আমার স্টিমিট জার্নির সুখ দুঃখের গল্প পর্ব 1
আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
শিশুসুলভ পোষ্ট ও কমিউনিটির সৃজনশীলতা রক্ষার্থে আমি চেষ্টা করব একেক দিন একেক বিষয় নিয়ে হাজির হতে।
| আমার স্টিমিট জার্নির সুখ দুঃখের গল্প পর্ব-1 |
|---|
২০১৬ সাল থেকে আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে চিনি। তখন আমি দেশেই ছিলাম খুঁটিনাটি সেন্টারে সময় দিতাম। তখন মাএ আমার বিদেশ যাওয়ার কথা চলছিল। তখন আব্বুকে হেল্প করার জন্য ওমান যেতে হবে এরকম একটি কথা চলছিল অনেকদিন। তখন অনেক বড় ফেসবুক প্রেমি ছিলাম।
আর ফেসবুক চালাতে গিয়ে একদিক দেখি আমাদের সংগঠনের এক বড় ভাই পোস্ট করেছেন স্টিমিট নিয়ে। ভাইয়ের পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যারা যারা স্টিমিট এ কাজ করবেন সবাই এখানে কমেন্ট করেন। আর আমি বিস্তারিত আপনাদেরকে টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে আপডেট জানাব।
তখন সেই পোস্টটি দেখার পরপরই আমি চেষ্টা করলাম স্টিমিটে একটি একাউন্ট খোলার,অথচ আমি ব্যর্থ হলাম বাংলাদেশ থেকে খুলতে। তারপর চিন্তা করলাম এই প্লাটফর্ম কেমন না কেমন, কি বা হবে এই প্লাটফর্ম দিয়ে। তখন আর এ বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমি যথারীতি আমার মত করে চলছিলাম।
হঠাৎ করেই আমাকে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিল ২০১৬ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে।আমি ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা হই, তারপর সেখানে গিয়ে আমি দীর্ঘ দুই বছর সেখানে কর্মরত ছিলাম,আমার বাবার আন্ডারে ম্যানেজার হিসেবে।আমার বাবা ওমানে কন্ট্রাক্টরি করতেন সেখানে আমি বাবার একটা সাইডের সম্পূর্ণ দেখাশোনা করতাম।যাই হোক সেদিকে যাচ্ছি না।
তখন সেখানে কাজ করতে করতে চিন্তা করলাম প্রতিনিয়ত একই কাজ আর একই রুটিনে প্রতিনিয়ত কাজ চলছে। তার বাইরে কোন কিছু করা যায় কিনা সেটা চেষ্টা করতেছিলাম। এদিক থেকে কথায় আছো না চোখের আড়াল হলে মনেরও আড়াল।অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব ছিল দেশে থাকাকালীন। একটা দোকানে আমি বসলে পুরো এরিয়া জুড়ে বন্ধু বান্ধব বসে যেত আমার আশেপাশে।
তাহলে বুঝতেই পারতেছেন একগুচ্ছ বন্ধু বান্ধবের সমাহার ছিল দেশে থাকাকালীন।প্রবাসে যখন চলে এসেছি তখন তাদের সামনে তো আর নেই, যার কারণে তারা ভুলে গেছে। তারা ঠিকই ফেসবুকে পোস্ট করে, ফটো আপলোড দেয়, স্ট্যাটাস দেয়। কিন্তু একটা হাই হ্যালো কেউ আমাকে দিলো না,নিয়ারেস্ট গুটি দু-একজন ছাড়া।
আবার অন্যদিকে দেখতে পাই কিছু বন্ধুবান্ধব আছে তাদের প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু লিংক পাঠাতো। আবার আবদার থেকে কিছু বন্ধুবান্ধবকে বলতাম যে তুই ভুলে গেছিস, কোন এসএমএস দিস না, যোগাযোগ নেই কেনো।তখন সে বলতো আমি ফেসবুকে একটিভ থাকি না, আবার একেক জন একেক রকম অজুহাত দেখাতো।
তখন থেকে চিন্তা করলাম ফেসবুকই আর চালাবোই না। তাই চিন্তা করলাম সপ্তাহ জুড়ে একদিন মাত্র ফেসবুক ওপেন করব। সেজন্যই চিন্তা করলাম অন্য কি করা যায় যেটা দিয়ে নিজের সময় অতিবাহিত করা যায় এবং মজা করা যায় ফেসবুক এর অবর্তমানে।
