একটি নতুন অনুভূতি
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩/২০২২
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। আজকে সাপ্তাহিক ছুটি থাকার কারণে স্কুলে যায়নি। আমি একটা জিনিস খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখেছি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যতটা চিন্তা করি একটু শান্তির সাথে ঘুমাবো কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনা। সাপ্তাহিক ছুটি হবার কারণে আজকে রাতে আমি একটু দেরি করে ঘুমিয়েছিলাম আর চিন্তা করেছিলাম সকালে একটু ভালোভাবে ঘুমাবো। কিন্তু সেটি আর হলো না সকালে ঘুম থেকে আব্বা তুলে বলল আজকে মামাদের বাড়িতে যেতে হবে। মামাদের জমিতে নাকি প্রচুর পরিমাণে মরিচ হয়েছে আর সে মরিচগুলো পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সময়ের অভাব থাকার কারণে আমার মামা সেগুলো তুলতে পারছে না তাই আমাদেরকে সেগুলো তুলে নিয়ে আসতে হবে। বলে রাখি প্রত্যেক বছর মামা নিজেই মরিচ তুলে আমাদের বাড়িতে দিয়ে যায় কিন্তু এই বছর সময়ের স্বল্পতার কারণে মামা সেটা করতে পারেনি, তাই আমাদেরকেই জমি থেকে মরিচ তুলে আনতে হলো।
আমি আর আব্বা যখন মামাদের জমিতে পৌঁছালাম সেখানে যেয়ে দেখলাম প্রচুর পরিমাণে মরিচ হয়েছে আর প্রায় সবগুলোই পেকে গিয়েছে। আমার আব্বা একটা মরিচের গাছ তুলে নিয়ে আসলো আর আমাকে দেখালো যে একটা গাছে কত বেশি পরিমাণে মরিচ ধরেছে আর তার মধ্যে প্রায় সবগুলোই পাকা। গাছটি দেখে আমার খুবই ভালো লাগলো পরে আমি সেই গাছটি থেকে কোন প্রকার মরিচ না তুলে পুরো গাছটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি প্রদর্শনের জন্য।
আপনারা যদি একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে মরিচগুলো কতটা বেশি পরিমাণে পেকে গিয়েছে। মরিচ গুলো দেখতে পেকে টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। এর আগে আমি কোনদিন জমি থেকে মরিচ তুলিনি তাই এটা আমার জন্য একটা নতুন ধরনের অনুভূতি ছিল। আমার কাছে খুবই ভালো লাগছিল মরিচ তুলতে।
গাছে এত বেশি পরিমাণে মরিচ পেকে যাবার কারণ জানতে চাইলে আমার আব্বা আমাকে বলল যে বর্তমানে মরিচের দাম অনেক কম আর মামা অন্যান্য কাজে খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাই মরিচ তোলার সময় হয় না। আমি দেখতে পেলাম অনেক মরিচ গাছের নিচে পড়ে গিয়েছে আর সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপনারা যদি গাছগুলো একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে আপনারাও দেখতে পাবেন যে প্রত্যেকটি গাছে কত বেশি পরিমাণে মরিচ ধরেছে আর সবগুলোই পেকে গিয়েছে।
মরিচ নিয়ে আসার জন্য আমরা একটা বস্তা নিয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের জমিতে পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল যার কারণে সেখানে প্রচুর পরিমাণে রোদ ছিল। ফলে আমাদের মরিচ তুলতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আমরা এক বস্তা মরিচ তুলে এনেছিলাম পরে সেটা বাড়িতে আনার পরে ওজন করে দেখি সেখানে ২৫ কেজি পাকা মরিচ হয়েছে।
