ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা সময় ( শেষ পর্ব )
| হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা সময়" গল্পটির শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে অর্থাৎ দোকানের লোকটি যখন বলেছিলো যে, এই ঘড়ি আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে যে স্পর্শ করে, সেইই এই সময়ের চক্রে আটকে যায়। এই বলে নারায়ণকে বলে-তুমিই দ্বিতীয়জন এই নিয়ে। নারায়ণ তাকে জিজ্ঞাসা করলো যে, তাহলে প্রথমজন কে ছিল? দোকানদার কিছুক্ষন কোনো কিছু না বলে চুপচাপ ছিল এবং পরে একটা শ্বাস ছেড়ে বলে-আমি নিজেই। নারায়ণ এই কাহিনী শুনে তো পুরো স্তব্ধ হয়ে যায়। যেন সে একটা স্ট্যাচু মতো হয়ে যায়, কারো কোনো কথা সে আর শুনতে পায় না, এমন একটা অবস্থা। এরপর নারায়ণ ভাবলো যে, তাহলে এই দোকানদার লোকটিই কি সেই বৃদ্ধ, যাকে আমি ভবিষ্যতে দেখেছিলাম!
এখন দোকানদার নারায়ণকে বললো যে, তুমি যদি তোমার সময়ে ফিরতে চাও, তাহলে তোমাকে একটা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। কারণ সময় কাউকে ছেড়ে যায় না, সুতরাং তোমার জায়গা অন্য কাউকে দিতে হবে। তবেই তুমি তোমার সময়ে ফিরতে পারবে। নারায়ণ তো ভয় পেয়ে যায় এবং কি করবে এখন অর্থাৎ কাকে পাবে এই মুহূর্তে, সেই চিন্তায় পড়ে যায়। এরপর নারায়ণ বললো-এর মানে কি! আমি যেতে চাইলে সেখানে আরেকজনকে রাখতে হবে কেন?লোকটি বললো-আসলে যে কেউ তোমার মতো এই সময়ের ভেতরে আটকে থাকবে, যাতে তুমি এই সময়ের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাও। নারায়ণ মৃদু সুরে কাঁদতে লাগলো।
এরপর ঘড়ির কাঁটা আবারো নড়ে উঠলো এবং জানালা দিয়ে তীব্র হাওয়া বইতে শুরু করলো আর ভেতরে ঢুকে পড়লো। এই হাওয়ার সাথে সাথে একটা ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো। আর এটা আর কারো নয়, সেই দোকানদারের বাবার কণ্ঠ। বলতে লাগলো-সময় কখনো থামে না, সে শুধু পরিবর্তিত হয়। নারায়ণ এর সামনে ভেসে উঠলো তার মুখচ্ছবি। যেন ভবিষ্যৎ সে নিজেই, বয়েসে অনেক বড়ো এবং চোখেমুখে ভয়ের ছাপ। নারায়ণ বুঝলো যে, আসলে সময় তারই আরেক সংস্করণকে বন্দি করে রেখেছে। এখন নারায়ণকে নিজেই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে যে, সে ফিরবে না ফিরবে না। নারায়ণ এরপর আরেকবার ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকালো আর অশ্রু ভেজা জল এক ফোটা কাঁচের উপরে এসে পড়লো।
এরপর নারায়ণ সিদ্ধান্ত নিলো যে-সে ফিরবে। এরপর কাঁটায় আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করলো এবং ওই ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে ১২ টা ৬ মিনিটে করে দেয়। অন্ধকারে এই ঘড়ির থেকে টিক টিক আওয়াজ আসতে লাগে আর নারায়ণ যেন একটা গভীর অন্ধকারের মধ্যে হারিয়ে গেলো। এরপর নারায়ণ চোখ মেলে দেখে সে নিজের ঘরে বেডে শুয়ে আছে। ঘড়িও কিন্তু স্বাভাবিক সময়েই চলছে আর বাইরে সকালের আবহাওয়া। তবে তার সেই ঘড়ির নিচে একটা বিষয় খোদাই আকারে লেখা আছে যে-সেন এন্ড সন্স ১৯৬২। নারায়ণ নিজেকে আয়নায় একটু দেখার চেষ্টা করলো এবং দেখলো তার চোখের নিচে একটা কালো দাগ। নারায়ণ তার নিজের সময়ে ফিরে এসেছে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি বললে ঠিক হবে না, কারণ ছাপ একটা থেকেই যায়।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


