndbrF88KC8i6DmfoqNdVfSnhzJshZCJksDJs27YpCCUjp1oaP6ko3mLJbQtLE76ZKc5r3aFXKh8EK2Xg2XbxHP97436Dksrat...K3RRDcGvdyC6bx3TE39Zctd2ho1pJ1hm9nj6RC6gfhhSEVDEf6zHmiqsgBwDTEDG8onxfxrWKe5ZMmiwAvtnX6XvsCqykCT5aFqMFBq2wcdKNs74j1RgTuza3g.png

A5tMjLhTTnj4UJ3Q17DFR9PmiB5HnomwsPZ1BrfGqKbjde9gvbjDSDFUe2t87sHycAo9yh4cXNBQ2uKuZLC2jPzA8Qx5HRSqkJDxCm2F1P...XMCuWWrUK8WEzc1spvbtGymKcxp9cSaiY7YD7nmGv2yy3TJjQK1R5Bx6mMsJqHLdPZ4gBXB1M3ZGWR3ESWZxh8hd9tvb68pfdL8xHrioiqDnHuRUqd8FYt5aog.png

ধন্যবাদ সবাইকে

IMG-20240904-WA0027.jpg

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 60144.09
ETH 1576.73
USDT 1.00
SBD 0.42