মরিচগুলো আমরা বাড়িতে নিয়ে আসার পরে সেগুলোকে ছাদে ভালোভাবে শুকানোর জন্য দিয়ে দিলাম।
আসলে সত্য কথা বলতে কাঁচা মরিচের দাম কম হলেও শুকনো মরিচের কিন্তু অনেক দাম রয়েছে। সম্ভবত আমাদের এলাকাতে শুকনো মরিচ ৪০০ টাকা কেজি বিক্রয় করা হয়। ২৫ কেজি এই পাকা মরিচ শুকানোর পরে আশা করি পাঁচ থেকে ছয় কেজি শুকনা মরিচ পাব আমরা। যা আমাদের পুরো বছরের শুকনা মরিচের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম বলে আমি মনে করি।
যাইহোক কি আর করার ছুটির দিনে একটু আরাম করে ঘুমানো হলো না। কাজের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত করতে হলো সারাটা দিন। তারপরও এই কাজটি আমার কাছে ভালো লেগেছে কেননা এ কাজ এর আগে আমি কোনদিন করেছিলাম না। সব মিলিয়ে ছুটির এই দিনটা অনেক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করলাম।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR
দারুন কিছু ফটোগ্রাফি দেখতে দেখতে এই পোস্টটি পড়লাম। সত্যি খুব ভালো লাগলো। এমন মরিচের বাগান দেখে আমার তো খুব ইচ্ছে হচ্ছিল নিজে গিয়ে মরিচ বাগানটা দেখে আসতে। যখন আপনার আব্বু সম্পূর্ণ পাকা মরিচগুলো ভর্তি গাছটি তুলে নিল তা দেখতে কিন্তু বেশ চমৎকার দেখাচ্ছে। যদিও আমাদের এই দিকে এইরকম মরিচের ফলন কখনো দেখিনি। আজকে আপনার ফটোগ্রাফি গুলোর মাধ্যমে তা দেখতে পেলাম। এই কাঁচা এবং পাকা মরিচের মাধ্যমে আপনাদের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। নিজের ক্ষেতের মরিচ হলে তো আরো বেশি ভালো লাগে।
প্রত্যেকটি গাছ যেন মরিচের কারণে লাল হয়ে গিয়েছিল
কি সুন্দর অনুভূতি,,,,😍
এভাবে যদি আমিও মরিচ তুলতে পারতাম তাহলে কিযে ভালো লাগতো। ভালোই হলো শান্তির ঘুম ঘমোতে পারেননি নতুবা এতো সুন্দর দৃশ্য দেখতেই পেতামনা। আর হ্যাঁ ভাইয়া প্রত্যেকটি গাছেই দেখতে পাচ্ছি অনেকগুলো মরিচ এবং সবগুলো পেঁকে আছে। আমাদের এদিকে শুকনো মরিচের কেজি সাড়ে চারশ টাকা। আমার জন্য পাঠিয়ে দেন ভাইয়া।
এটা ভালো বলেছেন ঘুমাতে পারিনি বলেই আপনাদের মাঝে এটা শেয়ার করতে পেরেছি
ওরে বাবা এত বড় মরিচ বাগান দেখতে তো অসাধারণ লাগছে। বিশেষ করে লাল মরিচ এবং সবুজ মরিচ দুটোই একসাথে মিলে বেশ দারুন দেখাচ্ছে। দেখে আমার নিজেরই এই বাগানে একটু হাঁটতে ইচ্ছে করছিল। বিশেষ করে আপনার বাবা যখন হাতে একেবারে মরিচের গাছসহ নিয়েছিল তখন বেশি সুন্দর লাগছিল দেখতে। আমি এত বড় মরিচ বাগান দেখিনি। আমার সবগুলো মরিচের রোদে শুকাতে দিয়েছে এটাও বেশ ভালো লাগলো।
আসলে আপু গ্রাম অঞ্চলগুলোতে এ ধরনের মরিচের বাগান ভালই দেখতে পাওয়া যায়
ভাইয়া আপনার পোস্টটি খুবই সুন্দর মনমুগ্ধকর আসলে আমরা যারা ঢাকা থেকে তারা এরকম খেত খামারী বা চাষের বিষয়ে জানিনা। আর আপনার মামার ক্ষেতের মহিষ সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অথচ ঢাকা আমরা এরকম মরিচ পাইনা।
আসলে শহরের মানুষেরা এই ধরনের জিনিসগুলো ঠিকভাবে জানেই না
আহা!! এরকম দৃশ্য দেখলেও মনটা ভাল হয়ে যায় ভাইয়া। ছোটবেলায় খালামনিদের বাড়িতে যেতাম শুধু জমি থেকে মরিচ সংগ্রহের জন্য। আপনার মামার জমিতে ভালোই ফলন হয়েছে মরিচের
আমার মামার জমিতে প্রচুর পরিমাণে মরিচ হয়েছে এই বছর