ঘরের সামনে মায়ের হাতে লাগানো গাছের ফটোগ্রাফি।
আসসালামু-আলাইকুম। আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।
আজ আপনাদের সাথে অন্যরকম ফটোগ্রাফি পোস্ট নিয়ে এসেছি। আজকে বেশ কিছু গাছের ফটোগ্রাফি শেয়ার করবো আর প্রতিটা ফটোগ্রাফি আমাদের গ্ৰামের বাড়ি থেকে তুলা। সবগুলো গাছ আমার মা নিজের হাতে লাগিয়েছেন। কিছুদিন আগে যখন এসেছি তখন একটিও ছিল না। মা ঢাকা যাওয়ার সময় লাগিয়ে রেখে গিয়েছিল আর বাড়ির মেইন গেটের চাবি আমার চাচির কাছে রেখে গিয়েছিল। যাতে করে তারা বিকাল বেলা পানি দিতে পারে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হতো আবার তারাও পানি দিয়ে গাছের যত্ন নিয়েছে। এরফলে প্রতিটা গাছ খুব সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠেছে।
বাড়িতে গাছপালা না থাকলে একদমই ভালো লাগে না। এবার আমরা সবাই একটা গাছ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে পেরেছি। সেটা কিভাবে বলছি শুনেন, আমাদের ডাইনিং রুমের উপরে একটি বড় কাঁঠাল গাছ রয়েছে আর কোনো রুমের উপরে গাছ নেই। সেজন্য রৌদের তাপ ডাইনিং রুমের ছাদে পড়তে পারে না আর সেখানে দিনের বেলা যেমন ঠান্ডা লাগে তেমনি রাতেও। কিন্তু রুমের ভিতরে গরমের জন্য বসে থাকা যায় না। তাই আমরা বেশির ভাগ সময় ডাইনিং রুমে বসে থাকি। বাড়ির করার সময় গাছ কেটে ফেলতে হয়েছিল আর ফল এখন ভোগ করছি। তারজন্য বলে, "গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান"। সেজন্য মা ছোট ছোট গাছ বাড়ির সামনে লাগানো শুরু করেছে। যাই হোক তাহলে চলুন আমার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে নেই।
নয়ন তারা ফুল
প্রথমে আপনাদের দেখাবো নয়ন তারা ফুলের ফটোগ্রাফি। এই ফুল আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। এই ফুলেরও কয়েকটি কালার রয়েছে আর সেই কালার গুলোও আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। এই গাছে যখন একসাথে অনেক গুলো ফুল ফোটে তখন দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
চীনাবাদাম গাছ
এবার দেখাবো চীনাবাদাম গাছের ফটোগ্রাফি। আমাদের এদিকে প্রচুর পরিমাণে চাষ করা হয়। তারপরও সিজন ছাড়া বাজারের কোনো দোকানে বাদাম পাওয়া যায় না। আমার চাচি কোথা থেকে এনে যেন লাগিয়েছে। সেই গাছ এত সুন্দর ভাবে হয়েছে যা দেখতে অনেক ভালো লাগে। এই গাছগুলো লতার মতো বেয়ে যায়। অনেকগুলো গাছ হয়েছে আর দেখতেও খুব সুন্দর লাগে।
সবুজ পেঁয়ারা গাছ
এবার আপনাদের দেখাবো পেঁয়ারা গাছের ফটোগ্রাফি। আমাদের বাড়িতে অনেক পেঁয়ারা গাছ ছিল কিন্তু ঘর করার সময় এগুলোও কাটতে হয়েছিল। মা ছোট একটা চারা কিনে লাগিয়েছিল আর সেই চারা খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন গেলে এই গাছে পেয়ারা ধরবে। আমার মনে হয় আবার যখন আসবো তখনই খেতে পারবো।
লাল পেঁয়ারা গাছ
এবার দেখাবো আরও একটি পেঁয়ারা গাছের ফটোগ্রাফি। এবার হলো লাল পেঁয়ারা গাছের ফটোগ্রাফি। এই পেঁয়ারা গাছ যেমন লাল তেমনি পেঁয়ারাও লাল হয়। এই পেঁয়ারা খেতে খুবই মিষ্টি লাগে। আমাদের উঠানে অনেক বড় একটি গাছ ছিল আর সেই গাছে প্রচুর পেঁয়ারা হতো।
মেহেদি পাতা গাছ
এবার দেখাবো মেহেদি গাছের ফটোগ্রাফি। ছোট একটা গাছ আর সেই গাছে অনেক পাতা ধরেছে। কয়েকদিনের বৃষ্টির ফোঁটা পেয়ে গাছগুলো আরও বেশি সজীব হয়ে ওঠেছে। আমার চাচির অনেক বড় একটি মেহেদি গাছ ছিল আর এলাকার সবাই সেই গাছ থেকে পাতা তুলতো। এখন অবশ্য কেটে ফেলা হয়েছে। তবে সবসময় দেখেছি মা যদি মেহেদি গাছ লাগায় আর সেই গাছ খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে।
আদা গাছ