তখন প্রথমত আমি ইউটিউবে খুঁজতে শুরু করলাম।অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করলাম কোন অনলাইনে ইনকাম করা যায় কিনা এবং অবসর সময়ের জন্য অনলাইন ইনকামের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করার কোন কিছু আছে কিনা। সেটা খুঁজার জন্য ইউটিউবে অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম।তখন দেখতে পাই স্টিমিটের একটি টিউটোরিয়াল আসলো যেখানে লেখা রয়েছে স্টিমিটের এ টু জেড সবকিছু দেখতে পাব একই টিউটোরিয়াল এর মধ্যে।
২৯ মিনিটের ছিলো ভিডিওটি, তখন আমি সেই ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখার পরে একের পর এক অনেকগুলো টিউটোরিয়াল দেখলাম। সেগুলোতে দেখতে পাচ্ছি কিভাবে একাউন্ট খুলব কিভাবে পিক আপলোড দিব,কিভাবে টাইটেল দিবো বেসিক যে বিষয়গুলো সেগুলো সেখানে রয়েছে।তখন আমি এই টিউটোরিয়াল গুলো দেখে সফলভাবে একটি একাউন্ট খুলি @nevlu123 নামে।আর সেটা ছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে।
তারপর টিউটোরিয়াল দেখে দেখে আমি পোস্ট করা শিখি। তখনও কিন্তু জানতাম না ট্যাগ কি জন্য দিত, এটাও জানতাম না কতগুলো ফটো দিয়ে ফটো পোস্ট করা যাবে কিরকম পোস্ট করা যাবে। টোটালি কিছুই জানতাম না তখনও।শুধু পোস্ট করার নিয়ম টা জানতে পারলাম এ টু জেড টিউটোরিয়াল এর মধ্যে।আবার ইউটিউবে সার্চ দিয়ে ভিডিও গুলো খুজে খুজে দেখতে লাগলাম এবং সেখানে অনেক ধরনের টিপস পেলাম।
সেটা হলো কিভাবে কিছু ট্যাগের মাধ্যমে ভোট আসতো যেমন :-
(busy
esteem
neoxin
planet
wafrica
artzone
steemdunk)
এই রকম অসংখ্য ট্যাগ ছিল যেগুলা দিয়ে অল্প অল্প পরিমাণ ভোট পেতাম।আবার একটা ভিডিওতে দেখতে পাই কারো কাছ থেকে হেল্প নেওয়ার জন্য, স্টিমিট চ্যাট অপশন গিয়ে চ্যাট করা যায়। তখন আমি চ্যাট অপশনে গিয়ে সেখানে একটা অ্যাকাউন্ট খুলে নিলাম, চ্যাট করার জন্য। তখন সেখানে অনেকের কাছে হেল্প চেয়েছি কিন্তু কেউ হেল্প করেনি।
বন্ধুরা স্টিমিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেছি পাঁচ বছর শেষ পর্যায়ে। কিছুদিন পর জানুয়ারিতে পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। তাহলে বুঝতেই পারতেছেন কত কথা লুকিয়ে আছে। তাই সব কথা একসাথ তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই বাকিগুলো আগামী পর্বে দেখতে পাবেন।
তো বন্ধুরা আজকে এতটুকু ,আর আমার পোস্ট এ যদি কোন ভুল ত্রুটি থাকে সেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।এই বলে আজকের মত এখানেই বিদায় নিলাম।
♥️আল্লাহ হাফেজ♥️ |
|---|
আজ আর নয়, আপনার নিকটতম এবং প্রিয়জনদের সাথে সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন, নিজের যত্ন নিন। আপনার দিনটি শুভ হোক
ফোনের বিশদ বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| পোষ্ট | কম্পিউটার সার্ভিসিং |
| মডেল | M32 |
| ফটোগ্রাফার | @nevlu123 |
| সম্পাদনা | শুধু সেচুরেশন |
| অবস্থান | বাংলাদেশ। |
আমি বাংলাদেশ থেকে এমদাদ হোসেন নিভলু। আমার স্টিমিট আইডি হল @ nevlu123। আমি ফেনী জেলায় থাকি। আমার কাজ কম্পিউটার শেখানো, আমার একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। যেখানে আমি স্টিমিট কাজের পাশাপাশি আমার সময় কাটাই। @nevlu123 নামে আমার একটি ডিসকর্ড অ্যাকাউন্ট আছে। আমার বয়স এখন 30 বছর। আমি জাতিগতভাবে মুসলিম বা আমি মুসলিম কিন্তু ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি। কারণ আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি, তাই ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি।


