ভালোবাসার পরাজয়💔💔
"হ্যালো",
সবাইকে আমার নতুন একটি ব্লগে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি। ভালোবাসা আর কোন জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র কিছু মানে না।আর এসব মেনে কখনো ভালবাসাও হয় না। ভালোবাসা মনের অজান্তেই চলে আসে। সেই ভালোবাসায় যখন জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেই ভালোবাসা টিকে থাকা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। শতকরায় হয়তো দুটো একটা টিকে আর বাকিগুলো ঝরে পড়ে।তেমনি একটি গল্প নিয়ে আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।আশা করছি গল্পটা আজকে ভালো লাগবে আপনাদের কাছে।
গ্রামের নাম লক্ষীপুর সবুজ শ্যামলে ঘেরা গ্রাম।কিন্তু গ্রামের মানুষগুলো বড়ই অদ্ভুত। সব সময় জাত পাত নিয়ে পড়ে থাকে। তারা কোন থানা পুলিশ মানে না গ্রামের পঞ্চায়েত যা বিচার করে সেটাই তারা মাথা পেতে মেনে নেয়। লক্ষ্মীপুরের কয়েকটা নিচু জাতের বাসিন্দা আছে। সেই গ্রামের উঁচু জাতের লোকেরা তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে না যোগাযোগ রাখে না। এরই মধ্যে ঘটে যায় নতুন ঘটনা। রাধা এবং বিজয় লক্ষ্মীপুরেরই ছেলে মেয়ে। বিজয় লক্ষীপুরের উচু জাতের ছেলে এবং রাধা লক্ষীপুরের নিচু জাতের মেয়ে। একদিন বিজয় রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে রাধাকে দেখে খুব পছন্দ করে। সে রাধার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে কিন্তু রাধা কথা না বলে চলে যায়।
বিজয় রাধার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে বারবার দেখা করার চেষ্টা করে কিন্তু রাধা কিছুটাই পাত্তা দেয় না। কারণ রাধা জানে বিজয়ের সঙ্গে কথাবার্তা বললে তার সঙ্গে কোন সম্পর্কে জড়ালে তার পরিণতি কি হতে পারে। ভালোবাসা তো আর বলে কয়ে আসে না বা যোগ বিয়োগ করেও হয় না। একটা সময় বিজয় এবং রাধার মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা এদিক ওদিক ছুটে বেড়াই তাদের ভালোবাসার খুনসুটি নিয়ে।
একদিন তারা নদীর পাড়ে বসে গল্প করছিল। এমন সময় গ্রামের কিছু লোক তাদেরকে দেখতে পায়। সবকিছু পঞ্চায়েতে বলে দেয় তারা।সাথে সাথে পঞ্চায়েত থেকে ডাকা হয় তাদের পরিবারসহ তাদেরকে।এরপর তাদেরকে বলে দেওয়া হয় যাতে পরবর্তীতে তারা কোন যোগাযোগ না রাখে। তাদের পরিবারের লোকজনও তাদেরকে শাসিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর থেকে রাধা এবং বিজয় লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করে।
একদিন রাতে বিজয় লুকিয়ে লুকিয়ে রাধার সাথে দেখা করতে আসে। আর তখনই গ্রামের লোকেরা টের পেয়ে যায় এবং বিজয়কে ধরে মারপিট করে। মারতে মারতে একটা সময় বিজয়কে মেরে ফেলে।কারণ তাদের ধারণা বিজয়কে দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারে।তাই এটা কিছুতেই সফল হতে দেওয়া যাবে না। পরদিন সকালবেলা রাধা কিছুতেই ঘরের দরজা খুলছে না। রাধার মা বারবার দরজা ধাক্কাচ্ছিল কিন্তু রাধা সাড়া দেয় না। রাধার ঘরের দরজা ভাঙলে সবাই দেখে রাধা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।রাধার বাবা মা শুধু নীরবে কেঁদেই যায় তাদের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই।
