জেনারেল রাইটিং: মাথার উকুন একটি ক্ষতিকর পোকা
হ্যালো বন্ধুরা,আসসালামু-আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমার পরিবারকে নিয়ে সুস্থ আছি। হঠাৎ করে একটি কথা মনে পড়ে গেলো তাই চিন্তা করলাম শেয়ার করে নেই। এতক্ষণে টাইটেল দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি। হ্যাঁ আজ মাথার উকুন কতটা ক্ষতিকর পোকা তা আলোচনা করবো। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
কম বেশি সবার মাথায় উকুন হয় আবার কিছু মানুষ রয়েছে যাদের মাথায় একদমই উকুন থাকে না। তবে এক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে মেয়েদের মাথায় বেশি উকুন থাকে। আমার মাথায় হয়না তা বলবো না। কিন্তু কখন হয় জানেন গ্ৰামে গেলে। ঢাকায় থাকলে মাথায় কোনো উকুন থাকে না। কিন্তু গ্ৰামে গেলেই হয় তার অবশ্য কারণ আছে। মা চাচিরা বলতো রাতে ঘুমালে একটি উকুন নাকি সাতটি মাথায় হাঁটে। আমার মনে হয় তারজন্যই গ্ৰামে গেলে আমার মাথায় উকুন হয়।
গ্ৰামে গিয়ে চাচাতো বোন ও ভাবিদের সাথে থাকা হয় বলে তাদের মাথা থেকে আসে আবার মজার বিষয় কি জানেন ঢাকায় আসার কিছুদিন পর একদমই মাথা ফাঁকা হয়ে যায়। মাথায় উকুন হলে কতটা যন্ত্রনা তা যার হয় সেই বরং বুঝে। আমার এক ছাত্রীর কথা বলছি শুনুন। আমি ছেলে হওয়ার আগে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে জব করতাম। সেখানে ক্লাস এইট পর্যন্ত ছিল। ক্লাস সেভেনের একটি মেয়ে বেশ কিছুদিন স্কুলে আসেনি। এরপর হঠাৎ করে আসলো আর দেখলাম তার মাথায় হিজাব লাগানো। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি এতদিন আসোনি কেন আর তুমি তো হিজাব পড়ো না। হঠাৎ পড়লা কোনো সমস্যা আছে।
মেয়েটি আমার কথার উত্তরে কিছুই বলে না। আমি বললাম হিজাব পড়া তো ভালো তাহলে লজ্জা পাচ্ছো কেন? তারপর পাশের আরেকটি মেয়ে বলে উঠে ম্যাডাম ওর মাথায় সমস্যা হয়েছে তাই হিজাব পড়ে। এরপর মেয়েটি আমায় সব খুলে বলে। ঐ মেয়ের মাথায় অনেক উকুন হয়। কিন্তু তারপরও সে চুলের কোনো যত্ন করে না। এরপর সেই উকুন মাথার মাঝখানে বসে কামড়াতে থাকে। এভাবে কামড় দিতে দিতে মাথার মাঝখান বরাবর ছিদ্র করে ফেলে। এরপর ব্যথা শুরু হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডাক্তার তার মাথার এই অবস্থা দেখে চুল ফেলে দেওয়ার জন্য বলে। যখন মাথার সব চুল ফেলে দেওয়া হয় তখন দেখতে পায় মাথার মাঝখানে ছোট একটা ছিদ্র হয়ে গিয়েছে। এমন কি তার আশেপাশে ছোট ছোট উকুন রয়েছে। এরপর ডাক্তার সেই জায়গা ওয়াশ করিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়। তাছাড়া কিছু ঔষধ দিয়ে দেয়। এরপর আস্তে আস্তে সেই জায়গা শুকাতে থাকে। তারজন্য মূলত হিজাব পড়েছে। ঐ মেয়েটি সবসময়ই অপরিষ্কার থাকতো তারজন্য এমন হয়েছে। একটা প্রবাদ রয়েছে" পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ"। এই কথাটি একদম সত্য আপনি যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন তাহলে দেখবেন রোগবালাই কম হবে।
আমাদের শরীরের প্রতিটা অঙ্গই খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু মাথা তার মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাথা থেকেই সব চিন্তা শক্তি কাজ করে। তাছাড়া মাথায় যেহেতু চুল রয়েছে সেজন্য সপ্তাহে দু'দিন শেম্পু করে তেল দেওয়া উচিত। এতে করে মাথা যেমন ঠান্ডা থাকবে তেমনি উকুন থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। আপনারা আমার পোস্ট পড়ে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন উকুন কতটা ক্ষতিকর পোকা। একবার যার মাথায় হয় সেখান থেকে তাড়ানো খুবই কঠিন। তাই সবসময়ই চুলের যত্ন নিবেন তাহলে সুস্থ থাকতে পারবেন। শরীর সুস্থ থাকলে দেখবেন মন ভালো থাকবে।
