আমার সৌখিন পাখির খামারে নতুন সদস্য যুক্ত হলো
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শুক্রবার , অক্টোবর ২১/২০২২
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। আপনারা সবাই হয়তোবা জানেন আমার একটা বাজরিগার পাখির খামার রয়েছে। খামাটি আমি খুব একটা বেশি দিন আগে শুরু করেনি যার কারণে আমি এখন পর্যন্ত নতুন নতুন পাখি কিনে আমার খামারটা বড় করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই চেষ্টার ফলেই আজকে আমি আমার খামারে আরো তিনটা নতুন বাজরিগার পাখি কিনে এনে সংযুক্ত করলাম।
আমাদের গ্রামে রাজুর নামে একজন ছেলে রয়েছে যে আমার মতই বাজরিগার পাখির খামার করেছে শখের বসে। সে আমার থেকে প্রায় এক বছর আগে খামার তৈরি করেছে যার ফলে তার খামারে এখন প্রচুর পরিমাণে বাজরিগার পাখি রয়েছে। আজকে যখন আমি এই পাখি তিনটা তার খামার থেকে কিনতে গিয়েছিলাম তখন দেখলাম সে বিভিন্ন ধরনের ঘুঘু, ফিনস পাখির, কাকাতুয়া পাখি পালন করতে শুরু করেছে। আবার দেখলাম সে তার খামারে তিনটে খরগোশ এবং দুইটি গিনিপিগও নিয়ে এসেছে।
অন্যদের খামার পরে দর্শন করলে এটা একটা বড় সুবিধা সেখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারা যায়। আমি এই পাখি তিনটে কিনে আনার সময় তার খামার থেকে অনেক কিছুই শিখে আসলাম। কিভাবে কাকাতুয়া পাখি অথবা খরগোশ পালন করতে হয় তা আমি রাজনের কাছ থেকে খুব ভালোভাবে ধারণা নেবার চেষ্টা করলাম। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি আমিও খরগোশ অথবা কাকাতুয়া পাখি পালন শুরু করে দিব।
আপনারা হয়তোবা অনেকেই জানেন আমার বাড়িতে একটা রঙিন মাছের খামার রয়েছে ।আর আমি সেই মাছের খামারের পাশাপাশি এই সৌখিন পাখির খামারটি শুরু করেছি। মহান সৃষ্টিকর্তা যদি সুযোগ দেন তাহলে আমি আমার এই খামারটিকে আরো বড় আকৃতিতে ধারণ করার জন্য চেষ্টা করব। সেই জন্যই মূলত এই তিনটে পাখি রাজনের কাছ থেকে কিনে আনা হয়েছে। আপনারা যারা আমার আগের পোস্ট গুলো পড়েছেন তারা জানেন আমি দশটি পাখি দিয়ে আমার সৌখিন পাখির খামারে যাত্রা শুরু করেছিলাম।
যাত্রা শুরু ঠিক এক মাসের মধ্যে আমার ২ জোড়া পাখিতে সর্বমোট ১১ টি ডিম দিল। সেই ১১ টি ডিম ফুটে সাতটি বাচ্চা বের হয়েছিল। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য আমার সেই সাতটি বাচ্চার মধ্যে একটি বাচ্চা মারা গিয়েছে। আমার খামারে সাতটি বাচ্চা হওয়া দেখে আমি রাজনকে বলেছিলাম আমার জন্য তিনটে বাচ্চা রেখে দিতে যেন আমার খামারে দশটি বাচ্চা হয়। সেই হিসেবে রাজন আমার জন্য তিনটে বাজরিগারের বাচ্চা রেখে দিয়েছিল। কিন্তু আমার কপাল খারাপ ছিল যার কারণে রাজন আমার জন্য তিনটে পাখি রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দেবার পরে আমার একটি পাখির বাচ্চা মারা গেল।
কি আর করা যাবে বলেন কপালে যা থাকবে তা তো অবশ্যই হবে। আজকে এই তিনটে বাজরিগার পাখি বাচ্চা কিনে আনার পরে আমার খামারে সর্বমোট পাখির সংখ্যা হল ১৯ টি। এরমধ্যে চারটে তিন মাস বয়সের পাখি। ছয়টি সাত মাস বয়সের পাখি আর বাকি নয়টি এক মাস বয়সের পাখি। আজকে আমি যে পাখি দিন টা কিনে আনলাম সেগুলোর বয়সও এক মাস। গত কয়েকদিন যাবত আমি আমার সৌখিন পাখির খামারটি বড় করার জন্য বেশ কিছু খাঁচা বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছি। আশা করি খাঁচাগুলো খুব তাড়াতাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হব। খাঁচাগুলো তৈরি করা হয়ে যাবার পরে আমি আমার খামারে নয়টি পাখির বাচ্চা একত্রিত করে দিব। যেন তারা সকলে একসাথে বেড়ে উঠতে পারে।
