দবির মিয়ার অন্তহীন সংগ্রাম (পঞ্চম পর্ব)

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


কিন্তু তার পরিবার ছেড়ে কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। তাই শহরে রিকসা চালানোর পরিকল্পনা আপাতত বাদ দিয়ে দিয়েছে। মনে মনে চিন্তা করতে থাকে তার যদি কিছু জমিজমা থাকতো। তাহলে সেখানে বিভিন্ন রকম শাকসবজি চাষ করে মোটামুটি ভাবে তারা চলে যেতে পারতো। কিন্তু জমি বলতে শুধু তাদের ভিটাটাই রয়েছে। দবিরের বাবার অল্প কিছু জমি ছিলো। কিন্তু সে মারা যাওয়ার আগে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন সেই জমি বিক্রি করেই তার চিকিৎসার করানো হয়েছিলো। যার ফলে দবির মিয়া পৈত্রিক সূত্রে কোনো চাষের জমি পায়নি।

Black and Gold Fancy New Year Card_20240828_213002_0000.png

এসব চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে বুঝতেই পারে না। পরদিন সকালে উঠে জাল নিয়ে চলে যায় নদীতে। নদীতে গিয়ে সে বিসমিল্লাহ বলে জাল ফেলতে শুরু করে। চিন্তা করতে থাকে একটা মাঝারি সাইজের মাছ পেলেও বাজারে নিয়ে সেটা বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে মুরগি কিনতে পারবে আরো কিছু বাজারও সে করতে পারবে। কিন্তু নদীতে আজকাল আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও দবির মিয়া একেবারে ছোট ছোট সাইজের কয়েকটা চিংড়ি ছাড়া কিছুই পেলো না।

যখন সে চলে আসার জন্য ঠিক করেছে তখন হঠাৎ মত পরিবর্তন করে আরো একবার জাল ফেললো নদীতে। তবে এবার জাল উঠাতে গিয়ে বুঝতে পারলো জালে কোনো মাছ পড়েছে। জালটা উঠাতে গিয়ে দবির মিয়া বুঝতে পারে বেশ ভালো সাইজের একটা মাছ ধরা পড়েছে। মনে মনে সে আশান্বিত হয়ে ওঠে। বেশ কষ্ট করে যখন জালটা উপরে ওঠায় তখন দেখে প্রায় আট দশ কেজি ওজনের একটা কাতল মাছ উঠেছে। এত বড়ো মাছ দেখে সে খুশিতে অস্থির হয়ে যায়।
(চলবে)

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।




ধন্যবাদ

Sort:  
 2 years ago 

দবির মিয়া নদী থেকে এতো বড় সাইজের একটি কাতলা মাছ ধরতে পেরেছে, জেনে খুব ভালো লাগলো। দবির মিয়া এই মাছটি বিক্রি করে মুরগি সহ অনেক কিছুই কিনতে পারবে। তাছাড়া মুদি দোকানের বাকি টাকা কিছুটা হলেও পরিশোধ করতে পারবে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 61299.24
ETH 1623.99
USDT 1.00
SBD 0.41