ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা সময় ( পর্ব ৪ )
| হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা সময়" গল্পটির চতুর্থ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপর নারায়ণ যখন গঙ্গারাম হসপিটাল এর ক্যালেন্ডারে অনেক পুরোনো সাল দেখলো, তখন সে অবাক হলো এবং একটু ভয়ভীতিও কাজ করছে মনের মধ্যে। এরপর বেশ অনেক্ষন সময় গড়িয়ে রাত নেমে এলো এবং তখনো নারায়ণ হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে। এরপর রাত গড়িয়ে প্রায় ১২ টা বাজে, তখন ঘড়ির কাঁটা যেন হঠাৎ থমকে গেলো আর নারায়ণ জানালার বাইরে তাকাতেই তার সামনে যেন সেই দোকানদারের চেহারা ভেসে উঠলো। আর লোকটা যেন নারায়ণকে বলছে-তুমি সময়ের ভুল পথে অগ্রসর হয়েছো, ঘড়িটা সময়ের চক্রে তোমাকে আটকে ফেলেছে।
নারায়ণ এই কথা শোনার পরে আরো বেশি ভয় পেয়ে যায়, যেন তার হাত-পা কাঁপতে থাকে। সে কাঁদো কাঁদো সুরে বলতে লাগলো যে-আমি ফিরতে চাই এই সময়ের ফাঁদ থেকে। লোকটা তখন তাকে সহজে বিষয়টা বুঝিয়ে বলে দেয় যে, তুমি ফিরতে চাইলে যে কালো ঘড়িটা দেখেছিলে, ওটার কাঁটা আরো ৩ মিনিট এগিয়ে ঘুরিয়ে দেবে। তবেই তুমি আবার বর্তমান সময়ে ফিরতে পারবে। নারায়ন চিন্তা করছে, আমাকে আবারো সেই দোকানে যেতে হবে, কিন্তু তার থেকে আরো বড়ো চিন্তা যে, এই লোকটা তখন তাকে চিনতে পারবে কিনা। কারণ তাকে যদি সেই দোকানে কালো ঘড়িটা ছুঁতে না দেয়!
নারায়ণ রাতের দিকে সেই দোকানে ফিরে এলো এবং তখন দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর দোকানের জানালা খোলা থাকায় নারায়ণ সেখান দিয়ে ভেতরে দেখার চেষ্টা করলো এবং দেখলো সেই লোকটা একা একা ঘড়িগুলোর মাঝে বসে আছে। তবে এই লোকটা আর তখন হসপিটালে যে লোকটাকে দেখেছিলো নারায়ণ, সম্পূর্ণ আলাদা। মানে তখন সেই লোকটাকে বৃদ্ধ অবস্থায় দেখেছিলো আর এখন দোকানে এসে কম বয়েসে দেখতে পাচ্ছে। নারায়ণ এরপর দোকানের দরোজায় কড়া নাড়লো এবং লোকটা দরজা খুললে সে প্রবেশ করলো। এরপর নারায়ণ লোকটাকে পরে বুঝিয়ে বললো যে-আপনি আমাকে চিনবেন না, কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। মানে আমি ভবিষৎ থেকে এসেছি আপনার বর্তমান সময়ে।
দোকানের লোকটা তার কথা শুনে প্রথমে হাসলেন, কারণ সে তাকে চেনে না, কিন্তু তুমি ভবিষ্যতের থেকে আমাকে চিনতে পারলে! নারায়ন বললো-আপনাকে এখন বেশি কিছু বোঝাতে পারবো না, কারণ আমাকে আমার বর্তমান সময়ে ফেরত যেতে হবে। দোকানের লোকটা পরে একটু বিষয়টা সিরিয়াস হয়ে বললো-তুমিই কি সেই, যে কালো ঘড়িটা ছুঁয়েছিলে! নারায়ণ মাথা নাড়লো। লোকটা চুপ করে বসে থাকলেন কিছুক্ষন এবং বলেন-এই ঘড়িটা আমার বাবার তৈরি এবং যখন তার মৃত্যু হয়, তখন থেকেই এই ঘড়ির কাঁটা ১২ টা ৩ মিনিটে আটকে রয়েছে। আসলে বাবা ওই সময়ে মারা গিয়েছিলেন। তাই সেই সময়ের থেকে ওই ঘড়িটা যে স্পর্শ করে, তখন থেকে সে ওই সময়ের মধ্যে আটকে যায়।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


