পায়ে পায়ে কলকাতা: পর্ব ১৯
নমস্কার বন্ধুরা,
ভারতীয় উপমহাদেশে ধাতুর তৈরি মুদ্রা তৈরি করার পদ্ধতি একটা অনুরূপ দেওয়া রয়েছে। কিভাবে ধাতুকে গলিয়ে ছাঁচে বসিয়ে তাতে বিভিন্ন ধরনের ছাপ দিয়ে মুদ্রার বানানো হতো। প্রকৃষ্ট উদাহরণ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভারতীয় উপমহাদেশের রাজাদের মুদ্রা তে দেখতে পাওয়া যায়। উপমহাদেশের যতগুলো মুদ্রা ভারতীয় সংগ্রহলয়ের কাছে রয়েছে তার বেশিরভাগ এশিয়াটিক সোসাইটি এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া। নানা সময়ে বিভিন্ন প্রাদেশিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা খনন কার্যে যে সমস্ত বিপুল মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে তার কিছু অংশ কলকাতা জাদুঘরে রয়েছে। তাছাড়া উপহার ও ক্রয়ের মাধ্যমে বহু মুদ্রা ভারতীয় সংগ্রহালয়ের কাছে এসে পৌঁছেছে।
সবথেকে প্রাচীন যে মুদ্রা গুলো তা রূপো নির্মিত মুদ্রা। খ্রিস্টপূর্বাব্দ পঞ্চম শতকের কিছু প্রাচীন নিদর্শন এর সাথেই মুদ্রা গুলো পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাম্র নিমৃত ছাঁচে করা মুদ্রাও পাওয়া যায়। উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল এই ছাঁচে করা মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে। আর এগুলোর প্রকৃষ্ট উদাহরণ আনুমানিক প্রথম এবং তৃতীয় খ্রিস্টাব্দের তৈরি হওয়া কুষাণ রাজাদের সময়ের মুদ্রা।
গান্ধার অঞ্চলের রাজাদের মধ্যে যেহেতু গ্রিক ও ব্যাকট্রিয় ছাপ রয়েছে সেজন্য তাদের সময়ের যে রৌপ্য ও তামার মুদ্রা গুলো পাওয়া যায় তাতেও সেই ছাপ স্পষ্ট। ভারতীয় সংগ্রাহালয়ের কুষাণ বংশের কুজুলা কাদপিসেস থেকে কনিষ্ক প্রায় সমস্ত রাজাদের সময়ের মুদ্রায় কলকাতা সংগ্রহলয়ে রয়েছে।
তারপর মথুরা সৌরাষ্ট্র থেকে পাওয়া শক রাজবংশের বিভিন্ন মুদ্রা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্বাব্দ প্রথম শতক থেকে চতুর্থ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিভিন্ন মুদ্রা রয়েছে। শক রাজবংশের নৃপতি গৌতমীপুত্র নাহাপালার মুদ্রা যেমন এখানে স্থান পেয়েছে তেমনি পরবর্তী সাম্রাজ্যের বিভিন্ন রাজাদেরও রূপো এবং তামার মুদ্রা গুলো রয়েছে।
বাহ এককথায় অসাধারণ তো। প্রায় সব রাজাদের আমলের মুদ্রা কলকাতা জাদুঘরে রয়েছে বিষয়টি আমাকে বেশ অবাক করেছে। এবং মুদ্রার প্রচলন এর ব্যাপারটা যে এতো টা বিস্তৃত আপনার পোস্ট টা না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। আর মুদ্রাগুলোর গঠন এককথায় অসাধারণ। চমৎকার ছিল দাদা আপনার আজকের পোস্ট টা।