এবার দেখাবো আদা গাছের ফটোগ্রাফি। অল্প একটু জায়গা থেকে অনেক গুলো গাছ হয়েছে। যখন মাংসের মধ্যে আদা দিতে হবে তখন মা অল্প একটু তুলে এনে দিয়ে দেয়। সেই মাংস খেতে এত সুস্বাদু লাগে বলে বুঝাতে পারবো না। যখন ছোট বেলায় গ্ৰামে ছিলাম তখন মা সবসময় হলুদ,মরিচ থেকে সব মশলা বেটে তরকারি রান্না করতো। সেই সময় যেন খেয়েও মজা পেতাম কিন্তু বর্তমানে গুঁড়া মশলা বের হওয়াতে সেই স্বাদ চলে গিয়েছে।
পুঁইশাক গাছ
সবশেষে দেখাবো পুঁইশাক গাছের ফটোগ্রাফি। পুঁইশাক লতার মতো বেয়ে উপরে উঠে গিয়েছে বলে সম্পূর্ণ ফটোগ্রাফি করা যায়। গাছ ভরা পুঁইশাকে আর আমরা যখন গতকাল এসেছি তখন মা গাছ থেকে ডালসহ তুলে রান্না করেছিল। সেই শাক খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। আমি আগে পুঁইশাক খেতাম না তবে ইদানিং পুঁইশাক খেতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
এই হলো আমার আজকের বাড়ির সামনে মায়ের হাতে লাগানো গাছের ফটোগ্রাফি। আশা করি আমার আজকের ফটোগ্রাফি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে। যদি ভালো লাগে তাহলে সুন্দর মন্তব্য করে জানাবেন। যাই হোক আমার লেখা আজ এখানেই শেষ করছি। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টের মাধ্যমে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন এই দোয়া কামনা করি।
পোস্টের বিবরণ
ডিভাইসের নাম vivo
ফটোগ্রাফার @tanjima
ক্যাটাগরি ফটোগ্রাফি
লোকেশন নরসিংদী
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।



|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP

|| Join Heroism Discord Server for more Details ||
Posted using SteemPro Mobile
| ডিভাইসের নাম | vivo |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @tanjima |
| ক্যাটাগরি | ফটোগ্রাফি |
| লোকেশন | নরসিংদী |
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
ঠিক বলছেন আপু ভিটে বাড়িতে যত বেশি গাছপালা থাকে তত বেশি ঠান্ডা থাকে। দিনের বেলায় যেমন স্বস্তি পাওয়া যায়। রাতেও তেমনি অনেক আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু আপনার আম্মু খুব সুন্দর সুন্দর গাছ লাগালেন অনেক ভালো লেগেছে। তাছাড়া প্রতিটি গাছ অনেক উপকারী। আপনি খুব সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফি নিলেন। আমাদের সাথে শেয়ার করলেন দেখে বেশ ভালো লেগেছে।
বাড়িকে নিরাপদ রাখতে গাছ লাগানো খুবই জরুরি। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আপনি আজ আপনার মায়ের হাতে লাগানো গাছের ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে নয়ন তারা ফুল গাছ, পুঁইশাক, আদা,চিনা বাদাম ও মেহেদি কাজ। আপনার মায়ের লাগানো প্রত্যেকটি গাছই কার্যকরী। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এগুলো শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাইয়া মা খুবই উপকারী গাছ লাগিয়েছেন।যেমন পুঁইশাক আজকেও রান্না করে খেয়েছি আর খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আন্টি তো বাসার সামনে অনেক গাছ লাগিয়েছেন তানজিমা আপু। আর আন্টির হাতের গাছও বেশ ভালো বড়ও হয়েছে তারাতাড়ি। মেহেদী পাতা যদি নিজে মাথায় দেয় নিয়মিত, তাহলে নিজের গাছ থেকে পাতা নিয়ে বেটে দিতে পারবে। সবুজ পেয়ারা, লাল পেয়ারা, পুই শাক, আদা সবকিছুই লাগিয়েছেন দেখছি। এটাই ভালো আপু, বাহিরের মেডিসিন দেয়া খাবারের চেয়ে নিজে ফলানোটা বেশ দরকার। আদার দাম আকাশচুম্বি হলেও আন্টির চিন্তা নাই।
আপু গ্ৰামে থাকলে অনেক উপকার কারণ টাটকা সবকিছু পাওয়া যায়। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মতামতের জন্য।
