পায়ে পায়ে কলকাতা: পর্ব ১৩
নমস্কার বন্ধুরা,
সারনাথের স্থাপত্য শিল্পের কিছু নিদর্শন দেখার পরে চলে গেলাম মথুরা শিল্প শৈলীর কিছু ভাস্কর্য দেখতে। আনুমানিক প্রথম খ্রিস্টাব্দ থেকে তৃতীয় খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক মথুরাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় শিল্পকলার বিকাশ হয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় চতুর্থ অব্দে যক্ষ ও যক্ষীর মাধ্যমে শিল্পকলার সূচনা হলেও কুষাণ যুগে গঙ্গা যমুনা উপত্যকায় কনিষ্ক, হুবিষ্ক এবং বাসুদেবের পৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিভিন্ন মূর্তিগুলোর মাধ্যমে মথুরা শৈলী তার চরম উৎকর্ষতা লাভ করে। বৌদ্ধ স্থাপত্যকলার দুটি দিক এখানে মূলত প্রদর্শিত হয়েছে যার মধ্যে বুদ্ধের মূর্তি গুলি অন্যান্য মথুরা ভাস্কর্য শিল্পের থেকে ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র।
মূলত একদিকে যক্ষী, অন্যদিকে জাতকের কাহিনী সুন্দরভাবে প্রদর্শিত করা হয়েছে এই ভাস্কর্য গুলোর মাধ্যমে। তার পাশাপাশি কুষাণ যুগের মথুর ভাস্কর্যের শৈলীর মাধ্যমে সেই সময়ের বিশেষ কিছু দৃশ্য প্রদর্শিত এই অংশটায়। প্রথমে যে মূর্তিটি দেখলাম মথুরা শিল্প শৈলীর সেটি হলো শম্বার। আনুমানিক দ্বিতীয় শতাব্দীতে তৈরি এই মূর্তির বিশেষত্ব হলো লাল বেলে পাথর দিয়ে তৈরি হওয়া। তার ঠিক পাশেই রয়েছে যক্ষিণীর মূর্তি।
তারপরে একটি বৃহৎ আকারের গৌতম বুদ্ধের মূর্তি দেখতে পেলাম যেটা এক ভিন্ন গৌতম বুদ্ধের রূপকে তুলে ধরেছে। বলা চলে মথুরা শিল্পকলার এটা মূল স্বতন্ত্রতা। যেখানে গৌতম বুদ্ধের নিগ্ধ স্বরূপের সাথে অনেকটাই অমিল ছিল। লাল বেলেপাথরের তৈরী এই মূর্তিটিও আনুমানিক ৩৮৫ খ্রিস্টাব্দে তৈরী। বর্তমান বিহারের বুদ্ধ গয়াতে পাওয়া এই মূর্তি লাল বেলে পাথরের তৈরি।
শেষে পেলাম বোধিসত্বের একটি মস্তকের মূর্তি। যা আনুমানিক খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে তৈরি। আর তার পাশে ছিল প্রথম বা দ্বিতীয় শতাব্দীতে তৈরি এক শঙ্খ বাদকের মূর্তি। যেটা সেই সময়ের সমাজের কিছুটা রূপ আমাদের দেখতে সাহায্য করে।
মথুরা শিল্প শৈলির ভাস্কর্য গুলো দেখতে চমৎকার লাগছে ভাইয়া।প্রাচীন নিদর্শন সম্পর্কে অনেক বিষয় জানতে পারলাম আপনার পোস্টটির মাধ্যমে।লাল বেলে পাথর দিয়ে তৈরি শম্বার মূর্তি দেখতে চমৎকার লাগছে ভাইয়া।বুদ্ধ মূর্তিটি মাথুরা শিল্পকলার মূল স্বতন্ত্রতা।ধন্যবাদ ভাইয়া পায়ে পায়ে কলকাতা গল্পের ১৩ তম পর্বের পোস্টটি পড়ে ভালো লেগেছে অনেক।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।