শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ৮ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর অষ্টম পর্ব শেয়ার করবো। এরপরে সে নখ দিয়ে চাপ দিতেই ঢাকনাটি খুলে গেল। ভেতরে একটি ছোট্ট কাগজ ভাঁজ করে রাখা। অর্ণব অবাক হয়ে সেই কাগজটি বের করল।তাতে মাত্র একটি লাইন- যদি কখনও সত্যিটা ভুলে যাও, ড. সৌমিত্র বসুর কাছে যেও। নিচে কোনো স্বাক্ষর নেই, কিন্তু লেখার হাতের লেখা তার খুব পরিচিত লাগছিল। মেঘলা? না, সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারল না। পরদিন সকালেই অর্ণব খোঁজ নিয়ে জানতে পারল, ড. সৌমিত্র বসু একজন অবসরপ্রাপ্ত নিউরোলজিস্ট।
এখন শহরের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে খুব সীমিত সংখ্যক রোগী দেখেন। দুপুরের দিকে সে সেখানে পৌঁছাল, পুরোনো দোতলা বাড়ি। বাগানে শুকিয়ে যাওয়া গোলাপ গাছ। দরজায় ঘণ্টা বাজাতেই সাদা চুলের এক বৃদ্ধ দরজা খুললেন। অর্ণব নিজের পরিচয় দিতেই বৃদ্ধের মুখের রঙ বদলে গেল। তিনি অনেকক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইলেন।তারপর ধীরে বললেন- আমি ভেবেছিলাম, তুমি আর কোনোদিন আসবে না। অর্ণব অবাক, আপনি আমাকে চেনেন? বৃদ্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আর বললেন- চিনি, পাঁচ বছর আগে তোমাকে আমিই চিকিৎসা করেছিলাম। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল। কারণ সে এই বিষয়ে কিছুই জানেনা।
ফলে সে বলে উঠলো- কিসের চিকিৎসা?বৃদ্ধ বললো- তোমার স্মৃতির। এরপর বৃদ্ধ তাকে বসতে বললেন। ড্রয়িং রুমের দেয়ালে অসংখ্য সার্টিফিকেট আর পুরোনো ছবির ফ্রেম। কিন্তু একটি ছবিতে অর্ণবের চোখ আটকে গেল। ড. সৌমিত্রের পাশে দাঁড়িয়ে আছে মেঘলা। ছবিটি সম্ভবত কোনো সেমিনারের। অর্ণব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল- আপনি মেঘলাকে চিনতেন? বৃদ্ধ ধীরে মাথা নাড়লেন আর বললেন- ও আমার ছাত্রী ছিল। পরে গবেষণার কাজও করত। অর্ণবের কাছে যেন নতুন এক জগতের দরজা খুলে গেল।মেঘলা কখনও এসব কথা তাকে বলেনি। ড. সৌমিত্র আলমারি থেকে একটি পুরোনো ফাইল বের করলেন। ফাইলের ওপর বড় অক্ষরে লেখা- Patient: Arnav Sen. অর্ণব কাঁপা হাতে ফাইলটি খুলল। প্রথম পাতায় তার ছবি, চিকিৎসার তারিখ।
আর নিচে একটি মন্তব্য- Severe Retrograde Memory Loss after traumatic incident. অর্ণব অবিশ্বাসে তাকিয়ে রইল। আমি স্মৃতি হারিয়েছিলাম? বৃদ্ধ তখন শান্ত গলায় বললেন- প্রায় তিন মাসের স্মৃতি। কিন্তু কেউ তো আমাকে বলেনি! কারণ তুমিই কাউকে বলতে দাওনি।মানে? তুমি নিজেই লিখিত অনুমতি দিয়েছিলে, যেন সেই ঘটনার কথা তোমাকে আর কখনও মনে করিয়ে না দেওয়া হয়। অর্ণবের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। ড. সৌমিত্র ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন- সেদিন গভীর রাতে তোমাকে রেল লাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তোমার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। জ্ঞান ফেরার পর তুমি একটাই কথা বারবার বলছিলে- কী কথা? বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিলেন- আমি কাউকে মারিনি। অর্ণব যেন নিঃশ্বাস নিতেই ভুলে গেল। আমি এই কথা বলেছিলাম? হ্যাঁ, শতবার।তারপর?.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


