বরাহ নগরের কুঠিঘাটে
নমস্কার বন্ধুরা,
নতুন কলকাতা শহরের মাঝে লুকিয়ে আছে বহু পুরাতন কলকাতা। কাজের চক্করে গিয়ে সেরমই এক খন্ড পুরনো কলকাতা খুঁজে পেলাম। আদপে কাজের সূত্রে আমি গিয়েছিলাম বরাহ নগরের কুটিঘাটে। তবে শুধু যে কাজ নিয়ে গেছি তা ঠিক নয় কাজের ফাঁকে নতুন জায়গা দেখতে পাবো সেটাও ছিলো আশা। হাতে যেহেতু বেশ কিছুটা সময় নিয়েই গেছিলাম তাই কুটিঘাটের আশপাশটাও একটু ঘুরে নিলাম। পাশেই গঙ্গা তাই আমাকে দ্বিতীয়বার কুঠিঘাট ঘুরে দেখার জন্য চিন্তা করতে হয়নি।
কলকাতা শহরের উত্তরের একদম শেষ প্রান্তে বলা চলে বরাহ নগরকে। বিশেষ চেনা ছিলোনা তাই আগে থেকে গুগল ম্যাপে দেখে রেখেছিলাম আমার গন্তব্যের খুঁটি নাটি। সকালবেলা বাস ধরে সিঁথির মোড়। সেখানে থেকে অটো করে সোজা কুঠি ঘাট। কাজ সারতে বেশিক্ষণ সময় লাগলো না কারণ আগে থেকেই কাজের কথা ফোনে বলে রেখেছিলাম।
যেহেতু আগে থেকে ভেবে রেখেছিলাম কাজ শেষ হলেই ঘাটের দিকটা ঘুরে আসলে তাই কাজ শেষ হওয়া মাত্র সোজা দৌড়ালাম কুটি ঘাটের দিকটায়। অলি গলি দিয়ে এগোতে এগোতে পুরনো বাড়ির ফাঁক ফোঁকরের মধ্যে থেকেই গঙ্গা দর্শন পেয়ে গেলাম। গঙ্গা জির দেখা মিলতেই ঘাট থেকে গঙ্গা আরো পরিষ্কারভাবে দেখতে পাওয়ার আশায় আরো জোরে জোরে হাঁটতে থাকলাম।
নানান গলি পেরিয়ে অবশেষে পৌঁছালাম কুঠি ঘাটে। সেখানে পৌঁছে আমি যদিও একটু অবাকই হলাম। বার কয়েক বেলুড় মঠে গেলেও আমি কখনো ভাবিনি যে বেলুড় মঠের ঠিক উল্টো পাশটাকেই কুঠি ঘাট বলে। কুঠি ঘাটের পাড় থেকে দাঁড়িয়ে বেলুড় মঠটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিলো। আমি যখন ঘাটে পৌঁছেছিলাম তখন দুপুরবেলা হওয়ায় ঘাটে বিশেষ মানুষ জন ছিলো না। সেই সুযোগে টিকিট না কেটেই জেটির বেশ কিছুটা দূর পর্যন্ত চলে গেলাম। হয়তো জেটির শেষ প্রান্তে যেতে পারিনি কিন্তু যেটুকু গিয়েছি তাতেই বা কম কিসের।
কুঠি ঘাটের সাথে পরাধীন ভারতের বেশ কিছু ইতিহাস লুকিয়ে আছে। কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঘাঁটি গাড়ার আগে আগে এই কুঠি ঘাটেই বসেছিলো ডাচ কলোনি। আর সেজন্যই হয়তো কুঠি ঘাটের চারপাশের বাড়িঘর গুলো বেশ পুরোনো।
ঘাটের ঠিক পাশেই বরাহ নগর ভিক্টোরিয়া স্কুলই ছিলো কুঠি ঘাটের লুকিয়ে থাকা ইতিহাসের জলজ্যান্ত প্রমাণ। স্কুলটি যে অত্যন্ত পুরনো তা বাইরে থেকে স্কুলের ক্লাস রুমের উচ্চতা দেখেই স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম। হাতে বেশি সময় ছিলো না বলে আশপাশটা ভালোভাবে না ঘুরেই বেরিয়ে পড়তে হলো। তবে মনে ইচ্ছেটা জিইয়ে রাখলাম। কোনোদিন সময় হলে অবশ্যই ফিরে আসবো, কুঠিঘাটের চাপা পড়ে যাওয়া ইতিহাস জানতে।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
