কলকাতা পৌরসভায় যাওয়ার পথে আমার ফোনে ধারণকৃত কিছু আলোকচিত্র
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই সুস্থ, স্বাভাবিক আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
Photo by @winkles
Photo by @winkles
বেশ কিছু দিন আগে আমি গিয়েছিলাম কলকাতা পৌরসভার উদ্দেশ্যে। মূলত আমাদের এখানে পৌরসভায় সব কাজ সেরে নেওয়া যায় তবে কলকাতার ইউনিভার্সিটিতে কিছু কাজ আছে যেগুলো কলকাতার পৌরসভায় গিয়ে করতে হয়। আর কলকাতা পৌরসভায় গিয়ে কোনো কাজ কমপ্লিট করা খুব মুশকিল আছে। কারণ সরকারি কাজ মানে সব অফিসাররাও সরকারি লেভেলে চলাচল করে। আর তারপর তো লাইনও পড়ে খুব যার জন্য সকাল সকাল না গেলে কোনোদিক থেকে কিছুই হবে না। আমি তার জন্য আর ঘুম পড়িনি রাতে, একবারে কাজ কমপ্লিট করে সকালে ট্রেন ধরে কলকাতার স্টেশনে চলে গেছিলাম।
Photo by @winkles
ওখানে আবার আমার এক বন্ধুও আসবে তার জন্য গিয়ে সেখানে দাঁড়াতে হলো। দাঁড়াতে হলো তো সে ১ ঘন্টার উপরে , কারণ আমি যখন বাড়ির থেকে ফোন করে বেরোলাম তখন বলে আমিও বেরোচ্ছি। আমার বন্ধুটির বাড়ি হলো বালিগঞ্জ এ। এটা কলকাতার সাউথ এর দিকে অবস্থিত, আর এদিক থেকে আসতে আসতে বেশি একটা সময় লাগে না। এইবার ওর কথা মতো আমি সেই সকালে ট্রেন ধরে চলে গেলাম ঘুম না পড়ে। আমার আবার কাউকে বেশিক্ষন দাঁড়িয়ে রাখতে ভালো লাগে না, যার জন্য এই সমস্যা। আর এখন এই করোনার সময় আরো খুব জটিল সমস্যা সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।
Photo by @winkles
পুলিশ, বিএসএফ সবাই ওখানে হাঁটাহাঁটি করছে আর চেক করছে আর আমারও এদিকে ভয় করছে যে এতক্ষন ধরে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছি কিছু উল্টোপাল্টা না বলে বসে। আমি স্টেশনে পৌঁছিয়ে ফোন করলে বন্ধুটা বলে আমি এখনো ৪ স্টেশন দূরে আছি, তাহলে কেমনটা লাগে সেই সময় শুনে। মানে একপ্রকার জেদ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এদিকে স্টেশনে ওই সকাল থেকেই মানুষজন এর আনাগোনার যেন শেষ নেই ভরি ভরি লোকজন উঠছে আর নামছে। এর একটা কারণ হলো কলকাতার স্টেশনটা মেইন স্টেশন আর এখান থেকেই দূরদূরান্তে সবাই যাওয়া আসা করে। আর মানুষের চলাফেরাও সেইরকম, মুখে কারো কোনো মাস্ক নেই, সবাই যে যার মতো হাঁটাহাঁটি করছে।
Photo by @winkles
যাইহোক এরপর বন্ধুটা সেই আসলো এবং আসতে আসতে ৬টা -পনি ৮ টা বাজিয়ে দিলো। এরপর দুইজন একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে নিয়ে পৌরসভায় চলে গেলাম, সেখানে গিয়ে দেখি অফিস তো খুলিইনি কিন্তু লোকজনের লাইন পড়েছে ৬০ জনের উপরে। আমরা সেই সবার পিছনে দাঁড়ালাম আর সরকারি বাবুরা আসলো ১১ টার দিকে, যেখানে আসার কথা ১০ টায় । তবে ২ ঘন্টা আগে গিয়েও কিছুটা শান্তি, কারণ ১১ টা বাজতে বাজতে পরে লোকজন আরো বেশি চলে এসেছিলো।
Photo by @winkles