https://twitter.com/Nevlu123/status/1602162564833873921?s=20&t=k8uegkEOB4tIAJjXiihM1Q
আপনার পোস্ট পড়ে আমার সেই আগের কথা মনে পরে গেলো। আমি স্টিমিট এ আছি সেই ২০১৭ এর অক্টোবর মাস থেকে। তখন আসলে আমাদের শেখানের মতন কেউ ছিলোনা। না জানতাম মার্কডাউন এর ব্যাপারে না জানতাম কিভাবে কি করতে হয়। সব কিছু নিজে নিজেই শিখতে হয়েছিলো সে সময়।
একদম ঠিক বলেছেন অনেক কষ্টে নিজে নিজে রিচার্জ করে শিখতে হতো ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
তাহলে তো দেখা যাচ্ছে যে আপনি একপ্রকার আপনার বন্ধুদের উপর রাগ করেই স্টিমিট এ ঢুকেছেন। ফেসবুকে ওরা আপনার সাথে যোগাযোগ করে না বা হাই-হ্যালো দেয় না সেই দুঃখে আপনি অন্য কোন প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলেন হাই হ্যালো দেওয়ার জন্য। ভালোই করেছেন ফেসবুকে সময় দিয়ে কি লাভ এখানতো ফেসবুক থেকে ভালো বন্ধু-বান্ধব পাওয়া গিয়েছে এবং নিজের একটা আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। আর কাজের প্রয়োজনে কাউকে পাশে পাওয়া যায় না তখন নিজেরটা নিজেরই কষ্ট করে করে নিতে হয় । ভালো লাগলো আপনার স্টিমিট এর জার্নিটা পড়ে।
একদম ঠিক বলেছেন এখন অনেক ভালো বন্ধু-বান্ধব পেয়েছি। বিশেষ করে আমার বাংলা ব্লগ একটা পরিবার পেয়েছি।
আজকে আপনি আপানার স্টিমিট প্লাটফর্মে আসার গল্প খুব দক্ষতার সহিত তুলে ধরেছেন। আপনার আজকের গল্পটি আমাকে আমার স্টিমিট প্লাটেফর্মে আসার গল্পটি মনে করিয়ে দিলো। তবে আমি কিন্তু আপনার মত এতকিছু করে আসতে পারিনি। যাক আমার গল্পটি আমি আর একদিন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আসলে বাস্তবতা আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম। আশা করছি বাকি পর্ব খুব শীঘ্রই আপলোড করব।
আপনি তো দেখি অনেক আগ থেকেই স্টিমে কাজ করেছেন।অনেকেরই মুখে শুনেছি স্টিমের প্রথম দিকে কেউ কাউকে সাহায্য করেনি।আপনি ইউটিউব ইউটিউব দেখে দেখে সব কিছু শিখেছেন।আর আমরা তো আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে সব কিছু ঠিকঠাক জানতে পেরেছি,কিভাবে কেমনে কি করতে হয়।যাই হোক ভালো লাগলো আপনার স্টিমে প্রবেশের কাহিনি পড়ে।ধন্যবাদ
জি আপু অনেক সাধনা করে এ পর্যন্ত এসেছি ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
আসলে কিছু কিছু বন্ধু আছে যারা মাত্র সুখের সময় পাশে থাকে কিন্তু দুঃখের সময় হারিয়ে যায়। তাদের সুখের সময় তারা পাশে রাখেনা কিন্তু দুঃখের সময় ঠিকই পাশে ডাকে যেমনটা আপনার ক্ষেত্রে হয়তো ঘটেছিল। আপনার গল্পটা পড়ে খুবই ভালো লাগলো আসলে আমি মনে করি অন্যের ওপর রাগ করে ভাত মাটিতে ফেলে না খাওয়াই উচিত। যদিও প্রথম অবস্থায় আপনার ব্যাপারটা মোটেও সহজ ছিল না অনেক সংগ্রাম করে আপনি এখানে টিকে আছেন এখন পর্যন্ত। যাইহোক শুভকামনা রইল আপনার জন্য পরবর্তী দিনগুলো শুভ হোক।
একদম ঠিক বলেছেন প্রথম অবস্থায় অনেক কঠিন দিন গিয়েছে। এখন তো সবাই রেডিমেট পেয়ে গেছে।
আপনার পোস্ট পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছিল। নিজের প্রচেষ্টা থাকলে যা হয়। আপনার বন্ধু-বান্ধবের উপর একটু রাগ করে আসলে ইউটিউবে কাজটি বের করেছেন, জেনে ভালো লাগলো। আপনার স্টিমিট প্লাটেফর্মে আসার গল্পটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে দূরে গেলে বুঝা যায় কে কতটুকু আপন ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।