দুপুরবেলা যাওয়ার কারণে ভালো হয়েছে দাদা একদম ফাঁকা পেয়েছেন। তা না হলে তো সেদিনকার মত লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো। আবার ফাঁকা পেয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নিলেন। টিকিট ছাড়াই জেটির অর্ধেক পর্যন্ত খেতে পেরেছেন। আর আগেকার দিনের বিল্ডিং গুলো এরকম উঁচু উঁচুই হতো। জায়গাটা বেশ সুন্দর দেখেই বোঝা যাচ্ছে। একদিন সময় করে এসে ঘুরে যেয়েন দাদা। ভালো লাগবে মনে হচ্ছে।
কাজের ফাঁকে বেশ ঘোরাঘুরি করেছেন দেখে ভালো লাগলো। আসলে নতুন কোন জায়গায় গেলে গুগল ম্যাপ বেশ সাহায্য করে আজকাল। গুগল ম্যাপ সবারই অনেক উপকারে আসছে। পুরনো দিনের ঐতিহ্য ঘেরা এই জায়গাটি দেখতে ভালই লাগছে। হয়তো পুরনো অনেক কিছুই এখনো সেখানে রয়ে গেছে। আর নতুন কোন জায়গায় গেলে সেই জায়গাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং দেখার ইচ্ছে বেড়ে যায়। ভালো লাগলো দাদা আপনার ফটোগ্রাফি গুলো। কুঠিঘাটে দারুন সময় কাটিয়েছেন বুঝতে পারছি।
আহা দাদা আমিও তো গিয়েছিলাম গো এই কুঠি ঘাটে। কত সব নাটকের সাক্ষী হয়েছি এই জায়গা গুলোতে। একদম ফ্ল্যাশ ব্যাকে নিয়ে গেল লেখা গুলো পড়তেই। তবে গঙ্গাটা বেশ লাগে দেখতে এখান থেকে। আর বেলুড় মঠের তো পাশেই একদম। আরো একদিন যাবেন তাহলে এখানে কেমন, তাহলে পুরোনো ইতিহাস গুলো আমাদেরও একটু জানা হয়ে যাবে।
এমন ইতিহাস লুকানো জায়গায় ঘুরতে বেশ ভালো লাগে। দুপুর বেলায় লোকজন না থাকার কারণে টিকিট না কেটেই জেটির অর্ধেক পর্যন্ত যেয়ে দেখতে পেরেছেন। এত সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখতেও বেশ ভালো লাগছে। আপনার মাধ্যমে আমরাও দেখতে পেলাম।
বাহ্ দাদা দুপুরে গেলে তো ভালই হয়। ফ্রিতে কুঠিঘাটটা ঘুরে দেখা যায়। আর আপনার এত কাছের একটা এলাকা। তা নাকি আপনি আবার জেটিতে যেয়ে বুঝতে পারলেন। আসলে কলিকাতা কখনো যাওয়া হয়নি তো। তাই ভালই লাগলো আপনার মাধ্যমিক কুঠি ঘাট্দ দেখতে পেয়ে।
কুঠি ঘাটের ইতিহাস টা ভালোই জানালেন। আসলে একটা সময় সারা পশ্চিম বঙ্গেই গঙ্গাকে কেন্দ্র করে জায়গায় জায়গায় এমন অনেক কলোনি গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু টিকে থাকতে পেড়েছে ইংরেজরাই। ভালো লাগলো সব মিলিয়ে পোস্টটা।