এই ধরনের সৌখিন পাখি আপনাদের কাছে কেমন লাগে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম। আজকের মত এ পর্যন্তই পরবর্তী সময়ে আপনাদের সাথে দেখা হবে আবারো নতুন কোন একটা পোষ্টের মাধ্যমে।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আপনার এর আগের পোস্ট আমি দেখেছি, সেখানে বলেছিলেন দশটি পাখি নিয়ে আপনি এই খামারটি তৈরি করেছেন।আর এখন আরো তিনটি যোগ করেছেন অনেক ভালো লাগলো। তবে খরগোশের পালনের বিষয়টি আমার অনেক ভালো লেগেছে। কারণ আমি নিজেও খরগোশ অনেক পছন্দ করি এবং বারোটা খরগোশ আমার ছিল। যদিও এখন একটাও নেই, কুকুরে মেরে ফেলেছে। তবে সযত্নে রাখতে পারলে খরগোশ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি ব্যবসার দিক থেকে ও অনেক লাভবান হতে পারবেন।
কুকুরে আপনার সবগুলো জিনিস নষ্ট করে দিয়েছে এটা জেনে খুবই খারাপ লাগলো
বাজরিগার পাখির নাম আমি প্রথম শুনলাম। তবে শুনে ভালো লাগলো যে আপনার একটি পাখির খামার রয়েছে। আর আশেপাশে অন্য কারো পাখির খামার থাকলে সেখান থেকেও খুব সহজে পাখি নিয়ে আসা যায়। আপনার বন্ধুর খামার থেকে আপনি পাখিগুলো এনে ভালোই করেছেন আপনার সদস্য সংখ্যা কিছু বাড়লো। আপনার মাছের খামার সম্পর্কে অনেক পড়েছি কিন্তু পাখির খামার সম্পর্কে আজি প্রথম জানতে পারলাম। খুবই ভালো লাগছে আপনার পাখিগুলো দেখে। একজনের কাছ থেকে আইডিয়া নিয়ে আপনি খরগোশও পালন করার শিখে গিয়েছেন শুনে ভালো লাগলো। ১১ টার ডিম ফুটে সাতটি বাচ্চা হয়েছিল এটি বড় কথা দু একটি তো মারা যাবেই এতে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই আবার হবে। দোয়া করছি আপনার খামারটি যেন আরো অনেক বড় হয়ে ওঠে। আমার কাছে এ ধরনের সৌখিন পাখি খুবই ভালো লাগে।
এটা ঠিক বলেছেন এতগুলো বাচ্চা উঠলে দুই একটা মারা যাবে এটাই স্বাভাবিক
আপনি যে পাখিটিকে বাস গিরি বলছেন আমরা এই পাখিটিকে লাভ বার্ড বলে চিনি।। আমারও একটি পাখি সংগ্রহশালা রয়েছে সেখানে লাভ বার্ড থাই ঘুঘু গিনিপিগ এবং দেশীয় জাতের কয়েক প্রজাতির পাখি এবং কবুতর রয়েছে।। আসলে শখের বসে করতে করতে এখন অনেক বড় করে ফেলেছি পরবর্তীতে আরও বেশি বড় করে বানিজ্যিকভাবে চাষ করার আশা রয়েছে।। তবে বাজগিরি পাখির বাচ্চা গুলো বাঁচানো খুবই ট্রাপ গত কয়েকদিনে আমার খামার থেকে প্রায় ১০-১২ টা বাচ্চা মারা গিয়েছে।। উপজেলা পশু অফিসে গিয়েছিলাম সেখান থেকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে আমাকে দেখি এগুলা কাজে লাগিয়ে কতদূর এগোতে পারি।। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।।
অনেক জায়গাতে এটাকে লাভ বার্ড বললেও সত্যিকারের অর্থে এটা বাজরিগার পাখি।
আপনি তো দেখছি খুবই সৌখিন মানুষ। তাই মনের আনন্দে পাখি পালন করেন। তবে শুনেছি বিভিন্ন ধরনের পাখি আছে যারা কথা বলতে পারে। আপনাদের গ্রামের রাজুর কাছ থেকে আপনি যে পাখিগুলো এনেছেন এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর নিশ্চয়ই তেমন দামী ও। খরগোশ এবং কাকাতুয়া পালন করা আপনি শিখে এসেছেন নিশ্চয়ই আপনিও পালন করতে পারবেন।