সবাইকে আবারও সতর্ক করছি উকুন কিন্তু খুবই ক্ষতিকর পোকা তাই এর হাত থেকে বাঁচতে হলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন। যাই হোক অনেক কথা বলেছি আজ আর নয় আবার দেখা হবে অন্য কোনো পোস্টের মাধ্যমে। আজ এই পর্যন্তই সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
এটা ঠিক যে, ছেলেদের থেকে মেয়েদের মাথায় বেশি উকুন হয়। আগে যখন নানি বাড়িয়ে যেতাম তখন দেখতাম যে নানির পাশে ঘুমালে আম্মুর মাথায় উকুন চলে আসতো। কথা বলেছেন আমাদের শরীরের প্রতিটা অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। ধরেন আমাদের যদি আঙ্গুল একটা না থাকে, আমরা কিন্তু মোবাইল টিপতে পারবো না। ঠিকভাবে আমরা খেতে পারব না, ঠিকভাবে তাই আমাদের প্রতিটা জিনিসের প্রতি যত্নশীল হতে হবে এবং চুলের সেবা যত্ন করতে হবে নাহলে অনেক কিছুই হতে পারে আমাদের জীবনে। এখান থেকে একটা শিক্ষা আছে যে কোন কিছুকে অবহেলা করা যাবে না, সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।
হ্যাঁ ভাইয়া শরীরের প্রতিটা অঙ্গপ্রতঙ্গ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবসময় এগুলোর যত্ন নেওয়া উচিত। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
এটা ঠিকই বলেছেন আপনি উকুন হলে একটি অসহ্যকর যন্ত্রণা যার হয় সে ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না। তবে ছেলেদের তুলনা মেয়েদেরই একটু বেশি হয়ে থাকে। আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে এরকম উকুন হওয়ার কথা নয়। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। তাই আমাদের উচিত প্রতিটি অঙ্গের যত্ন নেওয়া এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকা। শিক্ষনীয় একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনি। পড়ে অনেকেই উপকৃত হবে। সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
হ্যাঁ আপু আমাদের সবার উচিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা তাহলে আমরা বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকবো। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
খুব সুন্দর একটি পোস্ট লিখেছেন আপনি। আসলেই এগুলো আমাদের সকলের জন্য একটি ক্ষতিকর জিনিস৷ আর ছোটবেলায় যখন চুল বড় রাখতাম তখন মাথার মধ্যে উকুন থাকলে অনেক বেশি পরিমাণে খারাপ লাগতো এবং এর ফলে মাথার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো৷ মাথা ময়লা হয়ে যেত৷ তবে এরপর যখন প্রতিনিয়ত মাথা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করলাম তখন থেকে উকুন অনেক কমে গেল৷ আমাদের সকলের উচিত আমাদের সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে খুব সুন্দর ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা৷ কারণ আমরা সকলেই জানি যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঈমানের অঙ্গ৷ অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য৷
ভাইয়া সবসময় চেষ্টা করবেন নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে তাহলে দেখবেন মন ভালো থাকবে। ধন্যবাদ।