এরপর পৌরসভার ভিতরে যার যার সমস্যা সেই সমস্যার সেকশন এ পাঠিয়ে দিলো, কারণ ওখানে প্রতিটা কাজের জন্য আলাদা আলাদা ভাগ রয়েছে। ফলে কাজটা মূলত দ্রুত হয়েছিল প্রায় মোটামুটি ১২ টার মধ্যে কমপ্লিট হয়ে গেছিলো। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা আমাদের পুরানো কলেজের কিছু বন্ধুদের সাথে দেখা করে যাবো বলে কলেজের পথ ধরে হাঁটলাম, কলেজের বন্ধু বলতে তারা এখন কলেজে ইউনিয়ন এর সদস্য পদে রয়ে গেছে।
Photo by @winkles
Photo by @winkles
তাই ফোন করে আসলাম দেখা করার জন্য কিন্তু ওইদিন ছিল কলকাতায় নির্বাচনের ফলাফলের দিন। কলেজের সামনে এসেই দেখি এক বাস পুলিশ এসে দাঁড়িয়ে আছে, আর এমনিতেই কলেজের অপজিটে পুলিশ স্টেশন। প্রায় বহুদিন পরে পুরানো কলেজে সেই বন্ধুদের সাথে দেখা করে মনটাও অনেক ভালো লাগলো। তবে ফলাফলের সময় কিছু ইট পাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছিলো। আর এই ঘটনা পর পর যেন বাড়তেই লাগলো, ফলে আমরা সেখানে আর বেশি দেরি না করে অন্য সাইট দিয়ে বেরিয়ে গাড়ি বুক করে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। তবে পরে শুনেছিলাম বেশ সময় ধরে মারামারি হয়েছিল সেখানে।
All Photos what3words location: https://w3w.co/trouble.shorthand.tumblers
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| ক্যামেরা | রেডমি নোট ৭ |
|---|---|
| ক্যাটাগরি | ফোটোগ্রাফি |
| লোকেশন | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ |
| তারিখ | ২১.১২.২০২১ |
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
দাদা আপনাদের কলকাতা সাথে আমাদের ঢাকার অনেকটাই মিল আছে। যদিও কলকাতা অনেক পুরাতন একটি শহর। তবে এর গঠনগত দিক দিয়ে এবং জনবহুল গত দিক দিয়ে আমার মনে হয় এক। অনেক পুরাতন বিল্ডিং সাথে রাস্তায় অনেক লোক দেখা যায় । তবে আমাদের সবাইকে এখন সতর্ক হতে হবে সবার মুখে মাক্স পড়তে হবে আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি দাদা ।
খুবই সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন অসাধারণ হয়েছে আপনার ফটোগ্রাফি গুলা। কলকাতার পৌরসভা দেখতে অনেক সুন্দর এবং খুবই নিরিবিলি লাগলো আমার কাছে। সব মিলিয়ে আপনার ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর কিছু ছবি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখতে খুবই সুন্দর। প্রতিটা ফটোগ্রাফি দেখতে অসাধারণ লাগছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আসলেই দাদা সরকারি যে কোন অফিসে গেলেই মাথা খারাপ হয়ে যায়। তাদের কথা বার্তাই অন্যরকম। যাই হউক আপনার তোলা ছবি গুলো দারুণ হয়েছে দাদা। একনজরে কলকাতা দেখে নিলুম। ধন্যবাদ দাদা আপনাকে।
দাদা,লাইন টানা ভারী বিরক্তিকর ব্যাপার।তার মাঝে কাজটি যদি একদিনেই মিটে যায় তাহলে শান্তি।সরকারি অফিসাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো আসেন কাজে ।ধন্যবাদ দাদা