এভাবেই তাদের পবিত্র ভালবাসা শেষ হয়ে গিয়েছিল কিছু লোকের নোংরা মানসিকতার জন্য। যদি মানুষ সুস্থ ভাবে বেঁচেই না থাকতে পারে তাহলে এই জাত পাত দিয়ে কি হবে। কি এমন ক্ষতি হতো যদি তাদের ভালোবাসা সবাই মেনে নিত। তাহলে হয়তো তাদের বাবা মার বুক খালি হত না। তারা তাদের সন্তানদেরকে হারাতেন না। এমনটা আগের যুগে হতো তবে এখনও এর পরিবর্তন হয়নি। শুধু হিন্দু সমাজে না প্রত্যেকটা সমাজে হয়ে থাকে এবং হয়তো আজও হয়।
জাত ধর্ম এগুলো দিয়ে মানুষকে বিচার করা যায় না মানুষ বিচার করতে হয় মানুষের মনুষত্ব দিয়ে। পরিশেষে একটা কথাই বলবো আমরা শুধুমাত্র নামের মানুষ আমাদের মনুষ্যত্বকে আমরা বিসর্জন দিয়েছি সামান্য ক্ষমতা এবং দাপটের কাছে। বন্ধুরা আজ এখানেই শেষ করছি। আশা করছি গল্পটা আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে অবশ্যই সুন্দর মতামতের মাধ্যমে জানাবেন।
আসলে এরকম কিছু মানুষের নষ্ট মানসিকতার জন্য এরকম কিছু ভালোবাসা অপূর্ণ থেকে যায় এবং অনেক মানুষের জীবনটা চলে যায়। বিজয় এবং রাধা ভিন্ন জাতের হলেও দুজন দুজনকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। তবে সমাজের ওই মানুষগুলো তাদের সম্পর্কটা মেনে না নেওয়ার কারণে দুজনেরই মৃত্যু হয়। হয়তো যদি সবাই তাদের সম্পর্কটা মেনে নিত তাহলে এরকম কিছুই হতো না। অনেক খারাপ লেগেছে গল্পটা পড়ে। আর এরকম মন মানসিকতা আমাদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দূর করা উচিত।
আসলেই বিষয়টা অনেক জটিলতা সম্পূর্ণ ছিল। নিয়তির কাছে হেরে গেছে ওরা।
এরকম খারাপ মন মানসিকতার মানুষগুলোকে আমি একটু দেখতে পারি না। আমাদের প্রত্যেকটা মানুষের উচিত এরকম মন মানসিকতা থেকে দূরে থাকার। ছেলেটা এবং মেয়েটাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। যার কারণে সবাই জেনে যাওয়ার পরেও তারা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করতো। আর এই জন্যই ছেলেটা মারা গিয়েছিল ওই মানুষগুলোর কারণে। আর এর পরবর্তীতে মেয়েটাও গলায় ফাঁসি দিয়ে মারা গিয়েছিল। যার ফলে ভালোবাসার একটা সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল।
ভালোবাসা যেখানে মুখ্য বিষয়, সেখানে আসলে বাধা দেওয়া কোন ভাবেই উচিত না।
সত্যি আপু এরকম কিছু নোংরা মানসিকতার মানুষের জন্য পুরো সমাজ নষ্ট। আসলে আমাদের সমাজে এমন লোক এখনো আছে যে পরিবার দেখে ভালোবাসা মেনে নেয় না। সত্যি এমন ঘটনা আগে ছিল কিন্তু এখন অনেক কম দেখা যায়। আসলে রাধার জন্য অনেক খারাপ লাগলো। দুজনের সম্পর্ক মেনে নিলে হয়তো তাদের বাবা মার কোল খালি হতো না।আসলে আপু ভালোবাসার পরাজয় হলে অনেক খারাপ লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন খুবই জরুরি আপু। কেননা এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
মানুষকে অবশ্যই মনুষ্যত্ব দ্বারা বিচার করতে হয় এবং ভালোবাসা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা শুনলে মনে হয়, আমরা আদি যুগে বসবাস করছি এখনো। উচু জাত নিচু জাত এসবের তারতম্য করাটা এই যুগে মোটেই মানানসই নয়। মূলত মানুষের কর্মটাই আসল। এমন প্রকৃত ভালোবাসার মিলন না হলে আসলেই খারাপ লাগে। আমরা আসলেই নামমাত্র মানুষ। প্রকৃতপক্ষে আমরা এখনো মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি। যাইহোক সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।