এগুলো কেউ যদি ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তাহলে এরাও কথা বলতে পারবে
ভাইয়া আপনার পাখি গুলো দেখে বেশ ভালো লাগলো । পাখি পুষতে আমার কাছেও ভীষণ ভালো লাগে। তবে আপনি বড় আকারের পাখির খামার তৈরি করার চেষ্টা করছেন জেনে বেশ ভালো লাগলো। আসলে আপনি ঠিকই বলেছেন অন্যের খামারে গেলে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারা যায়, যেমন টি আপনি শিখেছেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
খাবারটা বড় করতে পারলে আপনার বাড়িতে একজোড়া পাখি পাঠিয়ে দেবো আপু
সৌখিন পাখি আমার খুবই পছন্দের। সৌখিন পাখি দেখতে যেমন সুন্দর লালন পালন করতেও তেমন ভালো লাগে। আপনার এই খামারটি যেন আরো বড় হয় আমি সেই কামনা করি। যদি আপনি আপনার খামারে নতুন করে খরগোশ এবং কাকাতুয়া পাখি পালন করতে শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আমাদের সাথে শেয়ার করবেন। আমার কাছে এরকম পোস্ট বেশি ভালো লাগে।
আসলে ভাইয়া আমি এখন পর্যন্ত খরগোশ ও কাকাতুয়া পালন করি না পালন করার চেষ্টা করছি
খুবই ভালো লাগলো আপনি পাখি পালন করেন৷ আপনার খামারে এখন ১৯ টি পাখি আছে শুনে ভালো লাগলো ৷
তবে ভাই আমার কিছু কথা আপনি মনে করেন না৷ আসলে স্বাধীনতা একটা সবচেয়ে বড় জিনিস৷ আপনি বা আমি পাখি লালন পালন কিংবা পুষতে ভালোবাসি ঠিক আছে৷ এটি একবার পাখিগুলোর কথা চিন্তা করুন তাদের তো ডানা মেলে আকাশে উড়তে ইচ্ছে করে৷
আমার কাছে বিষয়টি একটু খারাপ লাগছে৷
যাহোক তবুও সর্বোপরি আপনার জন্য শুভকামনা আপনি আপনার খামারটা আরও বড় করুন এমনটাই প্রত্যাশা৷
সেটা ঠিক আছে কিন্তু এই পাখিগুলোর জন্ম খাঁচার মধ্যে আর মৃত্যু খাঁচার মধ্যে ।আমাদের দেশে এই পাখিগুলো বাইরে চলাচল করলে মারা যায়।
আপনার আগের পোস্ট টায় বলেছিলাম এই পাখিগুলো ভীষণ সেনসেটিভ হয়, একটু উনিশ বিশ হলেই মারা যায়। তবে কোন ব্যাপার না। আপনি মনে সাহস নিয়ে ধীরে ধীরে শুরু করুন।আর যারা এক্সপার্ট তাদের থেকে এই পাখি গুলোর হ্যাবিট এবং হ্যাবিটেট দুটো বিষয়েই জানুন। আশা করি আপনার সফলতা আসবেই।
এই কথাটা আপনি একদম ঠিক বলেছেন আপু এই পাখিগুলো খুবই সেনসেটিভ একটুও যত্নের কমতি হলেই মারা যায়।
ছোটবেলা থেকেই পশুপাখির প্রতি আমি একটু অন্য রকম পাগল। আমিও বিভিন্ন ধরনের পাখ, খরগোশ, ঘুঘু ও কবুতর পালন করেছি।এদের সঙ্গে মিশলে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় ভালবাসার মা বলা যায়। বাজরিকা পাখি থেকে একটু সাবধানে থাকবেন এরা কামড় দিলে অনেক যন্ত্রণা হয় এরা সহজে ছেড়ে দেয় না। নারী পাখিটির রাগ হলে এরা কাউকে ছেড়ে দেয় না পুরুষ পাখিটিকেও না প্রয়োজন হলে মেরে ফেলে তাই একটু সাবধানে থাইকেন ও যত্ন নিয়েন পাখির।
আমি যেদিন প্রথম এই পাখি কিনে এনেছিলাম সেদিনই পাখির কামড় খেয়েছি।
ভাইয়া আমার কাছেও পাখির খামার দিতে অনেক ভালো লাগে। আপনার পাখি গুলো দেখতে অনেক কিউট দেখাচ্ছে। আমাদের বাসায় বাজিগর পাখি ছিল কিন্তু মারা গিয়েছে। আপনার পাখি পালার ইচ্ছা আছে জেনে খুব ভালো লাগলো। এ কথাটা ঠিক বলেছেন মানুষের খামার পরিদর্শন করলে অনেক কিছু জানা যায়। ইনশাআল্লাহ আপনার পাখির খামারও একদিন অনেক বড় হয়ে যাবে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
এজন্যই তো আমি সব সময় চেষ্টা করি বিভিন্ন খামার পরিদর্শন করার জন্য।