আপু বাড়ির আঙ্গিনায় এমন গাছ দেখলে খুবই ভালো লাগে। সবজি গাছ,ফল গাছ,ফুল গাছ দেখলে মনটা ভরে যায়। আপনার আম্মু বুদ্ধি করে চাবিটা আপনার চাচির কাছে দিয়ে যাওয়ার কারনে ভালো হয়েছে। আপনার চাচি গাছ গুলোর যত্ন নিয়েছে। ধন্যবাদ আপু।
ভাইয়া গাছে পানি দেওয়ার জন্য সবসময়ই চাবি দিয়ে যায়। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
আপু আপনি আজকে বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন আপনার ফটোগ্রাফি গুলো ভালো ছিল দেখতে। বিশেষ করে নয়নতারা ফটোগ্রাফিটা আমার কাছে ভালো লেগেছে। এছাড়াও মেহেদী গাছটা দেখতে বেশ ভালো লাগছে ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার কাছে নয়নতারা আর মেহেদি গাছের ফটোগ্রাফি ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আপনি আম্মুয়ে তো বেশ চমৎকার কিছু গাছ লাগিয়েছে। গাছের ফটোগ্রাফি দেখে ভালো লাগলো। নয়ন তারা ফুলের সৌন্দর্য বেশ অসাধারণ। লাল পেয়ারা খাওয়ার অনুভূতি সত্যি খুব দুর্দান্ত। এত সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আমার কাছেও নয়ন তারা ফুল অনেক ভালো লাগে। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
বাড়িতে গাছপালা না থাকলে আসলে ভালো লাগেনা।আপনার মা ঢাকা যাওয়ার আগে খুব সুন্দর সুন্দর গাছ লাগিয়েছেন। খুব সুন্দর হয়ে গাছগুলো বেড়ে উঠেছে। আপনার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আমি প্রথম বাদাম আর আদা গাছ দেখতে পেলাম। খুব ভালো হয়েছে আপু।আমার শ্বশুর বাড়িতে আমার আব্বু প্রথম যখন যায় তখন দুটা লাল পেয়ারা গাছ লাগিয়েছিল।পেয়ারা ও হয়েছিল ৩/৪ টা।এখন আর নেই গাছ দুটো।অনেক ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আপু আপনি প্রথমবার বাদাম আর আদা গাছ দেখেছেন জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
আপনার মায়ে হাতের লাগানো বেশ কিছু ফুল ও গাছের ফটোগ্রাফি করেছেন। সত্যি সবাই যদি বাড়িতে এরকম করে ফুল গাছ এবং বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগায় তাহলে পরিবেশ দেখতেও বেশ চমৎকার লাগে। আপনি কিছুদিন আগে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কারণে এত সুন্দর করে এই ফটোগ্রাফি গুলো করতে পেরেছেন। তবে আপনার ফটোগ্রাফি গুলো সত্যি অসাধারণ হয়েছে। সবগুলো ফটোগ্রাফি সুন্দর করে বর্ণনা দিয়ে শেয়ার করেছেন ।তাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আপু কিছুদিন আগে যাইনি বর্তমানে গ্ৰামেই আছি। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
মায়ের হাতে লাগানো বেশ কিছু বিভিন্ন ধরনের গাছের ফটোগ্রাফি করেছেন। গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ভালোই করেছেন। মায়ের হাতে লাগানো বিভিন্ন ধরনের গাছের চমৎকার ফটোগ্রাফি করলেন। তবে বাড়ির মধ্যে এরকম ফুল গাছ এবং বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগালে দেখতে চমৎকার লাগে এবং পরিবেশও খুব ভালো লাগে। তবে পুঁইশাকগুলো খুব তাজা দেখে খেতে মন চাইতেছে।তবে সবগুলো ফটোগ্রাফি অনেক সুন্দর করে আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করেছেন। এবং আমাদের মাঝে সুন্দর করে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাইয়া পুঁইশাক শুধু তাজা নয় খেতেও খুবই সুস্বাদু। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
আপনি আজকে ভিন্নধর্মী কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। নয়নতারা ফুলের ফটোগ্রাফিকে সুন্দর লাগছে। লাল পেয়ারা গাছ কখনো দেখিনি আপনার ফটোগ্রাফি মাধ্যমে দেখার সুযোগ হলো। শুভকামনা রইল আপনার জন্য
ভাইয়া যদি এই পেঁয়ারা গাছ লাগানোর ইচ্ছে থাকে তাহলে কোনো নার্সারিতে গিয়ে বললেই পাবেন। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।